ঢাকা     রোববার   ১৪ জুলাই ২০২৪ ||  আষাঢ় ৩০ ১৪৩১

এক-দুইদিন গোসল না করলে কী হয়

দেহঘড়ি ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০৯:৫৯, ২০ ডিসেম্বর ২০২৩   আপডেট: ১০:০৪, ২০ ডিসেম্বর ২০২৩
এক-দুইদিন গোসল না করলে কী হয়

শীত এলেই গোসল থেকে দূরে থাকতে মন চায়। অনেকে এক বা দুইদিন পর পর গোসল করেন। এদিকে গোসলে গরম পানি ব্যবহার করা ভালো নাকি মন্দ সেই বিতর্কতো রয়েছেই। যদিও কেউ কেউ শীতকে পাত্তা না দিয়ে প্রতিদিন গোসল করেন। শীত ঋতুতে গোসলের ক্ষেত্রে কোন অভ্যাস ভালো- চলুন জানা যাক।

শীত অথবা বর্ষা প্রতিদিন গোসল করতে পারলে ভালো। এতে রোগ দূরে থাকে।  

চিকিৎসকরা বলেন, গোসল করার মাধ্যমে মানুষের শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিক থাকে। এতে ত্বকে উপস্থিত সব জীবাণু গোসলের পানিতে মরে যায়। সুতরাং প্রতিদিন গোসল করা জরুরি। এই কাজটা করলে সুস্থ থাকা যায়। এবং বিভিন্ন সংক্রমণের হাত থেকে রক্ষা মেলে। সুতরাং শীতের দোহাই দিয়ে গোসলকে ছুটিতে পাঠাবেন না।  

শীতে গোসল না করার পক্ষে অনেকে এই যুক্তি দেখাতে পারেন যে, ইংল্যান্ড, আমেরিকার মানুষেরা এক-দুইদিন গোসল না করেও কাটিয়ে দেয়। এই যুক্তি বাংলাদেশে খাটে না। তার কারণ, এখানে বিশেষত রাজধানীতে বায়ু দূষণ বেশি। তাই একাধিক রোগ মোকাবিলা করতে হলেও নিয়মিত গোসল করা জরুরি।

গোসলের পানি হালকা গরম হলে ভালো। গিজার থাকলে ৩০ থেকে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার পানিতে গোসল করতে পারেন।

জানেন তো, গরম পানিতে গোসলের সময় ময়েশ্চারাইজার সোপ ব্যবহার করা ভালো। এতে ত্বক স্বাভাবিক থাকে। আবার নিয়মিত গরম পানি মাথায় দিলে চুল হয়ে পড়ে রুক্ষ। তাই গোসলের সময় ময়েশ্চারাইজার শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে নিন। এতে চুল দেখাবে ঝরঝরে।

বেশি ঠান্ডা পানি অ্যাজমা রোগী কিংবা শ্বাসকষ্টের রোগীদের জন্য রোগের ফাঁদ। একদিন গোসল না করলে শরীর হালকা গরম পানিতে ধুয়ে নিন। পানিতে জীবাণুনাশক ব্যবহার করুন। ঠান্ডা পানি দিয়ে শরীর মুছে নিলে জীবাণু দূর হবে না।

শীত ঋতুতে গোসলের পর শরীরে তেল মাখা বাঙালির চিরন্তন অভ্যাস। এতে অনেক উপকার আছে। সরিষার তেল কিংবা অলিভ অয়েল মাখতে পারেন। মুখে অনেকে অলিভ অয়েল মেখে থাকেন। সেক্ষেত্রে যাদের ত্বক অতিরিক্ত তৈলাক্ত তাদের বেশি তেল মাখার দরকার নেই। এতে মুখের ত্বকে ব্রণ দেখা দিতে পারে।

মনে রাখবেন, শরীরচর্চা বা কঠোর পরিশ্রম করার পরপরই গোসল করা ভালো নয়। কমপক্ষে ৩০ মিনিট পরে কুসুম গরম পানিতে গোসল করবেন।

নিয়মিত গোসল করলে ফুসফুসের কর্মক্ষমতা বাড়বে, মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা বাড়বে এবং রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ থাকবে। তাছাড়া, হৃৎপিন্ডের কর্মক্ষমতা বাড়াতে চাইলে প্রতিদিন গোসল করা ছাড়া উপায় নেই। ভালো ঘুম আর হতাশা দূর করার অন্যতম টনিক হলো নিয়মিত গোসল করা। আপনার জন্য আপাতত এই জরুরি খবর।

তথ্যসূত্র: হেলথসাইট

/স্বরলিপি/

সর্বশেষ