ঢাকা     শুক্রবার   ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ||  মাঘ ২০ ১৪২৯

যে হাত দিয়ে মারবে, সে হাত ভেঙে দিতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৬:১৩, ৮ ডিসেম্বর ২০২২   আপডেট: ১৬:৩৩, ৮ ডিসেম্বর ২০২২
যে হাত দিয়ে মারবে, সে হাত ভেঙে দিতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে যৌথসভায় নেতারা

সারা দেশে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের পাড়া-মহল্লায় সতর্ক অবস্থান নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন দলের সভাপতি শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, ‘সেই পঁচাত্তর থেকে একুশ বছর শুধু মার খেয়েছি। ২০০১ থেকে ২০০৮ পর্যন্ত শুধু মার খেয়েছি। এবার যে হাত দিয়ে মারবে, সেই হাত ভেঙে দিতে হবে।’

বিএনপির অগ্নিসন্ত্রাসের চিত্র স্মরণ করিয়ে দিয়ে শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘যে হাত দিয়ে মানুষকে আগুন দিতে আসবে, সেই হাত আগুনে পোড়াতে হবে। পোড়ার যন্ত্রণাটা তাদের বুঝিয়ে দিতে হবে।’

‘এখনও পোড়া মানুষগুলোর অবস্থা দেখলে চোখে পানি আসে। মা দেখে চোখের সামনে স্বামী-সন্তান পুড়ে যাচ্ছে। এদের কীসের ক্ষমা, এদের আর ক্ষমা নাই’, বলেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (৮ ডিসেম্বর) দুপুরে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের সম্পাদকমণ্ডলীর সঙ্গে ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক এবং ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়রের যৌথসভায় গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে এসব কথা বলেন শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বার বার আঘাত দেবে, আর আমরা চুপ করে বসে থাকব, সেদিন আর নেই। এতদিন চুপ করে বসেছিলাম কেন, বাংলাদেশকে একটা লেভেলে আমরা নিতে চাই, এজন্য। আজকে দেশের অর্জনটা হয়ে গেছে। কাজেই আজকে বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য নিয়ে আমরা ছিনিমিনি খেলতে দেবো না।’

এ সময় এলাকায়ভিত্তিক নেতাকর্মীদের মাঠে থাকার নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, ‘জ্বালাও-পোড়াও, হত্যা, মানিলন্ডারিং এদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। বাংলাদেশের মানুষের শান্তিকে বিনষ্ট করতে দেওয়া হবে না।’

‘সবাই প্রস্তুত থাকবেন, বাংলাদেশের কোনো মানুষের একটা ক্ষতিও যেন করতে না পারে। সবাইকে বলে দেবেন, তারাও যেন প্রতিবাদ করে। এর আগে বহু যন্ত্রণা দিয়েছে তারা। আমরা অনেক সহ্য করেছি। এভাবে আমার কৃষক-শ্রমিক, আমাদের নেতাকর্মী—কারও গায়ে হাত দিলে আর ক্ষমা নাই।’

সরকারপ্রধান বলেন, ‘এরা (বিএনপি) কিভাবে অত্যাচার করেছে, সেটা তুলে ধরতে হবে। বিএনপির অপকর্ম তুলে ধরতে হবে। আমাদের যেসব নেতাকর্মী বিএনপির হাতে মার খেয়েছে, তাদের বসে থাকলে তো চলবে না। মানুষকে জানাতে হবে, ওরা কী করতে পারে, কী করে। বসে বসে আর মার খাওয়া যাবে না, এটাও ঠিক।’

‘অগ্নিসন্ত্রাসীদের, স্বাধীনতাবিরোধীদের আর ক্ষমতায় আসতে দেওয়া যাবে না, এটা পরিষ্কার কথা। ওরা আমাদের উৎখাত করবে? ওরা পকেট থেকে এসেছে, আবার পকেটেই থাকবে। গণতন্ত্রের কথা ওদের মুখে মানায় না। এবার যেন আর কোনো বিআরটিসির বাস পোড়াতে না পারে। যেটা পোড়াতে যাবে, এখন তো সবার হাতে ক্যামেরা, ভিডিও ফুটেজ দেখে যেই হাতে আগুন দেবে, সেই হাত সঙ্গে সঙ্গে পুড়িয়ে দিতে হবে। কোনোদিন বলিনি, এখন বলব। আর মার খাওয়ার সময় নাই।’

