ঢাকা     রোববার   ১৪ জুলাই ২০২৪ ||  আষাঢ় ৩০ ১৪৩১

কম বা বেশি ঘুমালে অনিরাময়যোগ্য যে রোগের ঝুঁকি

দেহঘড়ি ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২২:৪৭, ২৬ অক্টোবর ২০২২   আপডেট: ২৩:০৩, ২৬ অক্টোবর ২০২২
কম বা বেশি ঘুমালে অনিরাময়যোগ্য যে রোগের ঝুঁকি

শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার জন্য পর্যাপ্ত ঘুম কতটা জরুরি, তা আর নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। ঘুমের পরিমাণ যেমন গুরুত্বপূর্ণ তেমনি ঘুমের মান বজায় রাখাটাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। 

প্রয়োজনের তুলনায় কম ঘুম কিংবা অতিরিক্ত ঘুম ঢেকে আনতে পারে নানা জটিল স্বাস্থ্য সমস্যা। তেমন একটি জটিল স্বাস্থ্যঝুঁকি হলো, পালমোনারি ফাইব্রোসিস। এই রোগ কেবল ফুসফুসের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা নষ্ট করে তা নয়, ফুসফুসের স্থায়ী ক্ষতিও করে। তারচেয়েও ভয়ানক ব্যাপার হলো, পালমোনারি ফাইব্রোসিস একটি অনিরাময়যোগ্য রোগ। 

২০২০ সালে এক গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিত ১১ ঘণ্টার বেশি অথবা ৪ ঘণ্টার কম সময় ঘুমান তাদের অনিরাময়যোগ্য ফুসফুস রোগ পালমোনারি ফাইব্রোসিসে ভোগার ঝুঁকি বেশি। গবেষণাটি প্রসিডিংস অব দ্য ন্যাশনাল অ্যাকাডেমি অব সায়েন্সেসে প্রকাশিত হয়। 

যুক্তরাজ্যের দ্য ইউনিভার্সিটি অব ম্যাসাচুসেটসে কর্মরত এ গবেষণার প্রধান লেখক জন ব্লেকলির মতে, পালমোনারি ফাইব্রোসিস হচ্ছে ফুসফুসের একটি ধ্বংসাত্মক রোগ, যার নিরাময় বর্তমানে নেই। পালমোনারি ফাইব্রোসিস ও ঘুমের স্থায়িত্বের মধ্যে এ যোগসূত্রের প্রকৃত কারণ বুঝতে অথবা এটার ওপর ভিত্তি করে কার্যকর চিকিৎসা উদ্ভাবন করতে আরো গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে। আরো গবেষণার ফলাফল দেখে নিশ্চিত হওয়া যাবে যে, প্রতিদিন কী পরিমাণে ঘুমালে এ বিধ্বংসী রোগের প্রভাব কমানো যাবে।

ঘুমের স্থায়িত্ব ও পালমোনারি ফাইব্রোসিসের মধ্যকার যোগসূত্র এ রোগের অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়ের (ধূমপানের অভ্যাস) মতো সমান শক্তিশালী বলে মনে করা হচ্ছে। গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিত ৪ ঘণ্টা বা এর কম সময় ও ১১ ঘণ্টা বা এর বেশি সময় ঘুমিয়েছেন তাদের পালমোনারি ফাইব্রোসিসের ঝুঁকি প্রতিদিন ৭ ঘণ্টা ঘুমিয়েছেন এমন লোকদের তুলনায় যথাক্রমে দ্বিগুণ ও তিনগুণ বেশি ছিল।

গবেষণাপত্রে বলা হয়, কম ঘুমের চেয়ে বেশি ঘুমে পালমোনারি ফাইব্রোসিসের ঝুঁকি বেশি। এছাড়া যারা বেশি রাত জাগেন অথবা শিফট ভিত্তিক কাজ করেন তাদেরও এ বিধ্বংসী রোগের বাড়তি ঝুঁকি রয়েছে।

পালমোনারি ফাইব্রোসিস রোগে ফুসফুসের নরম অংশগুলো নষ্ট হয়ে যায় এবং সেখানে ক্ষতের সৃষ্টি হয়। এতে ফুসফুসের টিস্যু মোটা ও শক্ত হয়ে যায়, ফলে ফুসফুসে বাতাসের থলিগুলো ঠিকমতো কাজ করতে পারে না। রক্তপ্রবাহে অক্সিজেন প্রবেশ করা ক্রমশ দুরূহ হয়ে পড়ে। কার্বন ডাই অক্সাইডও বেরোতে পারে না। ফলে তৈরি হয় প্রাণঘাতী সমস্যা।

/ফিরোজ/

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়