ঢাকা     শনিবার   ২৮ জানুয়ারি ২০২৩ ||  মাঘ ১৫ ১৪২৯

খালেদা জিয়ার জন্মদিন: জনগণের আবেগের সঙ্গে প্রতারণা 

এন আই আহমেদ সৈকত || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৩:৪৯, ২০ মে ২০২১   আপডেট: ১৯:৩৮, ২০ মে ২০২১
খালেদা জিয়ার জন্মদিন: জনগণের আবেগের সঙ্গে প্রতারণা 

জন্মদিন মানুষের কাছে বিশেষ একটি দিন। কারণ এই দিনে সে পৃথিবীতে এসেছে। দিনটি উদযাপন করতে মানুষ কতো কিছুই না করে! কিন্তু সেই দিনটি উদযাপনে যখন মিশে থাকে মিথ্যা, প্রতিহিংসা এবং সেটি আঘাত করে মানুষের আবেগের জায়গায় তখন সেটি নিন্দনীয়।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি। তার জন্মদিন দলের নেতাকর্মীরা পালন করবেন সেটি স্বাভাবিক। কিন্তু তার সত্যিকারের জন্মদিন আসলে কোনটি তা আমাকে ধাঁধায় ফেলে দিয়েছে। একেক সময় একেক তারিখ সামনে আসায় বিষয়টি আমার মতো অনেকের মনেই রহস্যের জন্ম দিয়েছে। 
 

প্রথম সারির একটি জাতীয় দৈনিকের খবর অনুযায়ী, খালেদা জিয়া ১৯৯১ সালে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার পর ১৯৯৩ সালের ১৫ আগস্ট জন্মদিন উদযাপন শুরু করেন। তবে তা ছিল অনাড়ম্বর। ১৯৯৬ সাল থেকে এ দিনটিতে কেক কেটে জন্মদিন উদযাপন শুরু হয়। ১৯৯৬ সালের ১৫ আগস্ট খালেদা জিয়া মিন্টো রোডে সরকারি বাসভবনে প্রথমবারের মতো নেতাকর্মীদের নিয়ে কেক কেটে জন্মদিন পালন শুরু করেন। প্রশ্ন হলো, ১৯৯১ সালের আগে কি খালেদা জিয়া নিজের জন্মদিন পালন করতেন না? যদি করে থাকেন, তাহলে সেই তারিখটি কতো?

দেশের আরেকটি ইংরেজি পত্রিকা খালেদা জিয়ার পাসপোর্টের কিছু ছবি দেখিয়ে বলেছে, এসব ছবি যদি ‘ভুয়া’ না হয় তবে খালেদা জিয়ার মোট জন্মদিন পাঁচটি। তা হলো ১৯৪৪ সালের ৫ আগস্ট, ১৯৪৬ সালের ৫ আগস্ট, ১৯৪৭ সালের ১৯ আগস্ট, ১৯৪৬ সালের ৫ সেপ্টেম্বর এবং বছর উল্লেখবিহীন ১৫ আগস্ট।

সেই পত্রিকার খবর অনুযায়ী, খালেদা জিয়া ১৯৯৫ বা ১৯৯৬ সাল থেকে ১৫ আগস্ট তার জন্মদিন পালন করেন। আর ১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠনের পর সপরিবারে বঙ্গবন্ধু নিহত হওয়ার দিন অর্থাৎ ১৫ আগস্টকে প্রথমবারের মতো জাতীয় শোক দিবস ঘোষণা করা হয়।

আগস্ট ট্র্যাজিডি হয়েছিল ১৯৭৫ সালে। তার আগের প্রতি বছরের ১৫ আগস্টে এবং তারপর এই ৪২ বছরের প্রতিটি ১৫ আগস্টে এমনকি ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টেও অসংখ্য মানুষের জন্ম হয়েছে। তার মানে বাংলাদেশে লাখো মানুষের জন্মদিন ১৫ আগস্ট। সুতরাং অন্য ৩৬৪ দিনে যাদের জন্ম, তারা যদি জন্মদিন পালন করতে পারেন, ১৫ আগস্টে জন্মগ্রহণকারীরা কেন জন্মদিন পালন করতে পারবেন না? এই প্রশ্ন খুবই যৌক্তিক এবং সঙ্গত। কিন্তু প্রশ্ন হলো, যেদিন আপনার পিতা মৃত্যুবরণ করেছেন, সেদিন যদি আপনার জন্মদিন হয়ও, আপনি কি সেদিন জন্মদিনের কেক কাটবেন? আর খালেদা জিয়া বাংলাদেশের অন্যতম রাজনৈতিক দলের প্রধান নেত্রী। জাতির পিতার মৃত্যুদিনে তিনি কেক কাটেন কীভাবে? এমন কাজের একটাই উদ্দেশ্য, আর তা হলো, বাংলার মানুষের আবেগের জায়গায় আঘাত দেয়া। বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুদিন নিয়ে উপহাস করা!

এখন পর্যন্ত খালেদা জিয়ার পাওয়া জন্ম তারিখগুলো হলো: এসএসসি পরীক্ষার মার্কশিট অনুযায়ী তার জন্ম তারিখ ১৯৪৬ সালের ৫ সেপ্টেম্বর। ১৯৯১ সালে প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে একটি দৈনিকে তার জীবনী নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জন্মদিন ১৯৪৫ সালের ১৯ আগস্ট লেখা হয়। জিয়াউর রহমানের সঙ্গে খালেদা জিয়ার বিয়ের কাবিননামায় জন্মদিন উল্লেখ করা হয় ১৯৪৪ সালের ৪ আগস্ট। ২০০১ সালে মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট অনুযায়ী, তার জন্মদিন ১৯৪৬ সালের ৫ আগস্ট। সর্বশেষ করোনা টেস্টের রিপোর্ট অনুযায়ী ৮ মে ১৯৪৬ সালে খালেদা জিয়া জন্মগ্রহণ করেন।

স্বভাবতই মনে প্রশ্ন জাগে- একটি মানুষের এতগুলো জন্মদিন হয় কীভাবে? এর মধ্যে একটি সত্য হলে বাকি চারটি অবশ্যই মিথ্যা। তার এবং তার দলের উচিত বিষয়টি স্বীকার করে সঠিক জন্ম তারিখটি ঘোষণা করা।  এর মধ্যে একটি দিন তো আমাকে ভাবিয়ে তোলে দারুণভাবে। তা হলো ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট আগস্ট। এদিন স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে ঘাতকের নির্মম বুলেটে শহীদ হন। জাতি হিসেবে আমাদের জন্য শোকাবহ দিনটি পরে জাতীয় শোকদিবসের স্বীকৃতি পেয়েছে। সে দিনটিকে বেগম জিয়া নিজের জন্মদিন হিসেবে উল্লেখ করে আনন্দঘন পরিবেশে কেক কেটে উদযাপন করতেন। এই উদযাপন তার জন্মদিন না কি বিশেষ কোনো এজেন্ডা বাস্তবায়নের উদযাপন- জাতি জানতে চায়।

আমি মনে করি, মিথ্যা জন্মদিন উদযাপন করে জাতির সঙ্গে প্রতারণা করায় তার ও তার দলের ক্ষমা চাওয়া উচিত। আমরা জন্মদিন নিয়ে আর কোনো মিথ্যাচার শুনতে চাই না। আমরা চাই মিথ্যা জন্মদিনের এই অপরাজনীতি চিরতরে বন্ধ হোক।  

লেখক: উপ-তথ্য ও যোগাযোগ (আইসিটি) সম্পাদক, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ
 

ঢাকা/তারা

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়