ঢাকা     বুধবার   ১৭ আগস্ট ২০২২ ||  ভাদ্র ২ ১৪২৯ ||  ১৮ মহরম ১৪৪৪

যেসব উপসর্গ থাকলে মাংস না খাওয়াই ভালো

দেহঘড়ি ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২২:২০, ৫ জুলাই ২০২২   আপডেট: ২২:৪৩, ৫ জুলাই ২০২২
যেসব উপসর্গ থাকলে মাংস না খাওয়াই ভালো

মাংসে রয়েছে প্রয়োজনীয় পুষ্টি যা আমাদের শরীরের জন্য দরকারী। তবে কারো কারো ক্ষেত্রে মাংস খাওয়াটা হিতে বিপরীত হতে পারে। 

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন কোনো খাদ্য নেই যা সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য। একটি সুখী ও স্বাস্থ্যকর জীবনধারার জন্য মাংস আবশ্যক নয়। মাংস খেয়ে একজন স্বাস্থ্যবান হতে পারে আবার অন্যজন উদর সংক্রান্ত অস্বস্তি বা পীড়া আক্রান্ত হতে পারে। বিশেষ করে পরিপাকতন্ত্র মাংস ভালোভাবে হজম করতে না পারলে নানা স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দিতে পারে। 

এখানে বেশ কিছু উপসর্গ সম্পর্কে বলা হলো। এসব উপসর্গ দেখা দিলে সুস্থতার জন্য মাংস সীমিত পরিমাণে খাওয়া ভালো কিংবা যতটা সম্ভব মাংস এড়িয়ে চলা উত্তম হবে।

* পেট ফাঁপা: পেট ভারী, ফোলা বা ফাঁপা থাকলে মাংস না খাওয়াই ভালো। এর পাশাপাশি আপনি যদি পেটের স্ফীতি এবং অবসাদ বোধ করেন তাহলে সুস্থ থাকার জন্য মাংস খাওয়া থেকে বিরত থাকুন।

* বমি ভাব: মাংস হজম না হবার উপসর্গগুলোর মধ্যে বমিবমি ভাব, অম্বল আর বদহজম অন্যতম। এই উপসর্গগুলো আপনাকে প্রচণ্ড অস্বস্তিতে ফেলতে পারে। এক্ষেত্রে দুপুরের খাবারে আপনি মাংস এড়িয়ে সবজি-সালাদ খেতে পারেন।

* অত্যধিক বড় টুকরা গ্রহণ: অতিরিক্ত মাংস খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। অতিরিক্ত মাংস খেলে শরীরে নানা ক্ষতিকর প্রভাব পড়তে পারে। আর তাই মাংস খেতে হবে বুঝে-শুনে, মেপে-ঝেপে।

* দূর্বল চর্বণ: মাংস খাওয়ার সময় তাড়াহুড়া করা উচিত নয়। আস্তে ধীরে চিবিয়ে খাওয়া উচিত। একটু সময় নিয়ে খাবার খান। মাংস কম চিবানো হলে পেট ভারী বোধ ও ব্যথার সৃষ্টি করে।

* খাদ্যজনিত রোগাক্রান্ত: আপনি যদি মাংস ঠিকমতো হজম করতে অক্ষম হোন, তাহলে প্রায়ই খাদ্যজনিত রোগে বিশেষ করে ই-কোলাই,  স্যালমোনেলা ব্যাকটেরিয়া দ্বারা অন্ত্রে আক্রান্ত হতে পারেন। মাংস সঠিকভাবে হজম করতে ব্যর্থ হওয়ার কারণে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও কমে যেতে পারে।

* উচ্চ রক্তচাপ: উচ্চ রক্তচাপ হচ্ছে মাংস খাওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা যেটা হয়তো আপনি বুঝতেই পারেন না। উচ্চ রক্তচাপ হলো নীরব ঘাতক।

* কোষ্ঠকাঠিন্য: ৮০ শতাংশ ক্ষেত্রে কোষ্ঠকাঠিন্য খাবারের সমস্যাজনিত কারণেই হয়ে থাকে এবং ২০ শতাংশ ক্ষেত্রে পরিপাকতন্ত্রের যেকোনো ধরনের ইনফেকশন, প্রদাহ, ওষুধ বা অন্য কারণে হতে পারে। বিশেষ করে লাল মাংসের চর্বি ও আয়রন কোষ্ঠকাঠিন্য সৃষ্টির অন্যতম প্রধান কারণ। খাদ্য তালিকার যেকোনো খাবারের চেয়ে চর্বি পরিপাক হতে বেশি সময় নেয়।

* চোখের নিচে কালো দাগ: শুধু নির্ঘুম কাটালেই চোখের নিচে কালো দাগ পরে না, মাংস ঠিকমতো হজম না হওয়ার কারণেও আপনার সৌন্দর্যের ওপর এর প্রভাব পড়তে পারে। আপনি যদি দেখেন মাংস খাওয়ার পরের দিন আপনার চোখের নিচে কালো দাগ পড়েছে, তাহলে বুঝতে হবে আপনার শরীর ঠিকমতো মাংস হজম করতে পারছে না।

* শরীর ও নিঃশ্বাসে দুর্গন্ধ: মাংস ঠিকমতো হজম না হলে শরীর ও নিঃশ্বাসে দুর্গন্ধ দেখা দিতে পারে। পাচনতন্ত্রে মাংস পরিপাকে সমস্যা হলে পাচক অ্যানজাইম দ্বারা দুর্গন্ধযুক্ত গ্যাস তৈরি হয়, যা শরীর ও নিঃশ্বাসে দুর্গন্ধ আনে।

* অবসাদ: মাংস খাওয়ার পর আপনার যদি কুঁড়ে এবং ক্লান্ত অনুভূত হয়, তাহলে ধরে নিন আপনি মাংস হজমজনিত সমস্যায় ভুগছেন। মাংস হজমে অতিরিক্ত শক্তি ব্যয় হবার কারণে আপনি এমনটি অনুভব করতে পারেন।

* পেশী কমে যাওয়া: আপনার শরীর সঠিকভাবে মাংস হজমে সক্ষম নয়- এমন লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে মাংস খাওয়ার পর বমি ভাব, পেটফাঁপা ও ক্লান্তি। এছাড়াও পেশী হ্রাস, ইমিউন সিস্টেম এবং লিভারের সমস্যা অনুভব করতে পারেন।

তথ্যসূত্র: ইনসাইডার

/ফিরোজ/

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়