ঢাকা, শনিবার, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭, ০৬ জুন ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

সম্প্রতি তালিকাভুক্ত ৬ কোম্পানির শেয়ার দর ও ইপিএস নেতিবাচক

নুরুজ্জামান তানিম : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০২০-০৩-৩১ ৪:৫২:৪৬ পিএম     ||     আপডেট: ২০২০-০৩-৩১ ৪:৫২:৪৬ পিএম

২০১৯ সাল থেকে এ বছরের মার্চ পর্যন্ত প্রাথমিক গ্রণপ্রস্তাব (আইপিও) প্রক্রিয়ায় পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়েছে ১০টি কোম্পানি।

এর মধ্যে ৭টি কোম্পানি ১০ টাকা ফেস ভ্যালুতে (ইস্যু মূল্যে) এবং ৩টি কোম্পানি ফেস ভ্যালুর সঙ্গে অতিরিক্ত প্রিমিয়াম নিয়ে কাট অব প্রাইসে তালিকাভুক্ত হয়েছে।  পুঁজিবাজারে ধাবাবাহিক মন্দা পরিস্থিতি, কোম্পানিগুলোর বোনাস লভ্যাংশ দেওয়ার প্রবণতা, ব্যবসায়িক খারাপ পারফরমেন্স এবং সম্প্রতি করোনার প্রভাব কোম্পানিগুলোর শেয়ার দর ও শেয়ারপ্রতি আয়ে (ইপিএস) নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।

আলোচ্য সময়ে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়া কোম্পানিগুলো হলো- রিং শাইন টেক্সটাইলস, কপারটেক ইন্ডাস্ট্রিজ, সি পার্ল বিচ রিসোর্ট, সিলকো ফার্মা, নিউ লাইন ক্লথিংস, জেনেক্স ইনফোসিস, এসএস স্টিল, এডিএন টেলিকম, রানার অটোমোবাইলস এবং এসকোয়্যার নিট কম্পোজিট।

এর মধ্যে রিং শাইন টেক্সটাইলস, রানার অটোমোবাইলস ও এসকোয়্যার নিট কম্পোজিট কোম্পানির শেয়ার দর বর্তমানে ফেস ভ্যালুর নিচে লেনদেন হচ্ছে।  আর এসএস স্টিল, নিউ লাইন ক্লথিংস ও এডিএন টেলিকমের শেয়ার দর ফেস ভ্যালু ছুঁই ছুঁই। বাকি কোম্পানিগুলো শেয়ার ফেস ভ্যালু বা কাট অব প্রাইস মূল্যের ওপরে লেনদেন হচ্ছে।  তবে তালিকাভুক্ত এসব কোম্পানির মধ্যে ৬টির শেয়ারপ্রতি আয়ে নেতিবাচক প্রভাব লক্ষ্য করা গেছে।  এসব কোম্পানির মধ্যে ৮টি কোম্পানি বোনাস লভ্যাংশ দিয়েছে।  শুধু এসকোয়্যার নিট কম্পোজিট পুরোটাই নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে।  আর এডিএন টেলিকম কোনো লভ্যাংশ দেয়নি।

বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, করোনা আতঙ্কে পুঁজিবাজারে পতন ঠেকাতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে গত ১৯ মার্চ তালিভুক্ত কোম্পানির  শেয়ার ও ইউনিট দরের সার্কিট ব্রেকারে ফ্লোর প্রাইসের সর্বনিম্ন সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটি অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এ সিদ্ধান্তে সম্প্রতি পুঁজিবাজার বড় পতন রোধ করা সম্ভব হয়েছে।  তা নাহলে সব কোম্পানির শেয়ারের আরো দরপতন হতো। এছাড়া সম্প্রতি তালিকাভুক্ত হওয়া অধিকাংশ কোম্পানি নগদ লভ্যাংশের পরিবর্তে বোনাস লভ্যাংশ দিয়েছে।  ফলে বাজারে শেয়ার সংখ্যা বেড়ে গেছে।  এতে ওসব শেয়ারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের চাহিদা কমেছে।  ফলশ্রুতিতে শেয়ারগুলোর দরে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।  এক্ষেত্রে কোম্পানিগুলো শুধু নগদ লভ্যাংশ দিলে বাজারে শেয়ার সংখ্যা বৃদ্ধি পেতো না এবং শেয়ারের চাহিদা বজায় থাকতো।

