ঢাকা     মঙ্গলবার   ২১ মে ২০২৪ ||  জ্যৈষ্ঠ ৭ ১৪৩১

বিএনপিকে সাধু বানাতে প্রচারের দায়িত্ব নিয়েছে ‘প্রথম আলো’: কাদের

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৪:৫৯, ১ এপ্রিল ২০২৩   আপডেট: ১৫:১৮, ১ এপ্রিল ২০২৩
বিএনপিকে সাধু বানাতে প্রচারের দায়িত্ব নিয়েছে ‘প্রথম আলো’: কাদের

সরকারের উন্নয়ন অর্জনের বিরুদ্ধে ব্যর্থতাকে বড় করে দেখাতে প্রথম আলো পত্রিকা বিএনপির সহযোগী হিসেবে প্রচার-প্রচারণার দায়িত্ব পালন করছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

শনিবার (১ এপ্রিল) রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে দলের এক যৌথসভায় এ কথা বলেন তিনি।

ওবায়দল কাদের বলেন, ‘প্রথম আলো আর বিএনপি একজন আরেকজনকে সাপ্লিমেন্টরি করেন। টার্গেট হচ্ছে সরকার, টার্গেট শেখ হাসিনা, টার্গেট গণতন্ত্র, টার্গেট আগামি নির্বাচন ভন্ডুল করা।  প্রথম আলো এজেন্ডা নিয়ে মন্ত্রণালয়ের ব্যর্থতা নিয়ে রিপোর্ট করা শুরু করেছে। নেতাদের ধরছে, এমপিদের ধরছে, এভাবে তারা মন্ত্রণালয়কে ধরছে। একেকদিন একেক মন্ত্রণালয়ের বিরুদ্ধে রিপোর্ট করবে এমন এজেন্ডা তাদের রয়েছে। মন্ত্রণালয়কে ব্যর্থ প্রমাণ করে রিপোর্ট করছে।’

‘পাশাপাশি প্রথম আলোর এই রিপোর্ট সাপলিমেন্ট করছে মির্জা ফখরুল। মির্জা ফখরুল ওই মন্ত্রনালয়ের মন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করছে। এভাবে তারা আজকে বাংলাদেশে একটি জনপ্রিয় সরকারকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য বিশ্ব সমাজের কাছে খাটো করার জন্য, এই সরকারকে জনবিচ্ছিন্ন করার জন্য, আজকে বিশ্বের বন্ধু রাষ্ট্রগুলো থেকে বিচ্ছিন্ন করার জন্য হেন কোনো তৎপরতা নেই- যা বিএনপি নামক দল এবং প্রথম আলো নামক পত্রিকাটি না করছে।”

তিনি বলেন, ‘কেউ আইনের উর্ধ্বে নয়। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্রিমিনাল চার্জ ইনভেস্টিগেশন হচ্ছে। তিনি গ্রেপ্তারও হতে পারেন। তাহলে দশ টাকা দিয়ে শিশুকে দিয়ে যে ঘটনা ঘটিয়েছে এটা কি শাস্তিযোগ্য অপরাধ নয়? এই অপরাধ কি ক্ষমার যোগ্য? ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ এসেছে এটা তার চেয়েও জঘন্য। বিএনপিকে সাধু বানানোর জন্য প্রচার-প্রচারণামূলক দায়িত্ব প্রথম আলো নিয়েছে।’

স্বাধীনতা দিবসে সমালোচিত সংবাদ ও শিরোনামকে মিথ, বানোয়াট, ষড়যন্ত্র ও দুরভিসন্ধিমূলক অভিহিত করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, এটা সাংবাদিকতার নীতিমালার চরম অপমান। প্রথম আলোর সংবাদটি যে ভাষায় একটি দিনমজুরের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রকাশ করেছে একটি সাধারণ কোনো দিনমজুরের বক্তব্য নাকি প্রথম আলোর দেওয়া বয়ান সেটি ভাববার সময় এসেছে। সাত বছরের একটি শিশুকে ১০টাকা ঘুষ দিয়ে তাকে অসৎ পথে পরিচালিত করা কি দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা?

‘ত্রিশ লাখ শহীদের আত্মত্যাগ, লক্ষাধিক মা বোনের সম্ভ্রমহানির বিনিমিয়ে অর্জিত স্বাধীনতা দিবসে প্রথম আলোর এই উদ্যোগ জাতিসত্তা বিনাশী অপতৎপরতা নয় কি? স্বাধীনতা দিবস তরুণ প্রজন্মের কাছে দেশপ্রেম ও দেশত্ববোধ সৃষ্টির এক অনন্য দিন। অথচ এই দিনে পলিটিক্যালি সিলেক্টেড বিশেষ এক এজেন্ডা সেটিংয়ের উদ্দেশ্য কি? এই সংবাদ কি মহান মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ অর্জনকে অস্বীকার করার শামিল নয়?’

