Risingbd Online Bangla News Portal

ঢাকা     বুধবার   ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২১ ||  আশ্বিন ১৪ ১৪২৮ ||  ১৯ সফর ১৪৪৩

জয়ে মিলল তারুণ্যের আগমনী বার্তা

ইয়াসিন হাসান || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২১:৩৪, ২৫ জুলাই ২০২১   আপডেট: ২১:৫৮, ২৫ জুলাই ২০২১
জয়ে মিলল তারুণ্যের আগমনী বার্তা

শুরুতেই হোঁচট। এরপর রানরেটে বারবার পিছিয়ে পড়া। পাওয়ার প্লে কিংবা ইনিংসের অর্ধেকতম ওভারেও লড়াইয়ে পিছিয়ে। মোটকথা জিম্বাবুয়ের দেওয়া ১৯৪ রানের টার্গেটে নেমে শুরুর লড়াইয়ে পুরোপুরি পিছিয়ে বাংলাদেশ।

পরিসংখ্যানটায় চোখ মেলানো যাক, ৬ ওভারে জিম্বাবুয়ের রান ছিল ৬৩, বাংলাদেশের ৫০! ১০ ওভারে বাংলাদেশের রান ৯০, জিম্বাবুয়ের ছিল ১০১! পাওয়ার প্লেতে ১৩ রানের এবং ১০ ওভারে ১১ রানের ব্যবধানে পিছিয়ে বাংলাদেশ। শেষ ১০ ওভারে বাংলাদেশের লক্ষ্য ১০৪ রান!

পাহাড়সম রান তাড়া করতে প্রয়োজন বিধ্বংসী এক ইনিংস। যেটা দলকে নিয়ে যাবে জয়ের বন্দরে, উড়িয়ে আনবে বিজয়ের পতাকা এবং টেস্ট, ওয়ানডের পর জেতাবে টি-টোয়েন্টি সিরিজও। নিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি খেলতে নেমে শামীম হোসেন পাটোয়ারি সেই কাজটাই করলেন। প্রথম ম্যাচে ১৩ বলে ২৯ রান করে মন জয় করেছিলেন। আজ ১৫ বলে ৬ বাউন্ডারিতে ৩১ রানের ম্যাচ বিজয়ী ইনিংস খেলে হৃদয়ে জায়গা করে নিলেন।

ওয়েলিংটন মাসাকাদজার বল লেগ সাইডে পাঠিয়ে যখন জয়সূচক রানটি নিলেন তখন ড্রেসিংরুমের নিচে সবার মুখে একটাই নাম, ‘শামীম… শামীম…।’ সীমানার কাছে মিঠুন শরীরের জড়তা কাটিয়ে তালি দেন। তাইজুলের মুখে চওড়া হাসি। রুবেল হোসেনের সেই কিলার স্মাইলিং লুক। সবটাই যেন সেই শামীমকে ঘিরে। ৫ উইকেটের জয়ে বাংলাদেশের হাতে টি-টোয়েন্টি সিরিজের ট্রফি।

দলের সবচেয়ে বড় ধ্রুবতারা সাকিব আল হাসান টি-টোয়েন্টির ফেরিওয়ালা। রান তাড়ার জয়টা উপভোগ করেছেন বেশ। তাইতো দলের সবাইকে পেছনে রেখে নিজের মুঠোফোনে সেলফি তুলে আনন্দ দ্বিগুণ করেন।

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয় বাংলাদেশের জন্য বড় হতেই হবে। এ জয়ে তারুণ্যের জয়গান মিলেছে, পাওয়া গেছে আগমণী বার্তা। সৌম্য ৬৮ রানের ইনিংস খেলে জয়ের নায়ক। ধারাবাহিকতা না থাকায় লম্বা সময়ের জন্য তিনি দলে থিতু হতে পারেন না। তবে এ সিরিজে ১২৬ রান করে সিরিজ সেরার পুরস্কার হাতে সৌম্য নিশ্চয়ই ভাববেন, তিনি দলের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ।

আফিফ রান তাড়া করতে নেমে প্রথম বলেই ছক্কা হাঁকিয়ে ভয়ডরহীন ক্রিকেট খেলার ব্র্যান্ড দেখিয়েছেন। ১৪ রানে থেমে গেলেও তার ইনিংসটি ছিল শতভাগ কার্যকরী। আর শামীম যেন পুরোদস্তুর ফিনিশার। কতটা কার্যকরী, কতটা সামর্থ্যবান বুঝিয়ে দিলেন দ্বিতীয় ম্যাচে। বাঁহাতি ব্যাটসম্যান শেষ দিকে নেমে ঝড়ো ইনিংস খেলে দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন। এক মুহূর্তের জন্য বিচলিত হননি। বরং বুকভরা সাহস নিয়ে এগিয়ে গিয়েছেন। প্রতিপক্ষের ডেরায় আক্রমণ করেছেন।

মাহমুদউল্লাহর ৩৪ রানের ইনিংস অধিনায়কোচিত। তাতে যেন এ ম্যাচে সব পাওয়া হয়ে গেছে বাংলাদেশের। আফিফ, শামীমদের আগমনী বার্তা ও সৌম্য, মাহমুদউল্লাহদের দায়িত্বশীল ইনিংসগুলো ধারাবাহিক হলে সেদিন খুব বেশি দূরে নয়, যেদিন টি-টোয়েন্টিতেও ধ্রুপদী কোনো অর্জনে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দেবে বাংলাদেশ।

ঢাকা/ফাহিম

সর্বশেষ