আওয়ামীপন্থি শিক্ষককে দৌড়ে ধরা নিয়ে যা জানা যাচ্ছে
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম
হাসান মুহাম্মদ রোমান।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) এক শিক্ষককে দৌড়ে ধরে নিয়ে যাওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, চবির আইন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও সাবেক সহকারী প্রক্টর হাসান মুহাম্মদ রোমানকে কয়েকজন ছাত্র দৌড়ে ধরে নিয়ে যাচ্ছে। সেখানে চাকসুর দপ্তর সম্পাদক আবদুল্লাহ আল নোমান, পাঠাগার ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক মাসুম বিল্লাহ, আইন ও মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক ফজলে রাব্বি ও নির্বাহী সদস্য সোহানুর রহমানকে দেখা গেছে।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষের ‘খ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা চলাকালে এ ঘটনা ঘটে। এরপরই ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ে। এ নিয়ে দিনভর আলোচনা-সমালোচনা চলে। হাসান মুহাম্মদ রোমান ক্যাম্পাসে আওয়ামী ও বামপন্থী শিক্ষকদের রাজনৈতিক সংগঠন হলুদ দলের একাংশের সঙ্গে যুক্ত।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এদিন আইন অনুষদের গ্যালারিতে পরীক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন হাসান মুহাম্মদ। তার বিরুদ্ধে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত গণহত্যার সমর্থন, শিক্ষার্থীদের নামে মিথ্যা মামলা ও হেনস্তাসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে তার বিরুদ্ধে পৃথক তিনটি তদন্ত চলছে। তবুও প্রশাসনের চিঠিতে শনিবার ক্যাম্পাসে আসেন তিনি। বিষয়টি জানতে পেরে চাকসুর প্রতিনিধিরা তাকে ধরতে এগিয়ে যান। পরিস্থিতি আঁচ করতে পেরে ও সহকর্মীদের পরাপর্শে হাসান মুহাম্মদ কেন্দ্র থেকে বের হয়ে যান। এরপর আইন বিভাগের পেছনের রাস্তা দিয়ে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। এ সময় চাকসুর প্রতিনিধিরা তাকে ধরে ফেলেন। পরে তাকে প্রক্টরের অফিস কক্ষে নিয়ে যাওয়া হয়।
চাকসুর আইন বিষয়ক সম্পাদক ফজলে রাব্বি তৌহিদ বলেন, “শিক্ষক হাসান মুহাম্মদের বিরুদ্ধে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত গণহত্যার সমর্থন থাকার অভিযোগ রয়েছে। আওয়ামী লীগ আমলে তিনি সহকারী প্রক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে যুক্ত শিক্ষার্থীদের ‘জঙ্গি’ আখ্যা দিয়ে মামলা করেন। আইন অনুষদের এক শিক্ষার্থীকে মিথ্যা মামলা দিয়ে জেলে পাঠান। নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতাদের নিয়ে তার রুমে মদ-জুয়ার আসর ও নারীদের যৌন হয়রানিও করতেন নিয়মিত।’’
তিনি আরো বলেন, “অভিযুক্ত শিক্ষক ছাত্রলীগকে সরাসরি সহায়তা করতেন এবং বিভিন্ন সহিংস কর্মকাণ্ডে দিকনির্দেশনা দিতেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর তিনি দীর্ঘদিন আত্মগোপনে ছিলেন। তদন্ত চলমান থাকা সত্ত্বেও ভর্তি পরীক্ষায় দায়িত্ব পেয়ে ক্যাম্পাসে আসলে চাকসুর প্রতিনিধিরা তাকে কিছু প্রশ্ন করে। এ সময় পালানোর চেষ্টা করেন তিনি। পরে তাকে ধরে প্রক্টরের কক্ষে নিয়ে যাওয়া হয়।’’
শিক্ষক হাসান মোহাম্মদ রোমান শুভ বলেন, ‘‘কেন্দ্রে দায়িত্ব পালনের সময় সহকর্মীদের কথায় আমি বের হয়ে চলে আসি। বাহিরে তখন চিৎকার-চেঁচামেচি হচ্ছিল। দুই নম্বর গেটে আমার একজন কলিগের বাসার আশ্রয় নিতে চেয়েছিলাম। ওখান থেকে আমাকে কয়েকজন ধরে নিয়ে আসে। এ সময় আমি আতঙ্কিত হয়ে পড়ি। আমাকে সপাটে ধরা হয়েছে, কোনো আঘাত করা হয়নি।”
অভিযোগের বিষয় নাকচ করে তিনি বলেন, “যেসব অভিযোগ বলা হচ্ছে, সেসবের সঙ্গে আমি জড়িত না। আমার নামে যে স্কিনশর্টগুলো ছড়িয়েছে, সেগুলো ফেইক। আর এক শিক্ষার্থীকে মামলা দিয়ে জেলে নেওয়ার বিষয়টি ভুল বুঝাবুঝি ছিল।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. হোসেন শহীদ সরওয়ার্দী বলেন, ‘‘শিক্ষক হাসান মুহাম্মদ রোমান বিরুদ্ধে কিছু অভিযোগ রয়েছে। ভর্তি পরীক্ষার দায়িত্ব পালনকালে চাকসুর প্রতিনিধিদের উপস্থিতি টের পেয়ে তিনি পালানোর চেষ্টা করেন। পরে তাকে ধরে প্রক্টর অফিসে নিয়ে আসা হয়। তার ওপর কোনো হামলা বা মব হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।”
ঢাকা/মিজানুর/রাজীব