হীন রাজনৈতিক স্বার্থে এই ঘটনা জাতিসংঘের শিশু অধিকার সনদেরও পরিস্কার পরিপন্থি উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘ঐতিহ্যগতভাবে দৈনিকটি এক বিশেষ স্বার্থান্বেষী মহলের এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য যে কাজটি নিষ্ঠার সঙ্গে করে থাকে, তা হচ্ছে আওয়ামী লীগ, বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ঘৃণা ছড়ানোর জন্য কুৎসামুলক সংবাদ পরিবেশন করে। তারা বরাবরই বিরাজনীতিকরণের উদ্যোগ গ্রহণ করে আসছে। আমাদের ভুলে গেলে চলবে না এভাবেই ঘুষ দিয়ে ব্রহ্মপুত্রপাড়ের চিলমারীর প্রতিবন্ধী নারী বাসন্তীকে ১৯৭৪ সালে ১০ টাকার শাড়ি খুলে ৩’শ টাকার জাল পরিয়ে কৃত্রিম দুর্ভিক্ষ দেখিয়ে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পটভূমি রচনা করা হয়েছিলো। বঙ্গবন্ধু হত্যার পর প্রায় তিনদশক বাংলাদেশে গভীর অন্ধকারে নিমজ্জিত রাখা হয়েছিলো।’

এ সময় তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতা দিবসের দিন অন্যান্য দেশে দেখি সে দেশের গণমাধ্যমে উদ্দীপনামূলক, অনুপ্রেরণামুলক বাণী দিয়ে নতুনভাবে দেশকে ভালোবাসার উৎসাহ যোগায়। অথচ দৈনিক প্রথম আলো তাদের নিজস্ব ও প্রভুদের ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নের জন্য জাতির সামনে মিথ্যা সংবাদ পরিবেশন করে তরুণ প্রজন্মের মনে হতাশা ক্ষোভ সৃষ্টি করার জন্য উস্কানি দেয়ার অপচেষ্টা করেছে।’

স্বাধীনতা দিবসে এই ধরনের কর্মকাণ্ড শুধু অনৈতিক কাজই নয়, ফৌজদারি অপরাধ উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘অনেকে বলেছে এটা তাদের একটা ভুল। তাদের উদ্দেশ্য বলতে চাই, স্বাধীনতা দিবসের দিনে বাঙালি জাতির ৫২ বছরের অর্জন মর্যাদা নিয়ে তামাশা করা সাধারণ কোনো ভুল নয়। এটা শুধু একটি অনৈতিক কাজই নয়, বরং একটি ফৌজদারি অপরাধ।’

‘যেখানে সুস্পষ্টভাবে স্বাধীনতা দিবসের দিন জাতিকে বিভক্ত করার উস্কানি রয়েছে এবং দেশে নৈরাজ্য-অশান্তি সৃষ্টি করে একটি মহলের ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের সুনির্দিষ্ট এজেন্ডা বাস্তবায়নের অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। এটা দেশের কোনো বিবেকবান মানুষের না বোঝার কথা নয়। এই চিহ্নিত দৈনিকের প্রকাশক ও সম্পাদক কি দায় এড়াতে পারেন? তারা কি তাদের এই গর্হিত অপরাধের জন্য দুঃখপ্রকাশ করেছেন অথবা ক্ষমা চেয়েছেন? কোনোটাই করেননি। চরম ঔদ্ধত্য তারা দেখিয়েছেন।’

এ সময় ‘রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার’ নামের একটি সংগঠনের বিবৃতির সমালোচনা করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘এই প্রতিষ্ঠান বলছে, সাংবাদিকদের ভয় দেখানো জন্যই সরকার এই ধরনের মামলা করেছে প্রথম আলোর সম্পাদকের বিরুদ্ধে। সরকার এখানো কোনো মামলা করেনি। মামলা সাধারণ একজন নাগরিকও করতে পারে, সংক্ষুব্ধ নাগরিক। কিন্তু সরকার এখানে কোনো মামলা করেছে এটা সর্বৈব মিথ্যা। আর ভয় দেখানোর কথা বলা হচ্ছে, কাকে ভয় দেখাবো। যাকে ভয় দেখানোর কথা বলা হচ্ছে, তিনি এই দেশের মানুষকে ভয়ের মধ্যেই রাখতে চেয়েছিলেন। তিনি এই দেশে রাষ্ট্রযন্ত্রকে ভয় দেখিয়েছিলেন। এই দেশের রাজনীতিকে ভয় দেখিয়েছিলেন, এই দেশের সাংবিধানিক সরকারকে ভয় দেখিয়েছিলেন, অসাংবিধানিক সরকারের পক্ষে ওকালতি করেছেন, তাদের পক্ষে কাজ করেছেন। এক-এগারো কি আমাদের মনে নেই। কে কাকে ভয় দেখায়? তিনিই তো এই দেশে ভয় দেখিয়েছেন, ঔদ্ধত্য দেখিয়েছেন, বিরাজনীতিকরণের ফয়সালা নিয়ে পত্রিকায় রিপোর্ট করেছেন, সম্পাদকীয় লিখেছেন। সেগুলো আমরা কি ভুলে গেছি? সেদিন কি বহু আগে?’

