Risingbd Online Bangla News Portal

ঢাকা     বুধবার   ০১ ডিসেম্বর ২০২১ ||  অগ্রহায়ণ ১৭ ১৪২৮ ||  ২৪ রবিউস সানি ১৪৪৩

শীতে দাঁত ব্যথা কমাবেন যেভাবে

এস এম ইকবাল || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১২:৪৮, ১৩ নভেম্বর ২০২১   আপডেট: ১৩:০০, ১৩ নভেম্বর ২০২১
শীতে দাঁত ব্যথা কমাবেন যেভাবে

প্রাকৃতিক দৃশ্যাবলি ও শীতল আবহাওয়া উপভোগের জন্য শীতকাল অনেকেরই ভীষণ পছন্দ। কিন্তু কেউ কেউ মৌসুমটাকে পছন্দ করেন না দাঁত ব্যথা বা শিরশির করার কারণে। দাঁত ব্যথা ও শিরশিরের অনেক কারণ আছে, তন্মধ্যে অন্যতম হলো ঠান্ডা আবহাওয়া।

শীতে তথা ঠান্ডা আবহাওয়ায় যে দাঁত ব্যথা ও শিরশিরের প্রবণতা বেড়ে যায় তা বিভিন্ন গবেষণায় প্রমাণিত, বিশেষ করে যাদের দাঁতে সমস্যা রয়েছে। তবে হতাশ হবেন না। এসময় কিছু বিষয়ে সচেতন হলে যন্ত্রণা এড়ানো যাবে। এখানে শীতকালে দাঁত ব্যথা ও শিরশির থেকে রক্ষা পাওয়ার কার্যকরি উপায় উল্লেখ করা হলো।

* নাকের মাধ্যমে শ্বাস নিন

ঠান্ডা আবহাওয়ায় দাঁত ব্যথা ও শিরশিরে অনুভূতির প্রবণতা থাকলে নাকের মাধ্যমে শ্বাস নেওয়ার চেষ্টা করুন। মুখের মাধ্যমে শ্বাস নিলে দাঁতে ঠান্ডা বাতাসের সংস্পর্শে সংবেদনশীলতার ঝুঁকি বেড়ে যায়। চিকিৎসকেরা দাঁত শিরশির করাকে দাঁতের সংবেদনশীলতা বলে থাকেন। ঠান্ডা বাতাসের সংস্পর্শে দাঁত ব্যথাও হতে পারে। তাই নাকের মাধ্যমে শ্বাস নিয়ে মুখ দিয়ে ছাড়ুন। এতে নাকের মাধ্যমে ঠান্ডা বাতাস ঢুকলেও মুখ দিয়ে উষ্ণ বাতাস বের হবে। ফলে দাঁত ব্যথা বা শিরশিরের প্রবণতা কমবে।

* গরম পানীয় পানে স্ট্র ব্যবহার করুন

শীতকালে শরীরকে উষ্ণ রাখার প্রয়াসে বা আরাম পেতে চা, কফি বা অন্যান্য গরম পানীয় পানের অভ্যাস বেড়ে যায়। কিন্তু সংবেদনশীল দাঁতে গরম পানীয়ের সংস্পর্শে শিরশিরে অনুভূতির ঝুঁকি আছে। তাই দাঁতে গরম পানীয়ের সংস্পর্শে এড়াতে স্ট্র ব্যবহার করতে পারেন। শীতকালে ঠান্ডা পানিও পান করবেন না। সংবেদনশীল দাঁতের জন্য কুসুম গরম পানিই ভালো। এমনকি ঠান্ডা পানি দিয়ে কুলিও করবেন না। একাজেও কুসুম গরম পানি ব্যবহার করুন।

* চিনি ও এসিড কমান

দাঁতে সমস্যা বা সংবেদনশীলতা থাকলে অত্যধিক চিনি ও এসিড আছে এমন খাবার এড়িয়ে চলতে হবে। একেবারেই খেতে পারবেন না তা নয়, তবে পরিমাণ কমাতে হবে। এসব খাবার বেশি খেলে দাঁত ক্ষয় ও ব্যথা বেড়ে যায়। সহজেই শিরশির করে। শীতকালে দাঁতের যন্ত্রণা এমনিতেই বেড়ে যায়, তাই এসময় শরবত বা ফলের জুস পানে সমস্যাটিকে অসহনীয় করবেন না। ক্ষয়প্রাপ্ত দাঁতে মিষ্টি খাবার আটকে থাকলে যন্ত্রণা এতই বাড়তে পারে যে, হাতুড়ি দিয়ে দাঁতকে চূর্ণবিচূর্ণ করে ফেলতে ইচ্ছে হবে।

* রোদ পোহান

শীতকালে যারা বাইরে তেমন বের হন না, তাদের শরীরে ভিটামিন ডি'র মাত্রা কমে যায়। কিন্তু শরীরে যথেষ্ট ভিটামিন ডি যোগাতে পর্যাপ্ত সময় সূর্যালোকের সংস্পর্শে থাকতে হয়। মজবুত হাড় ও দাঁতের জন্য ভিটামিন ডি প্রয়োজন। দাঁত যত দুর্বল হবে, ঠান্ডা আবহাওয়ায় তত কাবু হবে। তাই শীতে দাঁত ব্যথা ও শিরশির এড়াতে নিয়মিত রোদ পোহাতে হবে। তা সম্ভব না হলে ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার চেষ্টা করুন, যেমন- তৈলাক্ত মাছ। তবে কোনো খাবারেই পর্যাপ্ত ভিটামিন ডি পাওয়া যায় না। তাই চিকিৎসকের পরামর্শে সাপ্লিমেন্ট সেবন করতে পারেন।

* স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন

শীতে ফ্লু-সর্দিতে নাক বন্ধ হয়ে যাওয়ার প্রবণতা বেশি। এসময়  মুখে শ্বাস নেওয়ার কারণে ঠান্ডা বাতাসের সংস্পর্শে দাঁত ব্যথা বা শিরশির করে। ফ্লু-সর্দি সাইনাস ইনফেকশনের ঝুঁকিও বাড়ায়। যারা সাইনাস ইনফেকশনে ভুগেন, তাদের অনেকেরই দাঁত ব্যথা বা শিরশির করে। যাদের ইতোমধ্যে এমন অভিজ্ঞতা হয়েছে, তারা যেন সংক্রমণ প্রতিরোধের চেষ্টা করেন। বাইরে বের হলে মাস্ক পরুন, হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে হাত জীবাণুমুক্ত করুন, অসুস্থ লোকের নৈকট্যতা এড়িয়ে চলুন ও পুষ্টিকর খাবার খান। এছাড়া প্রতিরাতে যথেষ্ট ঘুমাতে হবে ও নিয়মিত শরীরচর্চা করতে হবে। পর্যাপ্ত ঘুম ও শরীরচর্চায় সংক্রমণে কাবু হওয়ার ঝুঁকি কমে। নিয়মিত ব্রাশও করতে হবে।

ঢাকা/ফিরোজ

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়