ঢাকা     শুক্রবার   ০১ মে ২০২৬ ||  বৈশাখ ১৮ ১৪৩৩ || ১৩ জিলকদ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

অধিকার সম্পর্কে শ্রমিকেরা সচেতন নন, বঞ্চিত ন্যায্য পাওনা থেকে

আরিফুল ইসলাম সাব্বির, সাভার || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৬:৫৫, ১ মে ২০২৬  
অধিকার সম্পর্কে শ্রমিকেরা সচেতন নন, বঞ্চিত ন্যায্য পাওনা থেকে

সাভারের আশুলিয়ার একটি পোশাক কারখানায় প্রায় সাড়ে চার বছর কাজ করেছেন সুলতানা আক্তার। গত বছরের নভেম্বরে কারখানাটি বন্ধ হয়ে যায়। ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো তিনি বকেয়া পাওনা বুঝে পাননি। কীভাবে তা আদায় করবেন সেটিও জানেন না।

সুলতানা বলেন, “কারখানা বন্ধ হওয়ার পর এখনো কোনো প্রাপ্য পাইনি। তিন মাস ১৩ দিনের বেতন পাওয়ার কথা ছিল। ফেডারেশন থেকে তিন মাসে ১৫ হাজার টাকা দেওয়ার কথা ছিল, সেটাও পাইনি। এখন বেকার আছি।”

আরো পড়ুন:

শুধু সুলতানা নন, সাম্প্রতিক সময়ে সাভার ও আশুলিয়ার বিভিন্ন কারখানা বন্ধ বা ছাঁটাইয়ের ঘটনায় অনেক শ্রমিক একই অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। শ্রমিক নেতাদের মতে, নিজেদের অধিকার সম্পর্কে অজ্ঞতার কারণে শ্রমিকেরা ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ অনুযায়ী কারখানা বন্ধ বা চাকরি অবসানের ক্ষেত্রে শ্রমিকদের বকেয়া বেতন, উৎসব বোনাস, অর্জিত ছুটির টাকা, ক্ষতিপূরণ ও গ্র্যাচুইটি দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। আইন অনুযায়ী, চাকরি অবসানের ৩০ দিনের মধ্যে এসব পরিশোধ করার কথা। তবে বাস্তবে এর প্রতিফলন খুব কমই দেখা যায়।

আশুলিয়ার আরেকটি কারখানার সাবেক শ্রমিক হাজেরা বেগম বলেন, “চার বছর চাকরি করেছি। কারখানা বন্ধের পর পাওনা পুরো পাইনি। আন্দোলন করেছি, কিন্তু কোনো ফল হয়নি।”

“বেতন, মাতৃত্বকালীন ভাতা ও ছুটির টাকার বেশির ভাগই এখনো বাকি। প্রতিশ্রুতি দিলেও রাখা হয়নি,” অভিযোগ করে বলেন শ্রমিক ইরানী আক্তার।  

বাংলাদেশ গার্মেন্টস ও সোয়েটার্স শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের আইনবিষয়ক সম্পাদক খায়রুল মামুন মিন্টু বলেন, “কারখানা বন্ধ বা ছাঁটাইয়ের সময় প্রায়ই সমঝোতার মাধ্যমে বিষয় নিষ্পত্তি করা হয়, যেখানে শ্রমিকেরা প্রকৃত পাওনার চেয়ে অনেক কম পান।”

তিনি বলেন, “অনেক ক্ষেত্রে যেখানে ১০ টাকা পাওয়ার কথা, সেখানে ৪-৫ টাকায় সমঝোতা হয়। শতভাগ পাওনা খুব কম ক্ষেত্রেই মেলে।”

তিনি আরও বলেন, “কিছু শ্রমিক সংগঠনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। অনেক সময় তারা শ্রমিকদের পক্ষে শক্ত অবস্থান না নিয়ে সমঝোতার অংশ হয়ে পড়ে।”

সাম্প্রতিক সময়ে ইউফোরিয়া, আইডিএস, মেডলার রেফারেন্স, ইনজেনিটেক্স, নার্সারি গ্রুপ ও বার্ডস গ্রুপসহ কয়েকটি কারখানা বন্ধ বা ছাঁটাইয়ের ঘটনায় শ্রমিকরা মোট পাওনার মাত্র ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ পেয়েছেন বলে জানান খায়রুল মামুন মিন্টু।

বাংলাদেশ গার্মেন্টস ও শিল্প শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি রফিকুল ইসলাম সুজন বলেন, “আইন অনুযায়ী শ্রমিকদের পাওনা দেওয়া হলেও বাস্তবে তা পুরোপুরি দেওয়া হয় না। অনেক সময় আন্দোলন বা চাপের পর নামমাত্র কিছু টাকা দেওয়া হয়।”

তিনি আরো বলেন, “বাস্তবায়নের ঘাটতি ও আইনি জটিলতার কারণে শ্রমিকরা ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত হন। যেমন একটি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে প্রায় ২৭ কোটি টাকা পাওনা থাকলেও মালিক বিদেশে পালিয়ে যাওয়ায় তা আদায় সম্ভব হয়নি।”

“আইনে ১৫০ দিনের মধ্যে মামলা নিষ্পত্তির কথা থাকলেও বাস্তবে ৪-৫ বছর লেগে যায়। এতে শ্রমিকরা হতাশ হয়ে যা পায়, তাই নিতে বাধ্য হয়,” যোগ করেন রফিকুল ইসলাম সুজন।

এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সরকারের কার্যকর উদ্যোগ জরুরি। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সক্রিয় ভূমিকা ছাড়া এই সমস্যার সমাধান কঠিন বলে মনে করেন তিনি। 

ঢাকা/তারা//

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়