ঢাকা     রোববার   ২৬ জুন ২০২২ ||  আষাঢ় ১২ ১৪২৯ ||  ২৫ জিলক্বদ ১৪৪৩

শুষ্ক চোখের সমস্যা দূর করার উপায়

দেহঘড়ি ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৮:৪৬, ২৫ মে ২০২২   আপডেট: ১৯:০৮, ২৫ মে ২০২২
শুষ্ক চোখের সমস্যা দূর করার উপায়

চোখের গ্রন্থি থেকে কোনো কারণে পানি নিঃসরণ কম হলে চোখ শুষ্ক হয়ে পড়ে। এই সমস্যার নাম ড্রাই আই সিনড্রোম বা শুষ্ক চোখ। বেশ কিছু কারণে চোখ শুষ্ক হয়ে যাওয়ার সমস্যা দেখা দিতে পারে। এর মধ্যে অন্যতম বড় একটি কারণ হলো, কম্পিউটার বা মোবাইল বা টিভি স্ক্রিনে অনেকক্ষণ ধরে তাকিয়ে থাকা।

অনবরত কম্পিউটারের স্ক্রিন বা স্মার্টফোনের ব্যবহার বা টিভি দেখার ফলে চোখের স্বাভাবিক আর্দ্রতা কমে যায়। তাই বর্তমানে অনেকেই শুষ্ক চোখের সমস্যায় ভুগে থাকেন।

গবেষকদের মতে, চোখের শুষ্কতা থেকে স্থায়ী ক্ষতিও হতে পারে। চোখে যথেষ্ট পানি না থাকলে চক্ষু সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায়। এছাড়া তীব্র শুষ্কতার চিকিৎসা না করলে চোখে প্রদাহ, কর্নিয়ার পৃষ্ঠে ঘর্ষণ, কর্নিয়ায় ক্ষত ও দৃষ্টিশক্তি কমে যেতে পারে। তাই চোখের শুষ্কতা অবহেলা করার মতো বিষয় নয়।

শুষ্ক চোখের সমস্যা হলে নানান অস্বস্তি, জালাপোড়া দেখা দিতে পারে। এতে আলো সহ্য করতে না পারা, ঝাপসা দেখা, চুলকানি, লাল হওয়া কিংবা চোখের ভেতর ও বাইরে পিচ্ছিল আঠাল পদার্থ তৈরি হতে পারে। তবে কিছু সহজ উপায়ে এই সমস্যা থেকে স্বস্তি মিলতে পারে। তাহলে জেনে নিন, ড্রাই আই সিনড্রোম সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে কী করবেন।

* ঘনঘন চোখের পলক ফেলুন: কম্পিউটারে কাজ করার সময় চোখের পলক পড়া কমে যায়। এর ফলে চোখের পানি কমে যায় ও চোখ শুষ্কতা বা ড্রাই আই হতে পারে। এ অবস্থায় চোখ শুষ্ক বলে মনে হবে। কাঁটা কাঁটা লাগবে। চোখে অস্বস্তি ও ক্লান্তি আসবে। কম্পিউটারে কাজের সময় ঘনঘন চোখের পলক ফেলুন।

গরম ভাপ: শুষ্ক চোখের ক্ষেত্রে গরম ভাপ কার্যকর। গরম ভাপ থেকে আর্দ্র তাপ শুষ্ক চোখ থেকে স্বস্তি দিতে সহায়তা করে। প্রথমে কিছুটা গরম পানি নিন। তাতে একটি পরিষ্কার কাপড় ভিজিয়ে ভালো করে পানি ঝরিয়ে নিন। তারপর ওই কাপড়টি চোখের পাতার ওপর রেখে খুব আলতো করে চাপুন, যাতে চোখের গ্রন্থিতে আটকে থাকা তেল সহজেই বেরিয়ে আসে।

গ্রিন টি ব্যাগ: গ্রিন টি প্রাকৃতিক অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি রূপে কাজ করে এবং চোখের ইনফেকশন রোধ করতে সহায়তা করে। প্রথমে এক কাপ গরম পানিতে একটি গ্রিন টি ব্যাগ, ১০ মিনিটের জন্য ভিজিয়ে রাখুন। তারপর ঠান্ডা হলে, তাতে তুলা ভিজিয়ে ৫ মিনিটের জন্য চোখের পাতার ওপর রাখুন। এই প্রতিকারটি দিনে বেশ কয়েকবার করা যেতে পারে।

