ঢাকা     মঙ্গলবার   ১০ মার্চ ২০২৬ ||  ফাল্গুন ২৫ ১৪৩২ || ২০ রমজান ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

ঘাস চাষে বছরে ১৪ লাখ টাকা উপার্জন মনিরের

অমরেশ দত্ত জয়, চাঁদপুর || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৭:২৭, ২৬ জানুয়ারি ২০২৫   আপডেট: ১৭:৩৩, ২৬ জানুয়ারি ২০২৫
ঘাস চাষে বছরে ১৪ লাখ টাকা উপার্জন মনিরের

মেক্সিকান বারমুডা লং কার্পেট ঘাস চাষ করে সফল হয়েছেন চাঁদপুরের মনির হোসেন

সৌন্দর্যবর্ধক ঘাস চাষ করে চাঁদপুরের মনির হোসেন নিজের ভাগ্যবদল করেছেন। অনলাইনেই বিক্রি হচ্ছে তার চাষকৃত ঘাস। তার সাফল্যে অনুপ্রাণিত হয়ে অনেকেই এখন তার কাছে ঘাস চাষ শিখতে আসছেন।

রবিবার (২৬ জানুয়ারি) চাঁদপুর সদরের বালিয়া ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের দক্ষিণ বালিয়া গ্রামে সরেজমিনে গিয়ে দেখা মিললো মনির হোসেনের।

মনির হোসেন চাঁদপুর সদরের বালিয়া ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের মোহাম্মদ আবু তাহের গাজী ও মনি বেগমের ছেলে। ৩৮ বছর বয়সী মনির পরিবারে তিন ভাই ও এক বোনের মধ্যে সবার বড়। আয়ের পথ না পেয়ে মনির ২০১৩ সালে বাহারাইন চলে যান।  সেখানে বাগানে কাজ করতেন। 

২০১৮ সালে দেশে ফিরে বেকার বসে ছিলেন। ২০২০ সালে মেক্সিকো থেকে লং কার্পেট ঘাস আমদানি করেন তিনি। সেই ঘাস লাগিয়ে বর্তমানে বছরে ১২ থেকে ১৪ লাখ টাকা আয় করছেন। স্ত্রী, দুই মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে সুখের সংসার তার।

মনিরের ঘাসচাষে নিয়োজিত শ্রমিক পারভেজ জানান, বছর তিনেক আগে আমদানিকৃত সেই মেক্সিকান বারমুডা লং কার্পেট ঘাস থেকেই নতুন ঘাসের জন্ম হয়। এরজন্য নির্দিষ্ট কোনো বীজের প্রয়োজন নেই। জমি প্রস্তুতকালে প্রথমে জমির মাটি লেভেলের পর তাতে প্লাস্টিক বিছানো হয়। তার উপর মাটি ফেলে পানি দিয়ে মাটি ভিজিয়ে কাদামাটি করা হয়। সে মাটির ওপরে টুকরো টুকরো ঘাস লাগানো হয়। ঘাস উঠানোর আগে দুয়েকবার আগাছা পরিষ্কার করে দিতে হয়। এরপর ঘাস বিক্রির উপযোগী হয়।

এই কাজে ৫০/৬০ জনের কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে। তারা জমি প্রস্তুত, ঘাস বাছাই, আগাছা পরিষ্কার, পরিবহন কাজে নিয়োজিত রয়েছেন। ঢাকা, বরিশাল, যশোরসহ দূর-দূরান্তে এসব ঘাস ট্রাকযোগে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।

উদ্যোক্তা মো. মনির হোসেন বলেন, ‍“মেক্সিকান বারমুডা লং কার্পেট ঘাস মূলত সৌন্দর্য বর্ধনে কাজে আসে। অনলাইনের সোশ্যাল মিডিয়ায় এটি প্রমোট করি। রুচিশীল মানুষরা এ ঘাস পছন্দ করেন। নিজেদের বাড়ির আঙিনাসহ খেলার মাঠ বা রাস্তার দুপাশে লাগাচ্ছেন। প্রথমদিকে পরিবারসহ এলাকাবাসী এ কাজকে গুরুত্ব না দিলেও এখন ঘাসচাষে বছরে ১২ থেকে ১৪ লাখ টাকা আয়ের এই সফলতাকে প্রশংসার চোখেই দেখছেন সবাই।”

তিনি আরো বলেন, ‍“বর্তমানে আমি দক্ষিণ বালিয়া ছাড়াও ইচুলী, লক্ষীপুর ও মোহনপুরে সব মিলিয়ে প্রায় ২০ একর জমি লিজ নিয়ে এ ঘাস চাষ করছি। যদি ঋণ সহায়তা এবং প্রশাসন হতে খাস জমি বরাদ্দ পাই, তাহলে আমি এ ব্যবসা আরও প্রসার ঘটিয়ে বহু মানুষের কর্মসংস্থান করতে পারব।”

এ বিষয়ে চাঁদপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “লং কার্পেট ঘাসচাষ পদ্ধতি পরিদর্শন করে খাস জমি বরাদ্দসহ মনিরের মতো উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগে সহায়তার আশ্বাস দিচ্ছি। তার এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই।”

ঢাকা/এস

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়