‘বাড়াবাড়িতে’ সুফল মেলায় স্বস্তি বিসিবির
ক্রীড়া প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের ইন্টেগ্রিটি ইউনিট এবার জিরো টলারেন্স দেখাচ্ছে ফিক্সিং রোধে। ক্রিকেটারদের তো বটেই, কোচিং স্টাফ, ম্যানেজমেন্ট এমনকি মালিকপক্ষের কাউকে সন্দেহ হলেই জেরা করছে। যা পছন্দ হচ্ছে না অনেকেরই।
বিপিএলের ঢাকা ক্যাপিটালস দল সরাসরি অভিযোগ তুলেছে ইন্টেগ্রিটি ইউনিটের বিরুদ্ধে। তাদের দাবি, ইন্টেগ্রিটি ইউনিট মানসিক অস্বস্তিতে ফেলেছে ক্রিকেটারদের। বিশেষ করে বিদেশি ক্রিকেটার রহমানউল্লাহ গুরবাজের রুমে আচমকা ঢুকেই মোবাইল ফোন পরীক্ষা, নানা প্রশ্ন একদমই পছন্দ হয়নি গুরবাজের। এ ছাড়া সাইফ হাসানকে ব্যাটিংয়ে নামার ঠিক আগে জিজ্ঞাসাবাদ করে তারা।
জানা গেছে, বিপিএলের দল নোয়াখালী এক্সপ্রেসের প্রায় সব ক্রিকেটারের মোবাইল ফোন জব্দ করে পরীক্ষা করে ইন্টেগ্রিটি ইউনিট। সব কিছু অনেকের কাছেই বাড়াবাড়ি মনে হচ্ছে। তবে এই বাড়াবাড়িতে ভালো কিছু হচ্ছে তা বোঝা যাচ্ছে। আগের থেকে সন্দেহপ্রবণ ঘটনা কম হচ্ছে বলে দাবি করলেন বিসিবির পরিচালক ও বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্য সচিব ইফতেখার রহমান মিঠু। সঙ্গে যোগ করলেন, ‘‘ইন্টেগ্রিটি ইউনিট গাইডলাইন ও কোডের বাইরে গিয়ে কোনো কাজ করছে না।’’
মিরপুরে শনিবার ইফতেখার রহমান বলেছেন, ‘‘অ্যান্টি করাপশন স্বাধীন ইউনিট। আমরা তাদের সাহায্য নিচ্ছি। এ ছাড়া আমরা আইসিসি থেকে সাবেক অ্যান্টি করাপশন ম্যানেজারকে নিয়োগ দিয়েছি। যারা আলাদাভাবে একই কাজ করছে। তারা অ্যান্টি করাপশনের যে গাইডলাইন ও কোড আছে সেটা মেইনটেন করেই অপারেশনাল কাজ করছে। এটা বিশ্বকাপে যেভাবে হয়, অন্যান্য ফ্রাঞ্চাইজি ক্রিকেটে যেটা হয় বাংলাদেশে সেটাই অনুসরণ করছে।’’
বাড়াবাড়ি হচ্ছে কিনা এ প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে ইফতেখার যোগ করেন, ‘‘বাড়াবাড়ি হচ্ছে আপনার উপরে। আমরা যেটা নিশ্চিত হয়েছি, তারা অ্যান্টি করাপশন যেই কোড এবং ম্যানুয়েল দেখে সেভাবেই শতভাগ কাজ করছে।’’
আগের থেকে সন্দেহপ্রবণ ঘটনা কম হচ্ছে দাবি করে ইফতেখার রহমান বলেন, ‘‘কিছু কিছু আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান আছে যারা ক্রিকেটের দুর্নীতি মনিটর করে। তাদের থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, সন্দেহপ্রবণ ঘটনা তীব্রভাবে নিচে নেমে গেছে। অ্যালেক্স মার্শাল নির্দিষ্ট করে নাম্বারটা বলতে পারবেন। তবে আমি যতটুকু জানি, অনেক অনেক কমে গেছে। তাদের পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে যেভাবে চাইবে সেভাবে কাজ করতে পারবে। কিন্তু তারা গাইডলাইন ও কোডের বাইরে কিছু করছে না। এখন কারো পছন্দ না হলে এটা তাদের ব্যক্তিগত বিষয়। এমনি এমনি তো কারো ফোন নেয় না। এটা পার্ট অব মনিটরিং। আমার ফোনও চাইতে পারে। সেই স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে।’’
ঢাকা/ইয়াসিন//