এদিকে, বিগত ৪-৫ বছর থেকে গুণগতমানের কোম্পানি পুঁজিবাজারে না আসাকে দুষছেন সংশ্লিষ্টরা।  তাদের মতে, উদ্যোগক্তরা প্রথম থেকেই বাজার থেকে টাকা তুলে নিয়ে ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হওয়ার চেষ্টা করেছেন।  এতে সহযোগিতা করেছেন কিছু অসৎ নিরীক্ষক ও ইস্যু ম্যানেজার।  এসব চক্রের মাধ্যমে পুঁজিবাজারে আসা কোম্পানিগুলোর শেয়ার দর কিছু দিনের মধ্যেই ফেস ভ্যালুরে নিচে নামে আসছে। ওই কোম্পানিগুলোর শেয়ারের মূল্যমানই প্রমাণ করে, কোনো ধরনের নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করেই তা বাজারে এসেছে।  কোনওভাবেই ওই কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদনের সত্যতা যাচাই কর সম্ভব হয়নি। এসব কিছুই পুঁজিবাজারকে অস্থির করে তুলেছে।

এ বিষয়ে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের পরিচালক মো. শাকিল রিজভী রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘পুঁজিবাজারে ধারাবাহিক মন্দা পরিস্থিতির কারণে অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ার দরে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।  সেইসঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির পারফরমেন্স জড়িত।  আর ইতোমধ্যে কোম্পানিগুলোর ঘোষণা দেওয়া বোনাস লভ্যাংশ, শেয়ারগুলোর চাহিদা কমিয়ে দিয়েছে।’

বর্তমান এ পরিস্থিতি থেকে উত্তোরণের বিষয়ে বাংলাদেশ পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক কাজী আব্দুর রাজ্জাক রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘যেসব কোম্পানির শেয়ার দর ফেস ভ্যালুর নিচে রয়েছে, সেসব মালিকপক্ষ আলোচনা সাপেক্ষে তালিকভুক্ত অংশটুকুর শেয়ার ফেস ভ্যালুতে কিনে নিতে পারেন। এতে বর্তমানে যেসব বিনিয়োগকারীদের হাতে শেয়ার রয়েছে, তাদের কিছুটা লোকসান কমবে।

গত ১৫ মাসের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়া কোম্পানিগুলোর শেয়ার দর ও শেয়ারপ্রতি আয়ের সার্বিক পরিস্থিতি তুলো ধরা হলো-

ফিক্সড প্রাইস মেথড

রিং শাইন টেক্সটাইলস : ২০১৯ সালের ১২ ডিসেম্বর পুঁজিবাজারে রিং শাইন টেক্সটাইলসের লেনদেন শুরু হয়।  প্রতিটি শেয়ারের ইস্যু মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ টাকা।  গত ২৫ মার্চ পর্যন্ত কোম্পানিটির শেয়ার সর্বশেষ লেনদেন হয়েছে ৬.৪০ টাকা।  অর্থাৎ ইস্যু মূল্যের চেয়ে ৩.৬ টাকা কম দরে লেনদেন হচ্ছে কোম্পানিটির শেয়ার।

কোম্পানিটি শেয়ার বাজারে ১৫ কোটি সাধারণ শেয়ার ছেড়ে ১৫০ কোটি টাকা উত্তোলন করে। উত্তোলন করা টাকা কোম্পানিটি যন্ত্রপাতি ও কলকব্জা ক্রয়, ঋণ পরিশোধ এবং আইপিও খরচ খাতে ব্যয় করবে।

সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী কোম্পানিটির দ্বিতীয় প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর, ২০১৯) ইপিএস হয়েছে ৪৫ পয়সা। আগের বছরে একই সময়ে ইপিএস ছিল ৩৬ পয়সা।  আর প্রথম ও দ্বিতীয় প্রন্তিক পর্যন্ত (জুলাই-ডিসেম্বর, ২০১৯) অর্থাৎ ৬ মাসে ইপিএস হয়েছে ৯৬ পয়সা।  আগের বছরে একই সময়ে ইপিএস ছিল ৭৩ পয়সা।   

আলোচ্য সময়ের জন্য শেয়ারহোল্ডারদের ১৫ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ দিয়েছে কোম্পানিটি।

কপারটেক ইন্ডাস্ট্রিজ : গত বছরের ৫ আগস্ট পুঁজিবাজারে কপারটেক ইন্ডাস্ট্রিজের লেনদেন শুরু হয়। কোম্পানিটির প্রতিটি শেয়ারের ইস্যু মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ টাকা।  গত ২৫ মার্চ পর্যন্ত কোম্পানিটির শেয়ার সর্বশেষ লেনদেন হয়েছে ২০.৭০ টাকা।  অর্থাৎ ইস্যু মূল্যের চেয়ে ১০.৭০ টাকা বেশি দরে লেনদেন হচ্ছে কোম্পানিটির শেয়ার।

কপারটেক ইন্ডাস্ট্রিজ শেয়ার বাজার থেকে ২ কোটি শেয়ার ছেড়ে ২০ কোটি টাকা উত্তোলন করে।  উত্তোলন করা টাকা কোম্পানিটি প্লান্ট ও যন্ত্রপাতি ক্রয় ও স্থাপন, ভবন ও সিভিল ওয়ার্ক খাত, ব্যাংক ঋণ পরিশোধ এবং আইপিও খরচ খাতে ব্যয় করবে।

সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী কোম্পানিটির দ্বিতীয় প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর, ২০১৯) ইপিএস হয়েছে ১৮ পয়সা। আগের বছরে একই সময়ে ইপিএস ছিল ৩০ পয়সা।  আর প্রথম ও দ্বিতীয় প্রন্তিক পর্যন্ত (জুলাই-ডিসেম্বর, ২০১৯) অর্থাৎ ৬ মাসে ইপিএস হয়েছে ৩১ পয়সা।  আগের বছরে একই সময়ে ইপিএস ছিল ৫৮ পয়সা।

সর্বশেষ হিসাব বছরের জন্য শেয়ারহোল্ডারদের ৭ শতাংশ নগদ ও ৫ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ দিয়েছে কপারটেক ইন্ডাস্ট্রিজ।

সি পার্ল বিচ রিসোর্ট : গত বছরের ১৬ জুলাই পুঁজিবাজারে সি পার্ল বিচ রিসোর্টের লেনদেন শুরু হয়। কোম্পানিটির প্রতিটি শেয়ারের ইস্যু মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ টাকা।  গত ২৫ মার্চ পর্যন্ত কোম্পানিটির শেয়ার সর্বশেষ লেনদেন হয়েছে ৭৯.১০ টাকা।  অর্থাৎ ইস্যু মূল্যের চেয়ে ৬৯.১০ টাকা বেশি দরে লেনদেন হচ্ছে কোম্পানিটির শেয়ার।

সী পার্ল শেয়ারবাজার থেকে ১৫ কোটি টাকা উত্তোলনের জন্য ১ কোটি ৫০ লাখ শেয়ার ইস্যু করেছে। উত্তোলন করা টাকা কোম্পানিটির হোটেলের আসবাবপত্র ক্রয় ও ফিনিশিংয়ের কাজ, জমি ক্রয় এবং আইপিও ব্যয় নির্বাহ করবে।

সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী কোম্পানিটির দ্বিতীয় প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর, ২০১৯) ইপিএস হয়েছে ১৬ পয়সা।  আগের বছরে একই সময়ে ইপিএস ছিল ১৯ পয়সা।  আর প্রথম ও দ্বিতীয় প্রন্তিক পর্যন্ত (জুলাই-ডিসেম্বর, ২০১৯) অর্থাৎ ৬ মাসে ইপিএস হয়েছে ২৭ পয়সা।  আগের বছরে একই সময়ে ইপিএস ছিল ৩২ পয়সা।

