ঢাকা     মঙ্গলবার   ২৩ জুলাই ২০২৪ ||  শ্রাবণ ৮ ১৪৩১

১৩৬৫ দিন পর বিএনপির হরতাল

হাসান মাহামুদ || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১১:৪২, ২৯ অক্টোবর ২০২৩   আপডেট: ১৬:১০, ২৯ অক্টোবর ২০২৩
১৩৬৫ দিন পর বিএনপির হরতাল

ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তুলে তার প্রতিবাদে ২০২০ সালের ২ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় হরতাল পালন করেছিল বিএনপি। ১৩৬৫ দিন বা প্রায় তিন বছর আট মাস পর, পুলিশ ও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে নিজেদের মহাসমাবেশে হামলার অভিযোগ এনে রোববার সারা দেশে সকাল-সন্ধ্যা হরতালের ডাক দিয়েছে দলটি।

শনিবার (২৮ অক্টোবর) বিকেল সোয়া ৩টার দিকে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নয়াপল্টনে মহাসমাবেশের মঞ্চ থেকে হরতালের ঘোষণা দেন। এর পরপরই কার্যত সমাবেশের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।

২০২০ সালের ২ ফেব্রুয়ারি ডাকা ওই হরতাল নিয়েও অনেক আলোচনা হয়েছিল রাজনৈতিক অঙ্গনে। কারণ দলটি সেবারও দীর্ঘ সময় পর হরতাল কর্মসূচির ডাক দিয়েছিল। ওই সময় তিন বছর ১০ মাস ১১ দিন পর ঢাকায় সকাল-সন্ধ্যা হরতাল পালন করেছিল দলটি। তার আগে ২০১৭ সালের ১৩ ডিসেম্বর দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে সর্বশেষ হরতাল দিয়েছিল বিএনপি।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জন করার পর ২০১৫ সালে ওই নির্বাচনের প্রথম বর্ষপূর্তিতে টানা তিন মাস হরতাল-অবরোধ পালন করে দলটি।

এর আগে ২০০৮ সালের সংসদ নির্বাচনের পর ২০০৯ সালের ৭ জানুয়ারি মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর ওই বছরের ২৭ জুন বিভিন্ন দাবিতে সকাল-সন্ধ্যা হরতালের ডাক দিয়েছিলেন সে সময়ের বিরোধী দলীয় নেত্রী খালেদা জিয়া।

এরপর ২০১০ সালের নভেম্বরে খালেদা জিয়াকে ঢাকা সেনানিবাসের মইনুল রোডের বাড়ি থেকে বের করে দেয়ার প্রতিবাদে বিএনপি হরতাল পালন করে।

এদিকে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবং সমমনা আরো কয়েকটি রাজনৈতিক দলও আজ রোববার হরতাল ডেকেছে। 

অন্যদিকে, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ এই হরতাল কর্মসূচির তীব্র সমালোচনা করে একে প্রতিহত করতে রোববার মাঠে থাকার ঘোষণা দিয়েছে।

দলটির সাধারণ সম্পাদক ঢাকায় আওয়ামী লীগের সমাবেশ থেকে আজ রোববার দেশজুড়ে শান্তি সমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন। এ ছাড়া যুবলীগ আনন্দ সমাবেশ করবে ফার্মগেট আনন্দ সিনেমা হলের সামনে। 

আজ রোববার হরতালের মধ্যে চলাচলে বাধা দেওয়া হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার হাবিবুর রহমান।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালও বলেছেন, আমরা আপনাদের মাধ্যমে নিশ্চয়তা দিতে চাই, যে রাস্তায় অবরোধ করবে, যে গাড়িতে ভাঙচুর করবে, অগ্নি সংযোগ করবে তার ব্যবস্থা আমরা গ্রহণ করব। কাজেই স্বাভাবিক গতিতে সবাই চলবে এটাই আমরা আশা করি।

তিনি বলেন, আমাদের পুলিশ বাহিনী চরম ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছে। আমি মনে করি আমাদের পুলিশ বাহিনী ধৈর্যের সঙ্গে আগামী দিনেও মোকাবেলা করবে।

প্রসঙ্গত, ১৯০৫ সালের ৭ আগস্ট উপমহাদেশে প্রথম হরতাল ডেকেছিলেন ভারতবর্ষের স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম নায়ক মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী ওরফে মহাত্মা গান্ধী। বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধে এ হরতাল পালিত হয়। তবে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে মহাত্মা গান্ধী এ দেশে প্রথম হরতাল ডাকেন ১৯১৯ সালের ৬ এপ্রিল। ওই হরতালে ৩০০ ভারতীয়র মৃত্যু এবং বিপুলসংখ্যক আহত হওয়ার কারণে গান্ধী আর হরতালের মতো কর্মসূচি দেননি।

আমাদের দেশে বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন ও একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে হরতাল পালিত হয়েছে; সেসব হরতাল ছিল মা, মাটি ও মাতৃভূমির স্বার্থে। তখন হরতালে ছিল বিপুল জনসমর্থন। স্বাধীনতার পর আশির দশকে দেশে ক্রমাগত হরতাল বাড়তে থাকে। নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে হরতালের অন্যতম ভূমিকা থাকলেও এর পরের হরতালগুলো ছিল দেশের অর্থনীতি ধ্বংস করার প্রধান হাতিয়ার। নব্বইয়ের পর থেকেই হরতাল আমাদের দেশে ধংসাত্মক রূপ নেয়। বর্তমানে হরতালের অসহায় শিকার সাধারণ জনগণ।

হাসান/তারা

ঘটনাপ্রবাহ

আরো পড়ুন  



সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়