ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ১৯ মার্চ ২০২৬ ||  চৈত্র ৬ ১৪৩২ || ৩০ রমজান ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

ঈদের বাজারে অলস সময় পার করছেন স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২১:৪৩, ১৯ মার্চ ২০২৬   আপডেট: ২২:১৪, ১৯ মার্চ ২০২৬
ঈদের বাজারে অলস সময় পার করছেন স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা

ঈদের বাজারে অলস সময় পার করছেন স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা। অন্যান্য খাতে কেনাকাটার ভিড় থাকলেও রাজধানীর জুয়েলারি দোকানগুলোতে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র—ক্রেতা উপস্থিতি তুলনামূলক কম।

বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) রাজধানীর নিউমার্কেট ও ধানমন্ডি এলাকার বিভিন্ন জুয়েলারি দোকান ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। 

স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা বলছেন, ঈদ মৌসুম হলেও এটি সোনার ব্যবসার জন্য অফ সিজন। তারা জানান, সাধারণত ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসে বিয়ের মৌসুমকে কেন্দ্র করে সোনার চাহিদা সবচেয়ে বেশি থাকে। সেই সময় বিক্রি বাড়লেও বর্তমানে বাজার অনেকটাই স্থবির। ঈদে পোশাক, প্রসাধনী বা ইলেকট্রনিক পণ্যের চাহিদা বাড়লেও সোনার ক্ষেত্রে সেই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে না।

দামের ওঠানামাও বাজারে প্রভাব ফেলছে। আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দামের অস্থিরতা সরাসরি দেশের বাজারে প্রভাব ফেলছে বলেও জানান তারা। পাশাপাশি ডলারের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় আমদানি খরচ বেড়েছে। ব্যাংকিং চ্যানেল ও এলসি সংক্রান্ত জটিলতাও ব্যবসায়ীদের জন্য বাড়তি চাপ তৈরি করছে।

এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বৈশ্বিক বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এ অবস্থায় অনেক বিনিয়োগকারী নিরাপদ সম্পদ হিসেবে সোনার দিকে ঝুঁকছেন, ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে দামের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। তবে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে স্থানীয় বাজারে—দাম বাড়লেও বিক্রি কম।

নিউমার্কেট এলাকার আল মদিনা জুয়েলারি দোকানের বিক্রয়কর্মী শাজাহান বলেন, “ঈদ সামনে থাকলেও আগের মতো ক্রেতা নেই। যারা আসছেন, তারা শুধু দাম জিজ্ঞেস করে চলে যাচ্ছেন।”

ধানমন্ডির সীমান্ত স্কয়ারের নিঝুম জুয়েলারি দোকানের মালিক বলেন, “বর্তমানে সোনার দাম বেশি থাকায় অনেকেই নতুন করে কিনতে আগ্রহী নন। তবে পুরনো সোনা বিক্রি করতে কিছু ক্রেতা আসছেন।”

ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উচ্চমূল্যের কারণে তারা আপাতত অপেক্ষা করছেন। নিউমার্কেটে জুয়েলারি দোকানে গহনা কিনতে এসেছেন গৃহিণী শারমিন আক্তার। তিনি বলেন, “ঈদের জন্য কিছু গয়না কেনার ইচ্ছা ছিল, কিন্তু দাম এত বেশি যে এখন আর কেনা হচ্ছে না। পরে দেখব।”

আরেক ক্রেতা কলেজছাত্রী সাদিয়া ইসলাম বলেন, “শুধু দেখতে এসেছি। ডিজাইন ভালো লাগলেও বাজেটের বাইরে চলে যাচ্ছে, তাই কিনছি না।”

ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরে এলে এবং দামের কিছুটা সমন্বয় হলে বিক্রি বাড়বে। তাদের মতে, মৌসুমি চাহিদা ও বৈশ্বিক পরিস্থিতির ওপরই এখন সোনার বাজারের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে। 

সার্বিকভাবে, ঈদের মতো বড় উৎসবেও প্রত্যাশা অনুযায়ী সোনার বিক্রি না হওয়ায় কিছুটা হতাশ ব্যবসায়ীরা। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে সামনে বাজার ঘুরে দাঁড়াবে—এমনটাই প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।

এ দিকে নতুন দাম অনুযায়ী, সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ ৭ হাজার ৬৯৮ টাকা কমিয়ে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৪৬ হাজার ৯২৭ টাকা। ২১ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণ ৭ হাজার ৩৪৮ টাকা কমিয়ে ২ লাখ ৩৫ হাজার ৬৭১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এছাড়া ১৮ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণ ৬ হাজার ২৯৯ টাকা কমিয়ে নতুন দাম ২ লাখ ২ হাজার ২০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণ ৫ হাজার ৮২ টাকা কমিয়ে দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৬৪ হাজার ৫২১ টাকা।

ঢাকা/আলী//

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়