সর্বশেষ হিসাব বছরের জন্য শেয়ারহোল্ডারদের ৫ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ দিয়েছে সি পার্ল।

সিলকো ফার্মা : গত বছরের ১৩ জুন পুঁজিবাজারে সিলকো ফার্মার লেনদেন শুরু হয়। কোম্পানিটির প্রতিটি শেয়ারের ইস্যু মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ টাকা।  গত ২৫ মার্চ পর্যন্ত কোম্পানিটির শেয়ার সর্বশেষ লেনদেন হয়েছে ২২.৪০ টাকা।  অর্থাৎ ইস্যু মূল্যের চেয়ে ১২.৪০ টাকা বেশি দরে লেনদেন হচ্ছে কোম্পানিটির শেয়ার।

কোম্পানিটি শেয়ারবাজারে ৩ কোটি শেয়ার ছেড়ে ৩০ কোটি টাকা উত্তোলন করে।  উত্তোলনা করা টাকা কোম্পানিটি কারখানা ভবন নির্মাণ, যন্ত্রপাতি ক্রয়, ডেলিভারি ভ্যান ক্রয় ও আইপিও খরচ খাতে ব্যয় করবে।

সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী কোম্পানিটির দ্বিতীয় প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর, ২০১৯) ইপিএস হয়েছে ২৩ পয়সা। আগের বছরে একই সময়ে ইপিএস ছিল ৩৪ পয়সা।  আর প্রথম ও দ্বিতীয় প্রান্তিক পর্যন্ত (জুলাই-ডিসেম্বর, ২০১৯) অর্থাৎ ৬ মাসে ইপিএস হয়েছে ৫১ পয়সা।  আগের বছরে একই সময়ে ইপিএস ছিল ৬৫ পয়সা।

সমাপ্ত হিসাব বছরের জন্য শেয়ারহোল্ডারদের মোট ১২ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়েছে সিলকো ফার্মা।  এর মধ্যে ২ শতাংশ নগদ ও ১০ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ।

নিউ লাইন ক্লথিংস : গত বছরের ২৭ মে পুঁজিবাজারে নিউ লাইন ক্লথিংসের লেনদেন শুরু হয়।  কোম্পানিটির প্রতিটি শেয়ারের ইস্যু মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ টাকা।  গত ২৫ মার্চ কোম্পানিটির শেয়ার সর্বশেষ লেনদেন হয়েছে ১২.৯০ টাকা।  অর্থাৎ ইস্যু মূল্যের চেয়ে মাত্র ২.৯০ টাকা বেশি দরে লেনদেন হচ্ছে কোম্পানিটির শেয়ার।

কোম্পানিটি শেয়ারবাজারে ৩ কোটি শেয়ার ইস্যুর মাধ্যমে ৩০ কোটি টাকা উত্তোলনের করেছে।  উত্তোলন করা টাকা কোম্পানিটি যন্ত্রপাতি ও কলকব্জা ক্রয়, কারখানা ভবন সম্প্রসারণ, মেয়াদী ঋণ পরিশোধ এবং আইপিও খরচ খাতে ব্যয় করবে।

সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী কোম্পানিটির দ্বিতীয় প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর, ২০১৯) ইপিএস হয়েছে ৪৭ পয়সা। আগের বছরে একই সময়ে ইপিএস ছিল ৫৩ পয়সা।  আর প্রথম ও দ্বিতীয় প্রান্তিক পর্যন্ত (জুলাই-ডিসেম্বর, ২০১৯) অর্থাৎ ৬ মাসে ইপিএস হয়েছে ৮৯ পয়সা।  আগের বছরে একই সময়ে ইপিএস ছিল ১.১১ টাকা।

সর্বশেষ হিসাব বছরের জন্য শেয়ারহোল্ডারদের ৩ শতাংশ নগদ ও ৭ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ দিয়েছে কোম্পানিটি।

