বগুড়ায় ট্রেনের লাইনচ্যুত ৯ বগি উদ্ধার শুরু
বগুড়া প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম
উদ্ধারকারী ট্রেন ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাজ শুরু করেছে।
বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার ছাতিয়ানগ্রামে লাইনচ্যুত হওয়া নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনের নয়টি বগি উদ্ধারে উদ্ধারকারী ট্রেন ঘটনাস্থলে পৌছেছে। পাবনার ঈশ্বরদী থেকে ছেড়ে আসা উদ্ধারকারী ট্রেনটি বুধবার (১৮ মার্চ) সন্ধ্যা পৌনে ৭টায় ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। এরপর তারা উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করেছে।
সান্তাহার রেলওয়ের স্টেশন মাস্টার খাদিজা খাতুন এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘‘আরো একটি উদ্ধারকারী ট্রেন দিনাজপুরের পার্বতীপুর থেকে আসছে। আমরা যতদ্রুত সম্ভব রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছি।’’
বুধবার দুপুর সোয়া ২টায় ট্রেনের নয়টি বগি লাইনচ্যুত হয়। এ সময় ট্রেনটির ছাদে থাকা যাত্রীদের অনেকে নিচে পড়ে যায়। আবার অনেক লাফিয়ে পড়ে আহত হয়। বগিগুলো লাইনচ্যুত হওয়ায় উত্তরবঙ্গের ৫ জেলা– নীলফামারী, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড় ও জয়পুরহাটের সঙ্গে ঢাকার রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। এছাড়া উত্তরবঙ্গের সঙ্গে দিনাজপুরের রেল যোগাযোগ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। তবে ঢাকা-রংপুর-লালমনিটরহাট লাইনে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, যেখানে ট্রেনটি লাইনচ্যুত হয়েছে, ওই স্থানে রেললাইনের মেরামত কাজ চলছিল। লাল পতাকা টাঙানো ছিল। তবে চালক খেয়াল না করায় এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। দুর্ঘটনার পর ট্রেনের চালক ও স্টাফরা পালিয়ে গেছেন।
ট্রেন লাইনচ্যুত হওয়ার সময় ট্রেনের ছাদে ও ভেতরে থাকা অর্ধশতাধিক যাত্রী আহত হয়েছে। তাদের স্থানীয় হাসপাতাল, নওগাঁ জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
সান্তাহার রেলওয়ে থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মাহফুজুর রহমান বলেন, এখানে রেললাইনের কাজ চলছিল এবং সামনে লাল পতাকা দেওয়া ছিল। কিন্তু ট্রেন দ্রুতগতিতে আসায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এখন পর্যন্ত মৃত্যুর সংবাদ পাওয়া যায়নি। ট্রেনের ছাদে অনেক মানুষ থাকায় ছাদ থেকে পড়ে অনেকে আহত হয়েছে। তাদের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
দুর্ঘটনার পর ট্রেনের কোনো স্টাফকে ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়নি বলে জানান তিনি।
নওগাঁ ফায়ার সার্ভিসের পরিদর্শক রেজাউল করিম বলেন, ‘‘আমাদের চারটি ইউনিট উদ্ধার কাজ করছে। আমরা প্রত্যেকটা বগি তল্লাশি করছি। ৪৭ জনকে উদ্ধার করে নওগাঁ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। একজনের অবস্থা গুরুতর। স্থানীয়রাও কয়েকজনকে হাসপাতালে নিয়েছে।’’
ঢাকা/এনাম/বকুল