* পর্যাপ্ত ঘুম: পর্যপ্ত ঘুমের অভাবও শুষ্ক চোখের সমস্যার অন্যতম কারণ হতে পারে। পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুম, কর্নিয়ার আর্দ্রতা ধরে রাখতে সহায়তা করে। তাই প্রতিদিন ৭-৮ ঘণ্টা ঘুমানোর চেষ্টা করুন।

২০-২০-২০ নিয়ম: চোখ সুরক্ষার জন্য একটি নিয়ম হচ্ছে ২০-২০-২০। অর্থাৎ প্রতি ২০ মিনিট পর পর, ২০ ফুট দূরত্বের কোনো জিনিসের দিকে ২০ সেকেন্ড তাকিয়ে থাকুন। এতে চোখ বিশ্রাম পাওয়ায় চোখে যথেষ্ট আর্দ্রতা থাকে এবং চোখের ওপর চাপ কমে।

কাজের অবসরে চোখ ম্যাসাজ: কাজের অবসরে চোখ বন্ধ করে দুইহাতের তালু দিয়ে চোখে ঢেকে রাখুন এক মিনিট। এরপর ধীরে ধীরে গভীর শ্বাস নিন এবং চোখের পেশি শিথিল করুন। প্রতি অবসরে এমনটা করতে পারেন। একে চোখের যোগ ব্যায়াম বলে। চোখকে প্রশান্তি দিতে এটি ভালো উপায়।

* পর্যাপ্ত পানি পান: পর্যাপ্ত পানি পান করুন। পর্যাপ্ত পানি খেলে শরীরের অভ্যন্তরীণ কার্যকলাপ স্বাভাবিক থাকে। ফলে শরীরের সমস্ত তরল পদার্থ সঠিকভাবে শরীরে সরবরাহ হয়। শরীর আর্দ্র থাকলে চোখের পানি, শরীর মধ্যস্থ তেল স্বাভাবিকভাবে বাহিত হয়। 

* ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিডযুক্ত খাবার: ডায়েটে রাখুন ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিডযুক্ত খাবার। এর প্রাকৃতিক তেল চোখের আর্দ্রতা স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করে। ডিম, শিয়া বীজ, তেলযুক্ত মাছ, আখরোট, ফ্লেক্স বীজ ইত্যাদিতে প্রচুর পরিমাণে ওমেগা ৩ অ্যাসিড থাকে। কিংবা ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিড সাপ্লিমেন্ট সেবন করতে পারেন।

* ধূমপান ছাড়ুন: ধূমপানের অভ্যাস চোখ শুকিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ায়। তাই এই অভ্যাস ত্যাগ করুন। তাছাড়া সিগারেটের ধোঁয়া শুষ্ক চোখের সমস্যায় অস্বস্তি বাড়িয়ে দেয়।

শুষ্ক চোখের লক্ষণ

* চোখ শুকিয়ে গেলে লক্ষণ হিসেবে চোখে চুলকানি অনুভূতি হতে পারে।

* শুষ্ক চোখের আরেকটি প্রচলিত উপসর্গ হলো চোখে জ্বালাপোড়া অথবা কিছু ফুটেছে প্রকৃতির অনুভূতি।

* চোখ শুকিয়ে গেলে চোখও লাল হতে পারে। 

* চোখ শুষ্ক হলে আলোর প্রতি সংবেদনশীল হয়ে পড়ে। শুষ্কতা যত বাড়বে, উজ্জ্বল বা কৃত্রিম আলোকে তত অসহ্য লাগতে পারে।

* দীর্ঘসময় চোখ শুষ্ক থাকলে কিছু দেখতে ঝাপসা লাগে। এটার চিকিৎসা না করলে স্থায়ী ক্ষতি হতে পারে।

* শুষ্ক চোখের আরেকটি সম্ভাব্য উপসর্গ হলো চোখে ব্যথা করা।

* চোখে কিছু পড়েছে প্রায়ই এমন অনুভূতি হওয়াটাও শুষ্ক চোখের লক্ষণ।

* শুষ্ক চোখের আরেকটি উপসর্গ হলো চোখ থেকে পানি পড়া।

কখন ডাক্তার দেখাবেন

ঘরোয়া উপায়গুলো মেনে চলার পরও যদি স্বস্তি না পান তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন। চোখে লালভাব ও ফোলাভাব, হালকা জ্বালা ব্যথায় পরিণত হওয়া, সাদা তরল বের হওয়া, মুখের ভেতর শুকিয়ে যাওয়ার মতো কোনো উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসকের কাছে যেতে অবহেলা করবেন না।

তথ্যসূত্র: হেলথ লাইন, টাইমস অব ইন্ডিয়া

/ফিরোজ/

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়