ঢাকা     শনিবার   ২৮ জানুয়ারি ২০২৩ ||  মাঘ ১৫ ১৪২৯

ইউক্রেন ইস্যুতে মুখোমুখি রাশিয়া যুক্তরাষ্ট্র

অলোক আচার্য || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৬:৫৫, ১ ফেব্রুয়ারি ২০২২   আপডেট: ১৭:০৩, ১ ফেব্রুয়ারি ২০২২
ইউক্রেন ইস্যুতে মুখোমুখি রাশিয়া যুক্তরাষ্ট্র

ইউক্রেন ইস্যুতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে বৈঠক

ইউক্রেন নিয়ে রাশিয়া এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সম্পর্ক ক্রমশ অবনতির দিকে যাচ্ছে। এবং এই জটিল পরিস্থিতি বড় ঝড়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে। গত তিন দশক ইউরোপ যুদ্ধের ঝুঁকিতে রয়েছে। পরাশক্তিগুলোর মধ্যে সামরিক উত্তেজনা সুখকর কোনো বিষয় নয়। যত দ্রুত এর সমাধান করা যায় তত মঙ্গল। যদিও ইউক্রেন ইস্যু নিয়ে সৃষ্ট জটিলতার সমাধান এতো তাড়াতাড়ি হবে না বলেই মনে হচ্ছে।

২০১৪ সালে ইউক্রেনে সামরিক অভিযান চালায় রাশিয়া। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ রাশিয়া আবারও একটি অজুহাত তৈরি করে ইউক্রেনে হামলা করবে। এই পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব। আর সেটা কেবল আলোচনার মাধ্যমেই। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলদিমির জেলেনস্কি একটি ত্রিপক্ষীয় আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছেন। শান্তিপূর্ণ সমাধানে এ ধরনের আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে একটি বা দুটি নয় যতক্ষণ না পরিস্থিতি স্বাভাবিক হচ্ছে ততক্ষণ আলোচনা চালিয়ে যেতে হবে। কারণ ইউক্রেন ইস্যুতে এই দুই পরাশক্তি ক্রমশই গভীরভাবে জড়িয়ে পড়ছে।

এই পরিস্থিতি পৃথিবীকে আরও একবার শীতল যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এই যুদ্ধ কতটা সর্বাত্মক হতে পারে অর্থাৎ রাশিয়া যদি ইউক্রেনে সামরিক অভিযান চালায় তবে তার মাত্রা কী হবে এবং বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের প্রতিক্রিয়া কী হবে তার ওপর যুদ্ধের ভয়াবহতা নির্ভর করছে। আবার অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার মতো সিদ্ধান্তও আসতে পারে। এটা হলেও রাশিয়া আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হবে। যুদ্ধ মানে ধ্বংস এবং ক্ষতি। সাধারণ মানুষের জীবনের ওপর চাপ বাড়ে।

এর মধ্যে যুক্তরাজ্য ইউক্রেনকে সম্ভাব্য আগ্রাসন থেকে আত্মরক্ষার জন্য ট্যাঙ্কবিধ্বংসী অস্ত্র সরবরাহ করেছে। তবে যুদ্ধ বন্ধের পক্ষে রয়েছে সবাই। শেষ পর্যন্ত যদি কোনো কার্যকর সমাধান বেরিয়ে আসে তাহলে এ পরিস্থিতি এড়ানো যাবে। না হলে বিপর্যয় নেমে আসতে পারে ওই অঞ্চলে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন মনে করে, রাশিয়া ইউক্রেনে হামলা চালালে তা একতরফা যুদ্ধ হবে না। ইউক্রেন সীমান্তে রাশিয়া প্রায় এক লাখ সৈন্য সমাবেশ ঘটিয়েছে। এর ফলে ইউক্রেনে হামলার বিষয়টি আরো বেশি আলোচনায় এসেছে। তবে মস্কোর পক্ষ থেকে এখনও ‘হামলার পরিকল্পনা নেই’ বলা হচ্ছে। এটিই হলো সবচেয়ে বড় আশার কথা।

প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর পৃথিবী একটি স্থায়ী শান্তিপূর্ণ সমাজব্যবস্থা গড়ে তুলতে চেয়েছিল। সে লক্ষ্যেই বিভিন্ন জোট ও সংস্থা গড়ে ওঠে। ভারসাম্য বজায় রাখতে নানা কৌশল অবলম্বন করা হয়। সামরিক খাতে ব্যয় বৃদ্ধি করা হয়। নতুন অস্ত্র তৈরি এবং আধুনিকায়নে জোর দেওয়া হয়। কিন্তু বিশ্বের পরাশক্তিগুলো কখনোই কর্তৃত্ববাদী মনোভাব থেকে বের হয়ে আসতে পারেনি। শাসন এবং শোষণের মনোভাব থেকে না বের হয়ে বরং পাওয়ার পলিটিক্সের খেলায় মেতেছে। ক্ষমতা যার শাসন তার হাতে- এরকম একটি চিন্তাধারা চলে আসে। সামরিক খাতে নতুন নতুন অস্ত্র যোগ করা এবং বিশ্ব প্রতিযোগিতায় নিজেকে উপযুক্ত করে গড়ে তোলা এখন প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বের প্রবণতা। প্রত্যেকেই যার যার মতো করে নিজের সুরক্ষায় ব্যস্ত।

তারপরও ইউক্রেনে হামলা হলে যুক্তরাষ্ট্র তার মিত্রদের নিয়ে বসে থাকবে না। জার্মানি এবং ফ্রান্সও রাশিয়ার প্রতি কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছে। এখন পর্যন্ত আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খোঁজার চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র। ইউক্রেন সফরে এসেও মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্লিনকেন সমস্যাটির কূটনৈতিক এবং শান্তিপূর্ণ সমাধানের বিষয়ে আশা প্রকাশ করেছেন।

আর যদি অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয় তাহলেও তার একটি দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব থাকবে। পশ্চিমাদের সঙ্গে রাশিয়ার স্নায়ু উত্তেজনা চলতেই থাকবে। এবং এই উত্তেজনা সারা বছরই পৃথিবীকে সমস্যায় ফেলবে। অথচ এই মুহূর্তে পৃথিবীতে যুদ্ধের চেয়ে বেশি দরকার মহামারি ঠেকানো। অনেক বেশি জরুরি পৃথিবীকে বাসযোগ্য করা। পৃথিবীতে বহু মানুষ আজ আশ্রয়হীন, খাদ্য নিরাপত্তায় ভুগছে। বহু শিশু মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশগুলো পুনর্গঠন জরুরি।

লেখক: শিক্ষক ও মুক্তগদ্য লেখক
 

/তারা/ 

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়