জেনেক্স ইনফোসিস : গত বছরের ৬ ফেব্রুয়ারি পুঁজিবাজারে জেনেক্স ইনফোসিসের লেনদেন শুরু হয়। কোম্পানিটির প্রতিটি শেয়ারের ইস্যু মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ টাকা।  গত ২৫ মার্চ পর্যন্ত কোম্পানিটির শেয়ার সর্বশেষ লেনদেন হয়েছে ৫৪.৭০ টাকা।  ইস্যু মূল্যের চেয়ে ৪৪.৭০ টাকা বেশি দরে লেনদেন হচ্ছে কোম্পানিটির শেয়ার।

কোম্পানিটি শেয়ারবাজার থেকে ২০ কোটি টাকা উত্তোলনের জন্য ২ কোটি শেয়ার ইস্যু করে। উত্তোলনা করা টাকা কোম্পানিটি ব্যবসা সম্প্রসারণ, ঋণ পরিশোধ ও আইপিও খরচ খাতে ব্যয় করবে।

সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী কোম্পানিটির দ্বিতীয় প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর, ২০১৯) সমন্বিত ইপিএস হয়েছে ১.২১ টাকা।  আগের বছরে একই সময়ে ইপিএস ছিল ৩৯ পয়সা।  আর প্রথম ও দ্বিতীয় প্রন্তিক পর্যন্ত (জুলাই-ডিসেম্বর, ২০১৯) অর্থাৎ ৬ মাসে সমন্বিত ইপিএস হয়েছে ২.০৯ টাকা।  আগের বছরে একই সময়ে সমন্বিত ইপিএস ছিল ৮১ পয়সা।

গত হিসাব বছরের জন্য শেয়ারহোল্ডারদের ৫ শতাংশ নগদ ও ১৫ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ দিয়েছে কোম্পানিটি।

এসএস স্টিল : গত বছরের ১৭ জানুয়ারি পুঁজিবাজারে এসএস স্টিলের লেনদেন শুরু হয়। কোম্পানিটির প্রতিটি শেয়ারের ইস্যু মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ টাকা।  গত ২৫ মার্চ কোম্পানিটির শেয়ার সর্বশেষ লেনদেন হয়েছে ১০.৩০ টাকা।  অর্থাৎ ইস্যু মূল্যের চেয়ে মাত্র ৩০ পয়সা বেশি দরে লেনদেন হচ্ছে কোম্পানিটির শেয়ার।

এসএস স্টিল শেয়ারবাজার থেকে ২৫ কোটি টাকা উত্তোলনের জন্য ২ কোটি ৫০ লাখ শেয়ার ছাড়ে। উত্তোলনা করা টাকা কোম্পানিটি যন্ত্রপাতি ও কলকব্জা ক্রয় ও স্থাপন, ভবন নির্মাণ এবং আইপিও খরচ খাতে ব্যয় করবে।

সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী কোম্পানিটির দ্বিতীয় প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর, ২০১৯) ইপিএস হয়েছে ৪৬ পয়সা। আগের বছরে একই সময়ে ইপিএস ছিল ৪৩ পয়সা।  আর প্রথম ও দ্বিতীয় প্রান্তিক পর্যন্ত (জুলাই-ডিসেম্বর, ২০১৯) অর্থাৎ ৬ মাসে ইপিএস হয়েছে ১.১৫ টাকা।  আগের বছরে একই সময়ে ইপিএস ছিল ৭৮ পয়সা।

আলোচ্য সময়ের জন্য শেয়ারহোল্ডারদের ১৫ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ দিয়েছে কোম্পানিটি।

