ঢাকা     মঙ্গলবার   ১০ মার্চ ২০২৬ ||  ফাল্গুন ২৫ ১৪৩২ || ২০ রমজান ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

ইবি শিক্ষিকা হত্যার পঞ্চম দিনেও ধরা ছোঁয়ার বাইরে ৩ আসামি

ইবি সংবাদদাতা || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৩:১৬, ১০ মার্চ ২০২৬   আপডেট: ১৩:২৫, ১০ মার্চ ২০২৬
ইবি শিক্ষিকা হত্যার পঞ্চম দিনেও ধরা ছোঁয়ার বাইরে ৩ আসামি

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনা হত্যার ৫ম দিন আজ। গত বুধবার (৪ মার্চ) নিজ কক্ষে কর্মচারীর ছুরিকাঘাতে হত্যার শিকার হন তিনি। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) ইবি থানায় অভিযুক্ত কর্মচারী ফজলুর রহমানকে প্রধান আসামি করে ৪ জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন নিহতের স্বামী ইমতিয়াজুর সুলতান।

মামলার ৩ দিন চলে গেলেও হাসপাতালে ভর্তি প্রধান আসামী ফজলুর রহমান ছাড়া বাকি তিন জন ধরা ছোঁয়ার বাইরে। অন্য তিন জন আসামী হলেন- বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ বিভাগের সাবেক কর্মচারী ও উম্মুল মু’মিনীন আয়েশা সিদ্দিকা হলের সহকারী রেজিস্ট্রার বিশ্বজিৎ কুমার বিশ্বাস, সমাজকল্যাণ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শ্যাম সুন্দর সরকার এবং একই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হাবিবুর রহমান।

আরো পড়ুন:

এ বিষয়ে ইবি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাসুদ রানা সাংবাদিকদের জানান, ঘটনা পরবর্তী আমরা শিক্ষিকা ও প্রধান আসামী ফজলুকে অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে যাই। শিক্ষিকা মারা গেলে পরদিন ইবি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন নিহতের স্বামী। পরবর্তীতে প্রধান আসামী ফজলুকে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। তথ্য সংগ্রহের জন্য তার মোবাইল নম্বর আমরা পেয়েছি, কিন্তু ব্যক্তিগত মোবাইল পাওয়া যায়নি। হত্যার ঘটনায় ব্যবহৃত ছুরি কেনার উৎস এখনো জানা সম্ভব হয়নি।

বাকি আসামীদের গ্রেপ্তারের বিষয়ে তিনি জানান, মামলায় আসামি গ্রেপ্তার একটা অংশ। কিন্তু এর ভিতরে অনেকগুলো পার্ট আছে। যেমন ঘটনার আসামীদের সিসিটিভি সংগ্রহ করে ভিকটিমের সিসিটিভির সাথে তাদের যোগসূত্র খোঁজা। এর পরে যে ২য় আসামী, তার সাথে ১ম আসামীর মোবাইল নাম্বারগুলোকে অ্যানালাইসিস করে তার সাথে ব্যাকগ্রাউন্ডে আরো কারা কারা জড়িত আছে সেগুলো নিয়ে কাজ করা। আর গ্রেপ্তারের জন্য আমাদের টিম কাজ করতেছে।

দুই আসামীর দেশত্যাগের আশঙ্কার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, এই শঙ্কার প্রেক্ষিতে আমরা দ্রুত ব্যবস্থা নিব। আমরাও জানতে পেরেছি যে এরকমটা হতে পারে। তার জন্য আমরা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিবো।

আসামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মকর্তা হওয়ায় তাদের গ্রেপ্তারে কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন থেকে বাধা নিষেধ আছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, ক্রিমিনাল অফেন্সের ক্ষেত্রে কারো কোন বাঁধা দেওয়ার সুযোগ নেই, সে যেই হোক না কেন।

তিনি আরো বলেন, “এটা একটা বৃহৎ আকারের তদন্তের বিষয়। একটা আসামী গ্রেপ্তার করছি, তদন্ত শেষ হয়ে গেছে এ রকম না। আমরা চাই না কোন নিরপরাধ মানুষ হয়রানি হোক বা কোন অপরাধী পার পেয়ে যাক। এই তদন্তের সেক্টরটা হলো ব্যাপক বড়। এখানে নিহতের যে মোবাইল নাম্বারের সাথে আসামীদের মোবাইল নাম্বারগুলোর কোন যোগ সম্পর্ক আছে কি না তার পর্যালোচনা নিয়ে আমরা কাজ করছি।”

সভাপতি হওয়ার পর থেকেই নানামুখী অসহযোগিতার শিকার হয়েছেন নিহত শিক্ষিকা আসমা সাদিয়া। আর্থিক অনিয়ম মেনে না নেওয়ার কারণেই তাকে খুন করা ও খুনি ফজলুর সাথে কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ ও বিভাগীয় দুই শিক্ষক জড়িত আছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

অন্যদিকে, খুনি ও ষড়যন্ত্রকারীদের শাস্তির দাবিতে আন্দোলন গড়ে উঠছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস, কুষ্টিয়া শহর, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, মাওলানা ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয়, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে এই হত্যার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করছে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

প্রসঙ্গত, গত বুধবার (৪ মার্চ) ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদ ভবনে নিজ অফিস কক্ষে ছুরিকাঘাতে নিহত হন সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনা। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) ইবি থানায় বিভাগের সাবেক কর্মচারী ফজলুর রহমানকে প্রধান আসামি করে চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন নিহতের স্বামী ইমতিয়াজুর সুলতান। পরে পুলিশ অভিযুক্ত ফজলুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে সমাজকল্যাণ বিভাগের সাবেক কর্মচারী ও উম্মুল মু’মিনিন আয়েশা সিদ্দিকা হলের সহকারী রেজিস্ট্রার বিশ্বজিৎ কুমার বিশ্বাস, সমাজকল্যাণ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শ্যাম সুন্দর সরকার এবং একই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হাবিবুর রহমানকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

ঢাকা/তানিম/জান্নাত

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়