আওয়ামী লীগের সভাপতি বলেন, ‘২০০১ সালের নির্বাচনের পরপরই একেকজনে বাড়ি দখল করে রাতারাতি পুকুর কেটে কলাগাছের বাগান করেছে। মেয়েদের ওপর পাশবিক অত্যাচার করেছে। ছয় বছরের মেয়ে থেকে শুরু করে ৬০ বছরের বৃদ্ধ পর্যন্ত তাদের হাত থেকে রক্ষা পায়নি। সেই পূর্নিমা, ফাহিমা থেকে শুরু করে সারা বাংলাদেশের কত নাম বলব, সবার চিকিৎসা করতে হয়েছে। অনেকে লজ্জায় নাম প্রকাশ করেনি। ২০০১ সালে যে অত্যাচারটা আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর করেছে, আমরা ২০০৯-এ ক্ষমতায় আসার পর গুনে গুনে সেই অত্যাচারের জবাব দিতে পারতাম, সেই ক্ষমতা আওয়ামী লীগ রাখে। কই আমরা তো করি নাই। আমরা তো তাদের ওপর এভাবে অত্যাচার-নির্যাতন করতে যাইনি।’

‘২০১৩, ১৪, ১৫ সালে তারা আগুনে পুড়িয়ে মারা শুরু করলো। আমরা বাংলাদেশটাকে উন্নয়নের দিকে এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি। অত্যন্ত সফলভাবে তা করতে পেরেছি। খুব বড় গলায় বলে—তিনবারের প্রধানমন্ত্রী। তারা তাদের কোনো ইশতেহার বাস্তবায়ন করতে পেরেছে? বাস্তবায়ন করতে পারে নি। এটা হচ্ছে বাস্তবতা।’

বিএনপির সরকার পতনের হুমকি উড়িয়ে দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ভেসে আসেনি, আওয়ামী লীগ মাটি ও মানুষের সংগঠন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর নিজ হাতে গড়া সংগঠন। বিএনপির জন্ম কোথায়? জিয়াউর রহমানের কুর্দি পরা পকেটে। পকেট থেকে কাগজ বের হয়েছে এমন সংগঠন। আওয়ামী লীগ কারও পকেটের সংগঠন না। এটা তাদের মাথায় রাখা উচিত। পকেটের সংগঠন, সেই কারণে তাদের মাটিতে কোনো শেকড় নাই।’

‘তারা হলো স্বর্ণলতার মতো, যে গাছে ওঠে সে গাছ খেয়ে শেষ করে দেয়, এটা হলো বিএনপি। যে গাছের ওপরে স্বর্ণলতা ওঠে, সে গাছে আর কোনো ফল ধরে না। বিএনপি দেশের ওপর উঠেছিল, দেশটাকে খেয়ে ফেলেছে। আওয়ামী লীগ আসার পরে দেশের উন্নতি হয়েছে। কারণ, উন্নতি করার জন্য একটা মানসিকতা থাকা দরকার। আওয়ামী লীগ মানুষকে দিতে এসেছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি-জামাত ক্ষমতায় আসলে বাংলাদেশ আবার পিছিয়ে যাবে। উন্নয়শীল দেশ থাকবে না, আবার স্বল্পোন্নত দেশ হয়ে যাবে। জনগণকে তাই বুঝতে হবে। আমাদের যারা আঁতেল আছে, তারা শুধু বাংলাদেশের খারাপ দিক দেখে। তাদেরকে এটা বোঝাতে হবে যে, বিএনপির ওই সামর্থ-শক্তি নাই, পরিকল্পনা নাই। চিন্তা নাই, নীতি নাই, আদর্শ নাই। তাদের আছে মাথায়, মানুষ খুন করা, অর্থ লুট করা, অর্থপাচার করা, এটাই তারা পারে। আওয়ামী লীগ মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য জন্মগ্রহণ করে এ দেশের মাটি-মানুষ থেকে। এজন্য এ দেশের মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা আছে আমাদের।’

ক্ষমতায় আসতে বিএনপি বিদেশি সংস্থার কাছে ধর্না দিচ্ছে, উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘কথায় কথায় অন্য দেশের প্রতি ধর্না দিয়ে...। হ্যাঁ, একবার তারা ধর্না দিয়ে সফল হয়েছিলো ২০০১-এ। এখনও ভাবছে, সেটাই পারবে। বাংলায় একটা কথা আছে—গোটে ডাল ফোটে না। আগাম গোটা দিলে সেই ডাল ফোটে না। এটা বোধহয়, তারা জানে না। এখন আর হবে না। আমরাও জানি, কী করতে হবে।’

সভায় বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ প্রান্তে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, হাছান মাহমুদ, আ ফ ম বাহাউদ্দীন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, মির্জা আজম, এসএম কামাল হোসেন, দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, উপ-দপ্তর সায়েম খান উপস্থিত ছিলেন।

পারভেজ/রফিক

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়