বুক বিল্ডিং মেথড

এডিএন টেলিকম : ২০২০ সালে ৬ জানুয়ারি বছরের প্রথম কোম্পানি হিসেবে পুঁজিবাজারে এডিএন টেলিকম লেনদেন শুরু হয়। কোম্পানিটির প্রতিটি শেয়ারের ইস্যু মূল্য ১০ টাকার সঙ্গে অতিরিক্ত ২০ টাকা প্রিমিয়াম ধরে যোগ্য বিনিয়োগকারীদের জন্য কাট অব প্রাইস ৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।  আর একই ইস্যু মূল্যের সঙ্গে অতিরিক্ত ১৭ টাকা প্রিমিয়াম ধরে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য ২৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।  গত ২৫ মার্চ পর্যন্ত কোম্পানিটির শেয়ার সর্বশেষ লেনদেন হয়েছে ৩২.১০ টাকায়। অর্থাৎ ইস্যু মূল্যের চেয়ে মাত্র ২.১০ টাকা বেশি দরে লেনদেন হচ্ছে কোম্পানিটির শেয়ার।

কোম্পানিটি শেয়ার বাজারে ১ কোটি ৯৯৭ লাখ ১ হাজার ৬৬৬টি শেয়ার ইস্যুর মাধ্যমে ৫৭ কোটি টাকা উত্তোলন করে।  এর মধ্যে বুক বিল্ডিংয়ের মাধ্যমে যোগ্য বিনিয়োগকারীদের কাছে ১ কোটি ১৮ লাখ ৭৫ হাজার শেয়ার কাট অব প্রাইস ৩০ টাকা করে বিক্রয় করে ৩৫ কোটি ৬২ লাখ ৫০ হাজার টাকা সংগ্রহ করে। আর সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ৭৯ লাখ ১৬ হাজার ৬৬৬টি শেয়ার ২৭ টাকা করে বিক্রির মাধ্যমে ২১ কোটি ৩৭ লাখ ৪৯ হাজার ৯৮২ টাকা সংগ্রহ করা হয়। উত্তোলনা করা টাকা কোম্পানিটি ভৌত কাঠামো উন্নয়ন, ডাটা সেন্টার স্থাপন, ব্যাংক ঋণ পরিশোধ এবং আইপিও খরচ খাতে ব্যয় করবে।

সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী কোম্পানিটির দ্বিতীয় প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর, ২০১৯) ইপিএস হয়েছে ৬২ পয়সা। আগের বছরে একই সময়ে ইপিএস ছিল ৩৮ পয়সা।  আর প্রথম ও দ্বিতীয় প্রন্তিক পর্যন্ত (জুলাই-ডিসেম্বর, ২০১৯) অর্থাৎ ৬ মাসে  পিএস হয়েছে ১.২৩ টাকা।  আগের বছরে একই সময়ে ইপিএস ছিল ৮৬ পয়সা।

আলোচ্য সময়ের জন্য শেয়ারহোল্ডারদের কোনো লভ্যাংশ দেয়নি।

রানার অটোমোবাইলস : গত কছরের ২১ মে পুঁজিবাজারে রানার অটোমোবাইলসের লেনদেন শুরু হয়। কোম্পানিটির প্রতিটি শেয়ারের ইস্যু মূল্য ১০ টাকার সঙ্গে অতিরিক্ত ৬৫ টাকা প্রিমিয়াম ধরে যোগ্য বিনিয়োগকারীদের জন্য কাট অব প্রাইস ৭৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।  আর একই ইস্যু মূল্যের সঙ্গে অতিরিক্ত ৫৭ টাকা প্রিমিয়াম ধরে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য ৬৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত ২৫ মার্চ পর্যন্ত কোম্পানিটির শেয়ার সর্বশেষ লেনদেন হয়েছে ৪৬.১০ টাকায়।  অর্থাৎ ইস্যু মূল্যের চেয়ে ২৮.৯০ কম দরে লেনদেন হচ্ছে কোম্পানিটির শেয়ার।

কোম্পানিটি শেয়ার বাজার থেকে ১০০ কোটি টাকা উত্তোলন করেছে।  এ লক্ষ্যে যোগ্য বিনিয়োগকারীদের কাছে ৮৩ লাখ ৩৩ হাজার ৩৩৩টি শেয়ার কাট অব প্রাইস ৭৫ টাকা করে বিক্রয় করে ৬২ কোটি ৫০ লাখ টাকা সংগ্রহ করা হয়। সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ৫৫ লাখ ৯৭ হাজার ১৫টি শেয়ার ৬৭ টাকা করে বিক্রয় করা হয়।  এই শেয়ার বিক্রয় থেকে ৩৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা সংগ্রহ করা হয়।  উত্তোলনা করা টাকা কোম্পানিটি গবেষণা ও উন্নয়ন, যন্ত্রপাতি ক্রয়, ব্যাংক ঋণ পরিশোধ এবং আইপিও খরচ খাতে ব্যয় করবে।

সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী কোম্পানিটির দ্বিতীয় প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর, ২০১৯) সমন্বিত ইপিএস হয়েছে ৮৮ পয়সা। আগের বছরে একই সময়ে ইপিএস ছিল ১.৩৭ টাকা। আর প্রথম ও দ্বিতীয় প্রান্তিক পর্যন্ত (জুলাই-ডিসেম্বর, ২০১৯) অর্থাৎ ৬ মাসে সমন্বিত ইপিএস হয়েছে ২.২৪ টাকা।  আগের বছরে একই সময়ে সমন্বিত ইপিএস ছিল ২.৮২ টাকা।

সমাপ্ত হিসাব বছরের জন্য শেয়ারহোল্ডারদের ১০ শতাংশ নগদ ও ৫ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ দিয়েছে রানার অটোমোবাইলস।

এসকোয়্যার নিট কম্পোজিট : গত বছরের ৯ এপ্রিল পুঁজিবাজারে এসকোয়্যার নিট কম্পোজিটের লেনদেন শুরু হয়। কোম্পানিটির প্রতিটি শেয়ারের ইস্যু মূল্য ১০ টাকার সঙ্গে অতিরিক্ত ৩৫ টাকা প্রিমিয়াম ধরে যোগ্য বিনিয়োগকারীদের জন্য কাট অব প্রাইস ৪৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর একই ইস্যু মূল্যের সঙ্গে অতিরিক্ত ৩০ টাকা প্রিমিয়াম ধরে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য ৪০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত ২৫ মার্চ পর্যন্ত কোম্পানিটির শেয়ার সর্বশেষ লেনদেন হয়েছে ২১.৯০ টাকায়। অর্থাৎ ইস্যু মূল্যের চেয়ে ২৩.১০ কম দরে লেনদেন হচ্ছে কোম্পানিটির শেয়ার।

এসকোয়্যার নিট কম্পোজিট আইপিওর মাধ্যমে ৩ কোটি ৪৮ লাখ ৯৫ হাজার ৮৩৩টি শেয়ার ছেড়ে বাজার থেকে ১৫০ কোটি টাকা উত্তোলন করেছে।  এর মধ্যে কোম্পানিটি ২ কোটি ৮ লাখ ৩৩ হাজার ৩৩২টি শেয়ার কাট অব প্রাইস ৪৫ টাকা মূল্যে যোগ্য বিনিয়োগকারীদের নিকট ইস্যু করা হয়।  আর ১ কোটি ৪ লাখ ৬২ হাজার ৫০১টি সাধারণ শেয়ার ৪০ টাকা মূল্যে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের নিকট বিক্রি করা হয়। উত্তোলন করা টাকা কোম্পানিটি ব্যবসা সম্প্রসারণ, ভবন নির্মাণ, ডাইং ও ওয়াশিং প্লান্টের যন্ত্রপাতি ক্রয় খাতে ব্যয় করবে।

সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী কোম্পানিটির দ্বিতীয় প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর, ২০১৯) ইপিএস হয়েছে ৮৭ পয়সা। আগের বছরে একই সময়ে ইপিএস ছিল ১.১৬ পয়সা। আর প্রথম ও দ্বিতীয় প্রন্তিক পর্যন্ত (জুলাই-ডিসেম্বর, ২০১৯) অর্থাৎ ৬ মাসে ইপিএস হয়েছে ১.৫৩ টাকা। আগের বছরে একই সময়ে ইপিএস ছিল ২.০৪ টাকা।

আলোচ্য সময়ের জন্য শেয়ারহোল্ডারদের ১৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে এসকোয়্যার নিট।


এনটি/সাইফ