ঢাকা     শুক্রবার   ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ||  মাঘ ২০ ১৪২৯

পা দিয়ে লিখেই মানিক পেলেন জিপিএ-৫

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি  || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৭:১৫, ২৮ নভেম্বর ২০২২   আপডেট: ১৭:২২, ২৮ নভেম্বর ২০২২
পা দিয়ে লিখেই মানিক পেলেন জিপিএ-৫

মানিক রহমান।

জন্ম থেকেই মানিক রহমানের ছিল না দুই হাত। বাম পা প্রায় ৬ ইঞ্চি খাটো হওয়ায় চিন্তায় দিশেহারা হয়ে পড়েন তার বাবা মা। অনেক পরিশ্রম করে ছেলেকে স্কুলে পাঠাতে পেরেছিলেন তারা। স্কুলের ক্লাসে  নিজেদের চকিতে আলাদাভাবে বসিয়ে পায়ের আঙ্গুলের সাহায্যে লিখতে শেখান মানিকে। এরপর আর পিছে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। পর্যাক্রমে  সুস্থ ও স্বাভাবিক অন্যান্য শিক্ষার্থীর মতোই লড়াই করে শিশু শ্রেণি থেকে প্রতিটি পরীক্ষায় সফলতার সঙ্গে উত্তীর্ণ হন তিনি। 

চলতি বছর এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন মানিক। সোমবার (২৯ নভেম্বর) প্রকাশিত ফলাফলে জিপিএ-৫ পেয়েছেন তিনি। 

শুধু পা দিয়ে লেখাই নয় মানিক পা দিয়ে মোবাইল চালানো এবং কম্পিউটার টাইপিংয়েও পারদর্শী। তার স্বপ্ন ভবিষ্যতে কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার হয়ে বাবা-মায়ের স্বপ্ন পূরণ করা।

অদম্য মেধাবী মানিকের বাড়ি কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার সদর ইউনিয়নের চন্দ্রখানা গ্রামে। তিনি ওষুধ ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান ও রাবাইতারী স্কুল এন্ড কলেজের প্রভাষক মরিয়ম বেগমের ছেলে।

মানিক ফুলবাড়ী জছিমিঞা মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি ফুলবাড়ী পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে পরীক্ষা অংশগ্রহণ করেছিলেন। 

বাবা-মায়ের বড় ছেলে মানিক জন্ম থেকেই শারীরিক প্রতিবন্ধী। তার দুটি হাত নেই। একটি পা অন্যটির চেয়ে অনেকাংশে খাটো। বাবা মায়ের একান্ত চেষ্টায় পিছিয়ে যায়নি মানিক। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা থাকলেও পিইসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ সহ ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছিলেন তিনি।  

মানিকের মা মরিয়ম বেগম বলেন, ‘আমার ছেলেন জন্মগতভাবে দুই হাত নেই। দুই পায়ের মধ্যে বাম পা প্রায় ৬ ইঞ্চি খাটো। তাকে নিয়ে চিন্তায় দিশেহারা ছিলাম। অনেক কষ্ট করে স্কুলে পাঠানো হয় ওকে। লেখাপড়ায় ভালো হওয়ায় প্রথম শ্রেণি থেকে এক রোল হয় মানিকের। লেখা পড়ায় আগ্রহ ছিল তার বেশি।’  

মানিকের বাবা মিজানুর রহমান বলেন, ‘ছোট বেলা থেকে লেখাপড়ার আগ্রহ ছিলে মানিকের। হামাগুড়ি দিয়ে কলম ধরতে ও টেলিভিশনের রিমোট ধরার চেষ্টা করতো সে। কার্টুন দেখে মজা পেত। স্কুলের সময়ের আগে গোসল করতো। আর ক্লাস শুরুর আগে স্কুলে পৌঁছাতে হতো তাকে। প্রতিদিন একই ঘরে রাত ১১টা পর্যান্ত  লেখাপড়া করতো।’ 

ফুলবাড়ী জছিমিঞা মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবেদ আলী খন্দকার বলেন, শারীরিক প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও মানিক অন্যান্য শিক্ষার্থীদের চেয়ে ভাল ফলাফল করেছে। আমরা মুগ্ধ। এবারেও বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ভাল ফলাফল করায় আমরা খুশি হয়েছি।’ 

মাসুদ

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়