ঢাকা, রবিবার, ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭, ০৭ জুন ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

আসুন, সকলে মিলে লড়ি

জাহাঙ্গীর আলম বকুল : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০২০-০৪-১১ ১২:৫৭:১০ এএম     ||     আপডেট: ২০২০-০৪-১২ ১১:৩৫:০৯ এএম

যুদ্ধাবস্থার মধ্যে আছি আমরা। শুধু আমরা নই; বিশ্বের বেশিরভাগ দেশে একই অবস্থা। মানুষ লড়ছে বেঁচে থাকার জন্য। কঠিন সেই লড়াই। বিশ্বের সব মানুষ এক কাতারে সামিল হয়েছে এই যুদ্ধে। লড়ছে অতি সুক্ষ্ম, ক্ষুদ্র এক ভাইরাসের বিরুদ্ধে।

এটা ভিন্ন এক যুদ্ধ, যেখানে শত্রুর অবস্থান অজানা। কে, কোন দিক থেকে আক্রান্ত হবেন; কেউ  বলতে পারছেন না। আর আক্রান্ত হলে শুধু তিনি নন, নিজের অজান্তে পরিবার এবং সংস্পর্শে ব্যক্তিদের আক্রান্ত করে ফেলছেন। আক্রান্ত হলে সবাই মারা যাচ্ছে, তা নয়। তবে এই ভাইরাস অতিমাত্রায় ছোঁয়াচে; ভয়ের কারণ এখানেই।

আরেকটি ভয়ের কারণ কোভিড-১৯ রোগীর জন্য কার্যকর কোনো ওষুধ নেই। এই রোগে মৃত্যুর হার ৪/৫ শতাংশের মধ্যে থাকলেও যারা আগে থেকে শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন, বিশেষ করে বয়স্করা; লড়ে হেরে যাচ্ছেন। তাই এখনো পর্যন্ত প্রতিরোধই এই যুদ্ধের আসল হাতিয়ার।

এই যুদ্ধে ঝুঁকির সামনের তালিকায় রয়েছি আমরা। বাংলাদেশ ছোট অর্থনীতির একটা দেশন কিন্তু তার বিশাল জনগোষ্ঠী। আবার মানুষের মধ্যে সচেতনতা কম। এত বড় একটা যুদ্ধ লড়ার মতো সম্পদের পর্যাপ্ততা আমাদের নেই। নেই পর্যাপ্তসংখ্যক চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী। সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে ভেন্টিলেটর রয়েছে হাজার দেড়েকের মতো। এই যন্ত্রটি পৃথিবীব্যাপী দুষ্প্রাপ্য। যেমন দামি, তেমনি দ্রুত তৈরি করা যায় না। নিউইয়র্কের মেয়র চার হাজার ভেন্টিলেটর কেনার জন্য টাকা নিয়ে ঘুরছেন, কিন্তু পাচ্ছেন না।

সুতরাং কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীকে সুস্থ করার লড়াইয়ে আমাদের সামর্থ সীমিত; আমাদের লড়তে হবে সংক্রমণের বিরুদ্ধে। এই যুদ্ধে আমরা জিততে পারি, যদি সচেতন হই। সবাই মিলে যদি রুখে দাঁড়াই।

এই লড়াইটা সহজ; ঘরে থাকা, সামাজিক দূরত্ব মেনে চলা এবং হাঁচি-কাঁশির শিষ্টাচার মেনে চলা।

এই যুদ্ধের প্রথম পর্যায়টা হলো কোভিড-১৯ এর বিরুদ্ধে লড়াই। এই পর্যায়ের চূড়ান্ত অবস্থা এবং পরিণতি কী হবে, তা আমাদের অজানা। চূড়ান্তভাবে যদি আমরা সংক্রমণ ঠেকাতে না পারি, তাহলে যে ছবি সামনে আসবে; সেটা এক কথায় ভয়ঙ্কর। সেই কাল্পনিক দৃশ্যের বর্ণনা দিয়ে মানুষকে আতঙ্কিত না করাই এই মুহূর্তে শ্রেয়।

তবে দ্বিতীয় পর্যায়ের পরিসংখ্যানের ধারণা আমরা করতে পারি। ইতোমধ্যে দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা ধারণা দিতে শুরু করেছেন। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) প্রধান ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা সতর্ক করেছেন ১৯৩০ সালের মহামন্দার চেয়ে খারাপ পরিস্থিতির জন্য। তিনি আশঙ্কা করেছেন,  বিশ্বের ১৭০টি দেশে মাথাপিছু আয় কমে যাবে। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) আশঙ্কা, বিশ্বে  ৩৩০ কোটি মানুষের কর্মসংস্থান ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এর প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়বে আমাদের অর্থনীতির ওপর। আমাদের প্রায় এক কোটি শ্রমিক বিদেশে কর্মরত। তারা দেশে রেমিট্যান্স পাঠায়। দেশে পোশাক কারখানায় উৎপাদন না থাকায় শ্রমিক ছাঁটাই হবে। এখানে ৪০ লক্ষাধিক শ্রমিক কর্মরত; যার বেশিরভাগ নারী। উৎপাদন সংকুচিত হবে বহু প্রতিষ্ঠানে।

তবে অনেক কিছু নির্ভর করছে, দেশে কোভিড-১৯ পরিস্থিতি কোন পর্যায়ে পৌঁছায় তার উপর। পোশাক কারখানার মালিকদের নেতারা এমন ধারণা দিতে চেয়েছেন, পরিস্থিতি যদি এক-দেড় মাসের মধ্যে স্বাভাবিক হয়, তবে সেটা মোটামুটি সামলে নেওয়া যাবে। সরকারও দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে উৎপাদন ও সেবা অব্যাহত রাখার চেষ্টা করছে।

আমরাও খুব করে চাই, পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হোক। এমনিতে যথেষ্ট ক্ষতি হয়ে গেছে। তবে আমরা আশাবাদী মানুষ। এ দেশের মানুষ গরিব কিন্তু লড়াকু। ঝড়-বন্যা তাদের নিত্যসঙ্গী। মাঝে-মধ্যে সবকিছু তছনছ করে দেয়। তখন হাতে-হাত ধরে লড়ি। আবার নতুন স্বপ্ন নিয়ে শুরু করি। এবারও তাই হবে।

করোনার প্রভাবে ইতিমধ্যে কর্মহীন হয়ে পড়েছে লাখ লাখ মানুষ। অনাহারে-অর্ধাহারে থাকা এই মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে সামর্থ অনুযায়ী। কোনো দুর্যোগ দীর্ঘস্থায়ী হয় না। আঁধার দ্রুত কাটবেই।

দেশের কৃষকরাই সত্যিকারের সূর্য সন্তান। ১৬/১৭ কোটি মানুষের চাহিদার চেয়ে উদ্বৃত্ত খাদ্য তারা ফলায়। শুধু সরকারের প্রণোদনা-সহযোগিতা থাকলে উদ্বৃত্ত খাদ্যের জোগান তারা দিতে পারবে। সমস্যাটা হবে- ক্রয়ক্ষমতা সংকুচিত হওয়ায় জনগোষ্ঠীর বিশাল অংশের সেই খাদ্যের প্রাপ্ততা নিশ্চিত করা যাবে কিনা?


ঢাকা/তারা