ঢাকা     রোববার   ১০ মে ২০২৬ ||  বৈশাখ ২৭ ১৪৩৩ || ২৩ জিলকদ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

তামাকের কর বাড়ালে রাজস্ব বাড়বে ৪৪ হাজার কোটি টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৯:৫০, ১০ মে ২০২৬  
তামাকের কর বাড়ালে রাজস্ব বাড়বে ৪৪ হাজার কোটি টাকা

তামাকপণ্যের করকাঠামো সংস্কার করে সিগারেটসহ সব ধরনের তামাকপণ্যের দাম বাড়ানো হলে সরকারের রাজস্ব আয় প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন অর্থনীতিবিদ, চিকিৎসক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা গেলে দীর্ঘমেয়াদে লাখো মানুষের অকালমৃত্যু প্রতিরোধও সম্ভব হবে।

রবিবার (১০ মে) জাতীয় প্রেস ক্লাবে “বাজেট ২০২৬-২৭: জনস্বাস্থ্য উন্নয়ন ও তামাক রাজস্ব বৃদ্ধি” শীর্ষক আলোচনা সভায় এসব কথা বলা হয়। গবেষণা ও অ্যাডভোকেসি প্রতিষ্ঠান প্রজ্ঞা এবং অ্যান্টি টোব্যাকো মিডিয়া এলায়েন্স (আত্মা) যৌথভাবে এ সভার আয়োজন করে।

সভায় বক্তারা সিগারেটের মূল্যস্তর সংখ্যা কমানো, সুনির্দিষ্ট কর পদ্ধতি চালু এবং সব ধরনের তামাকপণ্যের মূল্য বৃদ্ধির প্রস্তাব দেন। তাদের দাবি, এসব প্রস্তাব বাস্তবায়ন হলে শুধু সিগারেট খাত থেকেই অতিরিক্ত প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায় সম্ভব হবে।

আলোচনায় সিগারেটের নিম্ন ও মধ্যম স্তর একত্র করে প্রতি ১০ শলাকার খুচরা মূল্য ১০০ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়। এছাড়া উচ্চ স্তরের সিগারেটের দাম ১৫০ টাকা এবং প্রিমিয়াম স্তরের সিগারেট ২০০ টাকা বা তার বেশি নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়। একইসঙ্গে বিদ্যমান ৬৭ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক বহাল রেখে প্রতি ১০ শলাকার প্যাকেটে ৪ টাকা সুনির্দিষ্ট শুল্ক আরোপের প্রস্তাব দেন বক্তারা।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্রাটেজিক স্টাডিজের রিসার্চ ডিরেক্টর ড. মাহফুজ কবীর বলেন, নিম্ন ও মধ্যম স্তরের সিগারেটের দামের পার্থক্য কম হওয়ায় অধিকাংশ ভোক্তা সহজেই এক স্তর থেকে অন্য স্তরে চলে যান। স্তর দুটি একীভূত করে দাম বাড়ানো হলে তরুণ ও নিম্নআয়ের জনগোষ্ঠী ধূমপান থেকে নিরুৎসাহিত হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. রুমানা হক বলেন, দেশে নিত্যপণ্যের তুলনায় তামাকপণ্যের দাম এখনও কম, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি। কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে তামাকপণ্যের দাম মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে নিতে হবে।

সভায় আরও বলা হয়, বর্তমানে দেশে ৩৫ দশমিক ৩ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ তামাক ব্যবহার করেন এবং তামাকজনিত রোগে প্রতিবছর প্রায় দুই লাখ মানুষের মৃত্যু হয়।

আত্মা’র কো-কনভেনর নাদিরা কিরণের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন মতুর্জা হায়দার লিটন, প্রজ্ঞা’র নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়ের। আলোচনা সভায় তামাকবিরোধী সংগঠনসমূহের প্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মী এবং সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন।

ঢাকা/এমএসবি//

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়