ঢাকা, শনিবার, ৩ কার্তিক ১৪২৬, ১৯ অক্টোবর ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

শেষ ম্যাচে আজ অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি বাংলাদেশ

ক্রীড়া প্রতিবেদক : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-০৯-২১ ১:৪০:১৬ এএম     ||     আপডেট: ২০১৯-০৯-২১ ১২:২৮:৩২ পিএম

বাংলাদেশে নারীদের ফুটবল ইতিহাস খুব বেশি দিনের নয়। এক যুগও হয়নি। তারপরও নারী ফুটবলে বাংলাদেশ যেভাবে আগাচ্ছে, সেই অগ্রগতিটা নিঃসেন্দেহে প্রশংসনীয়। বিশেষ করে বয়সভিত্তিক টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের মেয়েদের পারফরম্যান্স ঈর্শ্বনীয়। এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ নারী ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপের চূড়ান্তপর্বে টানা দুইবার খেলার সুযোগ করে নেওয়াটা সহজ ব্যাপার নয়। এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে দুইধাপে বাছাই হয়। সেই দুই ধাপের বাছাইপর্ব পেরিয়ে চারটি দল সুযোগ পায় চূড়ান্ত পর্বে। যদিও সেখানে অন্যান্য দলগুলোর সঙ্গে বাছাইপর্ব পেরিয়ে আসা দলগুলোর শক্তিমত্তার পার্থক্য অনেক। সে কারণেই চূড়ান্তপর্বে বড় দলগুলোর বিপক্ষে বড় ব্যবধানে হার মানতে হয় বাংলাদেশ, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনামের মতো দলকে।

এবারের এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ নারী ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপে ‘এ’ গ্রুপে প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশ স্বাগতিক থাইল্যান্ডের বিপক্ষে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই করেও হার মানে ১-০ ব্যবধানে। এরপর জাপানের বিপক্ষে হার মানে ৯-০ গোলের ব্যবধানে। তাতে এক ম্যাচ আগেই টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যায় গোলাম রাব্বানী ছোটনের শিষ্যরা। শেষ ম্যাচে আজ শনিবার অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হবে বাংলাদেশের মেয়েরা।

বাংলাদেশের টার্গেট ভালো খেলে দেশে ফেরা। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার টার্গেট অনেক বড়। তারা বাংলাদেশকে গোল বন্যায় ভাসিয়ে ‘এ’ গ্রুপের পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে উঠতে চায়। যাতে সেমিফাইনালে সহজ প্রতিপক্ষকে পেতে পারে। আর সেটা হলে অনূর্ধ্ব-১৭ নারী বিশ্বকাপের টিকিটও নিশ্চিত হয়ে যাবে তাদের। ঠিক যেন এক ঢিলে দুই পাখি শিকার।

থাইল্যান্ডের বিপক্ষে গোল ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ ছিল অস্ট্রেলিয়ার। কিন্তু তারা স্বাগতিকদের জালে ৬টির বেশি গোল দিতে পারেনি। অন্যদিকে জাপান বাংলাদেশের জালে ৯ বার বল জড়ায়। সে কারণে ৪ গোলের ব্যবধানে পিছিয়ে আছে অস্ট্রেলিয়ার মেয়েরা। বাংলাদেশের বিপক্ষে তারা সেটা পুষিয়ে নিতে চায়। যেমনটা বলেছেন অস্ট্রেলিয়ার কোচ রায়ে ডাওয়ের, ‘গোল ব্যবধান খুবই গুরুত্বপূর্ণ। হতাশার বিষয় হচ্ছে আমরা থাইল্যান্ডের বিপক্ষের ম্যাচে সেই সুযোগটি পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারিনি। অবশ্য মেয়েরা এতো ভালো পারফরম্যান্স করার পর হতাশ হওয়াটা কঠিন। কিন্তু যে পরিমাণ গোল প্রত্যাশা করেছিলাম সেটা হয়নি। আমরা আসলে গোল ব্যবধান নিয়ে সতর্ক। কারণ, সেটা সিডিং ও স্থান নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। গোল ব্যবধানটা আমাদের বাড়িয়ে নিতেই হবে।’

অস্ট্রেলিয়া যখন গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে সেমিফাইনালে যাওয়ার ছক কষছে তখন বাংলাদেশ শেষ ম্যাচটি ভালো খেলে মাথা উঁচু করে দেশে ফেরার পরিকল্পনা সাজাচ্ছে। গেল আসরেও উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে ৯ গোল হজম করেছিল বাংলাদেশের মেয়েরা। এরপর জাপান ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ভালো খেলেছিল। সেটা থেকে অনুপ্রেরণা পাচ্ছে বাংলাদেশ দল। যেমনটা কোচ ছোটন বলেছেন, ‘আসের আসরে উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে মেয়েরা বড় ব্যবধানে হেরেছিল। ওই ম্যাচের পর জাপান ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ভালো খেলেছিল। জাপানের বিপক্ষে গোল না পেলেও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৭৪ মিনিট পর্যন্ত ২-০ গোলে এগিয়ে ছিল। শেষদিকে দশজন নিয়ে খেলে ৩-২ ব্যবধানে হেরেছিল। বাছাইপর্বে আমাদের মেয়েরা ভালো ফল করেছে। টানা দ্বিতীয়বারের মতো এই টুর্নামেন্টে জায়গা করে নিয়েছে। সেটাই আমাদের উন্নতির প্রমাণ। আমরা আমাদের মেয়েদের বলেছি জাপানের বিপক্ষের ম্যাচটি ভুলে যেতে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষের ম্যাচকে সামনে রেখে তাদের নানাভাবে অনুপ্রাণিত করা হচ্ছে।’

প্রথম কোনো দক্ষিণ এশিয়ার দল হিসেবে বাংলাদেশ সেমিফাইনাল খেলার যে স্বপ্ন দেখেছিল সেটা বুধবারই শেষ হয়ে গেছে। অবশ্য এখনও বাংলাদেশের সামনে সুযোগ রয়েছে ইতিহাস গড়ার। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ড্র করতে পারলে এএফসি কাপে প্রথমবারের মতো পয়েন্ট পাবে মারিয়া মান্ডা-আঁখি খাতুনরা। পারবেন কী তারা? জানতে অপেক্ষা করতে হবে শনিবার বিকেল পর্যন্ত।


থাইল্যান্ড/আমিনুল/নাসিম

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন