মন্ত্রিপরিষদে জায়গা হয়নি বিএনপির যে জ্যেষ্ঠ নেতাদের
বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতাদের মন্ত্রিসভায় রাখা হয়নি। তবে কারো কারো নাম এরই মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার তালিকায় রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে ২৫ জন মন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রীর সমন্বয়ে নতুন মন্ত্রিপরিষদ গঠন করা হয়েছে, যারা নানামুখী সংকটকাল থেকে দেশের উত্তরণের জন্য নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়নে কাজ শুরু করতে যাচ্ছেন।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) বিকালে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। নতুন মন্ত্রিসভায় উল্লেখযোগ্যসংখ্যক নতুন মুখ অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
নতুন এই মন্ত্রিসভায় মোট ৫০ সদস্যের মধ্যে প্রায় ৪০ জনই প্রথমবারের মতো দায়িত্ব পেয়েছেন। তবে দীর্ঘদিন বিএনপির রাজনীতিতে প্রভাবশালী বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা মন্ত্রিসভায় স্থান পাননি। শপথ অনুষ্ঠানকে ঘিরে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ থাকলেও শপথ নেওয়াদের মধ্যে নাম না থাকায় রাজনৈতিক অঙ্গনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
মন্ত্রিসভায় জায়গা না পাওয়া জ্যেষ্ঠ নেতাদের মধ্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান এবং সেলিমা রহমান রয়েছেন। দলীয় রাজনীতিতে তাদের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা এবং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকার পরও নতুন মন্ত্রিসভায় তারা অন্তর্ভুক্ত হননি।
দলের ভাইস চেয়ারম্যানদের মধ্যেও কয়েকজন আলোচিত নেতা মন্ত্রিসভায় স্থান পাননি। তাদের মধ্যে রয়েছেন বরকত উল্লা বুলু, মোহাম্মদ শাহজাহান, শামসুজ্জামান দুদু, অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন এবং আসাদুজ্জামান রিপন। অনেকের মতে, এসব নেতার অভিজ্ঞতা সত্ত্বেও নতুন নেতৃত্বকে সামনে আনার কৌশল হিসেবে দল এমন সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্যরা তিনি জীবিত থাকাকালীন আলোচনায় ছিলেন। ধারণা করা হচ্ছিল তাদের মধ্যে ছিলেন আমানউল্লাহ আমান, মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, মজিবুর রহমান সরোয়ার, গোলাম আকবর খোন্দকার, মাহবুবউদ্দিন খোকন এবং ফজলুর রহমান। তবে শেষ পর্যন্ত তাদের কেউ নতুন মন্ত্রিসভায় স্থান পাননি।
দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এবং যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল সংসদ নির্বাচনে অংশ না নেওয়ায় ধারণা করা হয়েছিল তাদের টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী হতে পারেন। তবে চূড়ান্ত তালিকায় এই দুই নেতার নামও অন্তর্ভুক্ত হয়নি। তাদের বাদ পড়া নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা ও বিশ্লেষণ চলছে।
অবশ্য এরই মধ্যে কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতাকে মন্ত্রী পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন। তারা হলেন: মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, রুহুল কবির রিজভী আহমেদ, মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ ও রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।
প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদায় উপদেষ্টা করা হয়েছে, হুমায়ুন কবির, অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামসুল ইসলাম, জাহেদ উর রহমান, মাহাদি আমিন ও রেহান আসিফ আসাদ।
ঢাকা/আলী/রাসেল