ঢাকা     মঙ্গলবার   ১৪ এপ্রিল ২০২৬ ||  বৈশাখ ১ ১৪৩৩ || ২৬ শাওয়াল ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

উৎসবের রঙে শহর, ইলিশের দামে অস্বস্তি

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৯:০০, ১৪ এপ্রিল ২০২৬   আপডেট: ১৯:০১, ১৪ এপ্রিল ২০২৬
উৎসবের রঙে শহর, ইলিশের দামে অস্বস্তি

বাংলা নতুন বছরে রাজধানী সেজেছে বর্ণিল সাজে। সূর্য ওঠার আগেই নগরজুড়ে শুরু হয়েছে মানুষের আনাগোনা, লাল-সাদা পোশাকে সেজে উঠেছে চারপাশ। কিন্তু আনন্দের এই সকালের ভেতরেও বাজারে ইলিশের চড়া দামের চাপ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে সাধারণ মানুষের পাতে।

পয়লা বৈশাখ উপলক্ষে ভোর থেকেই রাজধানীর রায়েরবাগ, শনিরআখড়া, যাত্রাবাড়ী ও আশপাশের এলাকায় ছিল অন্যরকম এক ব্যস্ততা। কেউ যান বৈশাখী শোভাযাত্রায়, কেউ আবার শেষ মুহূর্তে বাজারে ছুটছেন পান্তা-ইলিশের আয়োজন করতে।

আরো পড়ুন:

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) ফজরের আজানের পর থেকেই রায়েরবাগ ও শনিরআখড়ার অলিগলিতে দেখা যায় মানুষের ছোটাছুটি। অনেকেই হাতে বাজারের ব্যাগ নিয়ে যাচ্ছেন মাছের দোকানে। কোথাও কোথাও আবার বাসার সামনে বসেই পান্তা ভাতের প্রস্তুতি ভাত ভিজিয়ে রাখা, কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ কাটা, আর পাশে ইলিশ ভাজার প্রস্তুতি।

রায়েরবাগের বাসিন্দা বেসরকারি চাকরিজীবী আব্দুল কাদের ভোরেই বাজারে এসেছেন। তিনি বলেন, “বছরে একদিন তো বৈশাখ আসে। তাই যত কষ্টই হোক, চেষ্টা করি পান্তা-ইলিশ রাখার। তবে দাম দেখে সত্যিই অবাক হতে হয়।”

সকালের বাজারে গিয়ে দেখা যায়, ইলিশের দাম আগের দিনের চেয়েও চড়া। এক কেজির বেশি ওজনের ইলিশ ৩ হাজার থেকে ৩ হাজার ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ৮০০-৯০০ গ্রামের ইলিশ ২০০০ টাকার ওপরে। ছোট আকারের ৩০০-৫০০ গ্রামের ইলিশও ১২০০ থেকে ১৮০০ টাকার মধ্যে।

শনিরআখড়ার গৃহিণী মুসলিমা বেগম বলেন, “ছেলে মেয়েরা জেদ করেছে ইলিশ লাগবেই। তাই ছোট একটা কিনেছি। কিন্তু এই দামে সবার জন্য কেনা সম্ভব না।”

রায়েরবাগের তরুণ ক্রেতা ইমন বলেন, “ইলিশ এখন আর সাধারণ মানুষের মাছ না। আজ শুধু ঐতিহ্যের জন্যই কিনলাম।”

ছোট ইলিশের চাহিদা বেশি
বাজারে বড় ইলিশের চেয়ে ছোট মাছের চাহিদা বেশি। অনেকেই ২০০-৩০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ কিনছেন, কেউ ভাগ করে নিচ্ছেন। কারও কারও পাতে আজ ইলিশের বদলে অন্য মাছ বা ভর্তাও জায়গা করে নিয়েছে। তবুও উৎসবের আনন্দে ভাটা নেই।

বিক্রেতাদের যুক্তি
যাত্রাবাড়ীর মাছ বিক্রেতা আনিসুর রহমান বলেন, “নদীতে ইলিশ কম ধরা পড়ছে। আড়তে দাম বেশি, তাই আমরা কম দামে দিতে পারি না। বৈশাখে চাহিদা বাড়ে, সেটাও একটা কারণ।”

আপনাবাজারের আরেক বিক্রেতা শামীম জানান, পরিবহন খরচ, বরফ, সংরক্ষণ সব মিলিয়ে খরচ বেড়েছে। তাই দাম বাড়ছে।

বাংলাদেশ সচিবালের মৎস্যও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, “পান্তা-ইলিশ বাঙালির নববর্ষের এক অনিবার্য প্রতীক হলেও, বাস্তবতার সঙ্গে তার দূরত্ব যেন বাড়ছে প্রতি বছর। অনেকেই বলছেন, এই ঐতিহ্য এখন ধীরে ধীরে মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে।”

তবুও বৈশাখের সকাল থেমে থাকে না। কারও পাতে ইলিশ, কারও পাতে শুধু পান্তা তবু নতুন বছরের প্রথম দিনে সবার চোখে একই প্রত্যাশা ভালো থাকার, ভালো থাকার স্বপ্ন দেখার।

ঢাকা/এএএম/এসবি

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়