এ সময় ব্লুমবার্গসহ বিশ্বের নামকরা বিভিন্ন গণমাধ্যমে সরকারের উন্নয়ন-অর্জন এবং দেশ পরিরচালনায় সফলতার প্রতিবেদন তুলে ধরে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আজকে বাইরে সরকারে উন্নয়ন অর্জনের প্রশংসা আর দেশের অভ্যন্তরে ষড়যন্ত্র। গণতন্ত্রকে বিঘ্নিত করা।’

এ সময় বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার কারণে এবার দলের বিভিন্ন ইফতার মাহফিল না করে কৃচ্ছতা সাধনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা নেতাকর্মীদের কাছে তুলে ধরেন তিনি।

রাজধানীর পল্লবীতে ইফতারির দাওয়াতে সাংবাদিকদের মারধরের বিষয়টি তুলে ধরে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘এ ঘটনায় মির্জা ফখরুল দাঁড়িয়ে প্রথমে দুঃখপ্রকাশ করে সাংবাদিকদের কাছে ক্ষমা চান। পরপরই বলে আওয়ামী লীগের গুন্ডারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে। নিজেরা গোলমাল করে আওয়ামী লীগের ওপর দায় চাপায়। এই মিথ্যাচারের রাজনীতি বিএনপি করছে। এর সহযোগী হচ্ছে প্রথম আলো।’

দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি নিয়ে রিপোর্ট করায় সাংবাদিকদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে দেশের বাইরে এগুলো ছড়ানো হয়েছে উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি নিয়ে কয়েকমাস আমাদের দেশের পত্রিকায় টকশোতে কথা বলেছে। এজন্য সরকার কি একজনের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিয়েছে? সাংবাদিকরা আমাদের শত্রু  নয়। কিন্তু প্রথম আলো আমাদের সঙ্গে শত্রুতা করছে। বিএনপিকে আমরা ভাবি প্রতিপক্ষ, বিএনপি আমাদের ভাবে শত্রু।’

আগামী নির্বাচনে শেখ হাসিনার সঙ্গে পারবে না জেনেই বিএনপি ষড়যন্ত্র করছে বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘তারা (বিএনপি) নিজেরা নির্বাচনে যাবে না, আর নির্বাচন করতেও দেবে না। আমরা দেখবো কারা এসে বাধা দেয়। আমরা প্রস্তুত আছি। আমাদের হাতিয়ার মুক্তিযুদ্ধের হাতিয়ার।’

‘চলমান সংকটে বিএনপি জাতিসংঘের সহায়তা চায়’-এমন প্রশ্নে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘তারা সহায়তা চাইতে পারে। কিন্তু একটি দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে জাতিসংঘের হস্তক্ষেপ করার কোনো নিয়ম বা এটি কোনো আওতায় পরে বলে আমার জানা নেই। এটা তাদের বিভিন্ন দেশের কাছে যে নালিশের রাজনীতি- সেটারই অংশ। তারা এই নালিশ করেই যাচ্ছে।’

এ সময় আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য আব্দুর রাজ্জাক, অবসরপ্রাপ্ত লেফটেনেন্ট কর্নেল ফারুক খান, শাজাহান খান, মোফাজ্জেল হোসেন চৌধুরী মায়া, মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন,  যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ,  মাহবুব উল আলম হানিফ, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, সুজিত রায় নন্দী, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ইঞ্জি. আব্দুস সবুর, প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক আব্দুস সোবহান গোলাপ, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন, উপ দপ্তর সায়েম খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ও উত্তর আওয়ামী, কৃষক লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, যুবলীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, যুব মহিলা লীগ ও ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

পারভেজ/টিপু 

আরো পড়ুন  



সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়