ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ১৯ মার্চ ২০২৬ ||  চৈত্র ৬ ১৪৩২ || ৩০ রমজান ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

বিসিবিতে আমিনুলের একতরফা সিদ্ধান্তে ‘সমালোচনা’!

ক্রীড়া প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২০:২৯, ১৯ মার্চ ২০২৬   আপডেট: ২১:৪৭, ১৯ মার্চ ২০২৬
বিসিবিতে আমিনুলের একতরফা সিদ্ধান্তে ‘সমালোচনা’!

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে (বিসিবি) আমিনুল ইসলামের একতরফা সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রবণতা নিয়ে ক্রমেই বাড়ছে সমালোচনা। সাম্প্রতিক সময়ে তিনি ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের কাছে চিঠি দিয়েছেন—যেখানে সর্বশেষ বোর্ড নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ তদন্তে গঠিত কমিটি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং নির্বাচিত বোর্ডে বাইরের হস্তক্ষেপের সম্ভাব্য পরিণতির দিকে ইঙ্গিত করে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদকে সতর্ক করেছে আমিনুল ইসলামের বোর্ড। যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।

বোর্ডের অন্য পরিচালকদের সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই নেওয়া এই সিদ্ধান্ত অনেককেই বিস্মিত করেছে। তবে অনেকের মতে, দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই সিদ্ধান্ত গ্রহণে এমন একক অবস্থানই দেখিয়ে আসছেন আমিনুল। ক্রিকবাজ--এর সঙ্গে কথা বলা একাধিক পরিচালক জানিয়েছেন, গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো কীভাবে নেওয়া হচ্ছে, সে বিষয়ে তারা প্রায় অন্ধকারে রয়েছেন।

একজন পরিচালক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, ‘‘বোর্ড মিটিংয়ের বাইরে এখন পর্যন্ত মাত্র দুটি বিষয়ে আলোচনা হয়েছে—একটি ছিল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে না খেলার সিদ্ধান্ত, অন্যটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে দুই কোটি টাকা অনুদান দেওয়ার বিষয়। তবে সেসব ক্ষেত্রেও মতামত নেওয়ার চেয়ে সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেওয়াই বেশি মনে হয়েছে।’’

আরেক পরিচালক জানান, “প্রথম ক্ষেত্রে বলা হয়েছিল সরকার চায় না আমরা বিশ্বকাপে অংশ নিই, তাই যাচ্ছি না। দ্বিতীয় ক্ষেত্রে জানানো হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে দুই কোটি টাকা দেওয়া হবে। ফলে ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উদ্দেশে পাঠানো চিঠি নিয়ে এত আলোচনা কেন হচ্ছে, তা নিয়ে আমি নিশ্চিত নই—কারণ এর আগেও এমন ঘটনা ঘটেছে।”

জানা গেছে, পরিচালকদের গ্রুপে আমিনুল প্রেস বিজ্ঞপ্তি শেয়ার করলে সাতজন পরিচালক—নাজমুল আবেদীন, মোকলেসুর রহমান শামীম, রুবাবা দৌলা, আবদুর রাজ্জাক, রাহাত শামস, হাসানুজ্জামান ও আহসান ইকবাল চৌধুরী—‘থাম্বস আপ’ প্রতিক্রিয়া দেন। এর অর্থ তারা, আমিনুলের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছে। একমাত্র মন্তব্য করেন আসিফ আকবর, তিনি লেখেন, “ধন্যবাদ চিফ, এটি প্রয়োজন ছিল।” অস্ট্রেলিয়ায় বসে নিজে এই চিঠিটি প্রস্তুত করেন আমিনুল। 

তবে বোর্ডের ভেতরে এই পদক্ষেপ নিয়ে অস্বস্তি স্পষ্ট। এক পরিচালক বলেছেন, “কেন তিনি এমন করলেন, কে তাকে পরামর্শ দিল—তা আমরা জানি না। বিষয়টি অন্যভাবে সামাল দেওয়া যেত।” তিনি আরও বলেন, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ বোর্ডের অভিভাবক সংস্থা, তাই তাদের উদ্দেশে এমন ভাষায় চিঠি দেওয়া ঠিক হয়নি। বোর্ড যে সব মাঠ ব্যবহার করে, সেগুলোও জাতীয় ক্রীড়া পরিষদেরই কিন্তু।’’ 

আমিনুল ইসলামের মেয়াদ এখন অস্থির সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বোর্ডের ভেতরে দূরত্ব তৈরি হওয়া, ঘরোয়া লিগ নিয়মিত আয়োজন করতে না পারা এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক জটিলতা তার অবস্থানকে দুর্বল করে তুলছে। তার ওপর সরকারের সঙ্গে সরাসরি বিরোধে জড়ানো পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। এমন অবস্থায় তার চার বছরের মেয়াদ পূর্ণ হওয়া নিয়েও সংশয় দেখা দিয়েছে। যার বড় কারণ একক নির্ভর নেতৃত্ব ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণেই। 

ঢাকা/ইয়াসিন

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়