সরাসরি বিশ্বকাপের স্বপ্নযাত্রায় নতুন শুরুর অপেক্ষায় বাংলাদেশ
প্রায় ৫ মাস পর ওয়ানডে ক্রিকেটের দুয়ার খুলতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের। রঙিন পোশাকে টানা টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট খেলায় লম্বা সময় ওয়ানডে ক্রিকেটে দেখা যায়নি লাল সবুজের প্রতিনিধিদের। বাংলাদেশের আতিথেয়তা নিতে পাকিস্তান ক্রিকেট দল এখন ঢাকায়।
মিরপুর শের-ই-বাংলায় দুই দলের তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ শুরু হচ্ছে বুধবার থেকে। সোমবার দুই দল মিরপুরে অনুশীলনে নামবে। সকালে বাংলাদেশ ও দুপুরের পর পাকিস্তান নিজেদের ঝালিয়ে নেবে। ১১ বছর পর ওয়ানডে খেলতে পাকিস্তান ক্রিকেট দল বাংলাদেশে এসেছে। লম্বা সময় পর পাকিস্তানকে আতিথেয়তা দেওয়ার সঙ্গে বাংলাদেশ ক্রিকেট নতুন যাত্রায় মাঠে নামতে যাচ্ছে।
২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপ সরাসরি খেলতে হলে বাংলাদেশকে কঠিন চ্যালেঞ্জ পাড়ি দিতে হবে। সেই মিশন শুরু হচ্ছে পাকিস্তানকে দিয়ে। আইসিসি-এর শর্ত পূরণ করে ২০১৫, ২০১৯ ও ২০২৩ বিশ্বকাপে সরাসরি খেলেছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। দীর্ঘ সময় ওয়ানডে র্যাংকিংয়ের ৭ নম্বরে থাকা দলটি এখন নেমে গেছে ১০ নম্বরে। রেটিং পয়েন্ট ৭৬।
পাকিস্তানের বিপক্ষে তাই হোম সিরিজটি বেশ গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৭ বিশ্বকাপে সরাসরি খেলতে হলে র্যাংকিংয়ের সেরা আট দলের মধ্যে থাকতে হবে। ১৪ দলের এই আসরে বাকি দলগুলোকে খেলতে হবে বাছাইপর্ব। ২০২৭ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকা ও জিম্বাবুয়ে ছাড়াও র্যাংকিংয়ের সেরা আট দল সরাসরি বিশ্বকাপে খেলবে।
অর্থাৎ, স্বাগতিকরা যদি সেরা আটের মধ্যে থাকে, তাহলে র্যাংকিংয়ের ১০ নম্বর পর্যন্ত দলও সরাসরি সুযোগ পেতে পারে। তবে এই সময়ের মধ্যে শীর্ষ অবস্থানে থাকতে না পারলে অপেক্ষা করছে কঠিন বাছাইপর্ব। যেখানে গত বিশ্বকাপে দুইবারের চ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজ-ও পেরে উঠতে পারেনি।
এদিকে জিম্বাবুয়ে স্বাগতিক হিসেবে সরাসরি জায়গা পেয়ে যাওয়ায় বাস্তবে বাংলাদেশ যেন ১১ নম্বর অবস্থানেই রয়েছে। ফলে ২০২৭ সালের ৩১ মার্চের আগে অন্তত ৯ নম্বরে উঠতে না পারলে বাছাইপর্ব খেলতেই হবে মিরাজদের। সব মিলিয়ে সরাসরি বিশ্বকাপে খেলার পথটা বাংলাদেশের জন্য বেশ জটিল। প্রতিটি সিরিজ, প্রতিটি ম্যাচই হয়ে উঠছে গুরুত্বপূর্ণ। তবে সুযোগও রয়েছে যথেষ্ট—লড়াইটা শুরু হচ্ছে বুধবার থেকেই।
পুরো দল নতুন শুরুর অপেক্ষায়। অবশ্য এমন শুরু অনেকবারই হয়েছে। বিরতি কিংবা টানা ব্যর্থতার পর ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয় নিয়ে নতুন যাত্রা শুরু করে দল। কখনো সফল হয়। কখনো হয় না। আবার কখনো ব্যর্থতার চাদরে মুড়ে থাকে। গল্পগুলো যেমনই হোক, নিজেদের সবচেয়ে স্বাচ্ছন্দ্যের ফরম্যাটে বাংলাদেশকে কঠিন সময় দিতে হবে এই বছর।
পাকিস্তানের পর ঘরের মাঠে নিউ জিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া ও ভারতের বিপক্ষে তিনটি করে এবং অ্যাওয়েতে আয়ারল্যান্ড ও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে যথাক্রমে তিনটি ও পাঁচটি ওয়ানডে খেলবে টাইগাররা। এই ম্যাচগুলো আইসিসির এফটিপির অংশ হওয়ায় র্যাংকিং নির্ধারণে সরাসরি প্রভাব ফেলবে।
বাংলাদেশের অনুপ্রেরণা হতে পারে ১১ বছর আগের পাকিস্তান সিরিজ। ২০১৫ সালে ওয়ানডে বিশ্বকাপে বাংলাদেশ কোয়ার্টার ফাইনাল গিয়েছিল মাশরাফি বিন মুর্তজার হাত ধরে। সেটা ছিল বাংলাদেশের ওয়ানডে ক্রিকেটের টার্ণিং পয়েন্ট। এরপর ঘরের মাঠে পাকিস্তানকে ৩-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ করে বাংলাদেশের স্বপ্নযাত্রা শুরু করে। এরপর ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে ও আফগানিস্তানকে সিরিজ হারায় বাংলাদেশ। ইংল্যান্ডকেও প্রায় বাগিয়ে এনেছিল। পরে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ হারে।
এবারের সিরিজটি বাংলাদেশের জন্য পুরোনো সুখস্মৃতি ফিরিয়ে আনার বড় সুযোগ। সঙ্গে সরাসরি বিশ্বকাপে খেলার দৌড়ে একটু এগিয়েও থাকা যাবে। এখন পর্যন্ত ওয়ানডেতে ৩৯ বার মুখোমুখি হয়েছে দুই দল, যেখানে পাকিস্তানের ৩৪ জয়ের বিপরীতে বাংলাদেশের জয় মাত্র ৫টিতে।
ঢাকা/ইয়াসিন