বৈশাখী উৎসব: উৎসবের ঢেউ রমনায়
ছবি: রাইজিংবিডি
বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ এর প্রথম দিন মঙ্গলবার রাজধানীর রমনা পার্কে বইছে বৈশাখী আনন্দের ঢেউ। দুপুর গড়াতেই পার্কজুড়ে জমে ওঠে উৎসবমুখর পরিবেশ। জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস), পরিবাগ তরুণ সংঘ ও দেশীয় সাংস্কৃতিক সংসদের উদ্যোগে আয়োজিত বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনা দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করছে।
প্রচণ্ড রোদ উপেক্ষা করেই নানা বয়সী মানুষ ভিড় জমিয়েছেন পার্কে। মঞ্চে পরিবেশিত হচ্ছে লোকসংগীত, নৃত্য ও আবৃত্তি যেখানে উঠে আসছে বাঙালির হাজার বছরের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও চিরচেনা গ্রামীণ জীবনচিত্র। উৎসবের আমেজে মেতে উঠেছেন সবাই।
পার্কে প্রবেশের জন্য কাকরাইল মসজিদ ও শাহবাগের টেনিস কমপ্লেক্স-সংলগ্ন ফটক ব্যবহার করছেন দর্শনার্থীরা।নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রবেশমুখে বসানো হয়েছে মেটাল ডিটেক্টর, পুলিশ সদস্যরা তল্লাশি চালাচ্ছেন আগতদের। পাশাপাশি পার্কের ভেতরেও রয়েছে পর্যাপ্তসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন।
পরিবার-পরিজন নিয়ে ঘুরতে আসা অনেকেই জানান, বৈশাখ মানেই আনন্দ, মিলন আর বাঙালিয়ানা। পার্কে ঘুরতে আসা সানজিদা তাবাসসুম বলেন, “প্রতি বছর বৈশাখে পরিবার নিয়ে বের হই। আজও পরিবার নিয়ে এসেছি, খুব ভালো লাগছে। এই উৎসব আমাদের শিকড়ের সঙ্গে নতুন করে পরিচয় করিয়ে দেয়।”
বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী আরিফ রহমান বলেন, “বৈশাখের এই আয়োজনগুলো আমাদের সংস্কৃতিকে বাঁচিয়ে রাখে। এখানে এসে মনে হয় আমরা সত্যিই বাঙালি এটা খুব গর্বের।”
এদিকে, অনেকে একটু প্রশান্তির খোঁজে পার্কের লেকের পাশে বসে সময় কাটাচ্ছেন। গাছের ছায়া আর হালকা বাতাসে তারা উপভোগ করছেন প্রকৃতির শান্ত পরিবেশ। ব্যস্ত নগরজীবনের বাইরে এমন মুহূর্ত যেন এনে দিচ্ছে স্বস্তির ছোঁয়া।
শিশুদের আনন্দও চোখে পড়ার মতো। রঙিন পোশাকে সেজে তারা ছুটে বেড়াচ্ছে পার্কজুড়ে। কেউ বেলুন নিয়ে খেলছে, কেউ আবার সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করছে পরিবারের সঙ্গে।
সব মিলিয়ে, বৈশাখের প্রথম দিনে রমনা পার্ক যেন পরিণত হয়েছে বাঙালির প্রাণের উৎসবে। যেখানে ঐতিহ্য, সংস্কৃতি আর আনন্দ একসঙ্গে মিলেমিশে তৈরি করেছে এক অনন্য আবহ।
ঢাকা/এমএসবি/এসবি
গাজা ও লেবাননে সামরিক অভিযান চলবেই: নেতানিয়াহু