ঢাকা     বুধবার   ০৭ ডিসেম্বর ২০২২ ||  অগ্রহায়ণ ২৩ ১৪২৯ ||  ১১ জমাদিউল আউয়াল ১৪১৪

বোল্টের ৫ উইকেট, ১২৬ রানে অল আউট বাংলাদেশ

ইয়াসিন হাসান || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০৪:০১, ১০ জানুয়ারি ২০২২   আপডেট: ১২:৩৯, ১০ জানুয়ারি ২০২২
বোল্টের ৫ উইকেট, ১২৬ রানে অল আউট বাংলাদেশ

স্কোর: বাংলাদেশ ১২৬/১০, নিউ জিল্যান্ড ৫২১/৬ (ডিক্লেয়ার)

নিজের মাইলফলক ছোঁয়া ম্যাচ ৫ উইকেটে রাঙালেন ট্রেন্ট বোল্ট। ২৯৬ উইকেট নিয়ে ক্রাইস্টচার্চে নেমেছিলেন বোল্ট। সাদমান, শান্ত ও লিটনের পর মিরাজের উইকেট নিয়ে তিনশ উইকেটের মাইলফলক ছুঁয়েছিলেন বাঁহাতি পেসার। এরপর বাংলাদেশ শিবিরের শেষ ব্যাটসম্যান শরিফুলের উইকেট নিয়ে ৫ উইকেটের স্বাদ পান বোল্ট। টেস্ট ক্যারিয়ারে নবমবারের মতো ৫ উইকেটের স্বাদ পেলেন দ্রুতগতির বোলার।

বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে অল আউট হয়েছে ১২৬ রানে। ফলো অন এড়াতে বাংলাদেশকে ৩২২ রান করা লাগত। কিন্তু ব্যাটিং ব্যর্থতায় হতাশ করেছেন মুমিনুল, লিটন, সাদমানরা। নিউ জিল্যান্ড বাংলাদেশকে ফলো অনে ফেলবে নাকি তারা দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নামবে সেটিই দেখার। দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষে ম্যাচের নাটাই নিউ জিল্যান্ডের হাতে। 

ইয়াসিরের প্রথম ফিফটি

টেস্ট ক্যারিয়ারের প্রথম ফিফটির দেখা পেলেন ইয়াসির আলী রাব্বী। তবে ইনিংসটি বড় করতে পারেননি তিনি। ৫৫ রানে আউট হন জেমিনসনের বলে। ৯৫ বলে ৫৫ রান করেছেন ইয়াসির। দল যখন খাদের কিনারায় তখন সোহানকে নিয়ে জুটি বাধেন ইয়াসির। দুজন ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে ৬০ রান যোগ করেন। সোহান ৪১ রানে ফিরে গেলে ইয়াসির একা হয়ে যান। তারপরও একপ্রান্ত আগলে ব্যাটিং করে নিজের ফিফটি তুলে নেন ইয়াসির।  

উইকেট বিলিয়ে এলেন তাসকিন
লোয়ার অর্ডারে ব্যাটিং করা মানেই কি এলোমেলো শট খেলা! তাসকিন আহমেদকে সেই চিন্তাধারারই মনে হলো। সাজঘরে ফেরার তাড়ায় নিজের উইকেট বিলিয়ে এলেন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। তার উইকেটটি পেয়েছেন কাইল জেমিনসন।  

মিরাজকে ফিরিয়ে বোল্টের ‘ট্রিপল সেঞ্চুরি’

টেস্ট ক্যারিয়ারে তিনশ উইকেটের মাইলফলক ছুঁলেন ট্রেন্ট বোল্ট। মেহেদী হাসান মিরাজকে বোল্ড করে উইকেটের ‘ট্রিপল সেঞ্চুরি’ পূর্ণ করলেন বাঁহাতি পেসার। ২৯৬ উইকেট নিয়ে ক্রাইস্টচার্চে মাঠে নেমেছিলেন বোল্ট।

প্রথম ওভারে সাদমানকে ফেরানোর পর তার শিকার হন নাজমুল হোসেন শান্ত ও লিটন দাশ। দ্বিতীয় স্পেলে বোলিংয়ে এসে বোল্ট তুলে নেন মিরাজের উইকেট। ৭৫ টেস্ট ম্যাচে বিরাট এ কীর্তি গড়লেন তিনি।

নিউ জিল্যান্ডের চতুর্থ বোলার হিসেবে এ কীর্তি গড়েছেন বোল্ট। তার ওপরে আছেন স্যার রিচার্ড হ্যাডলি (৪৩১), ড্যানিয়েল ভেট্টরি (৩৬১) ও টিম সাউদি (৩২৮)।  

সোহানকে ফিরিয়ে প্রতিরোধ ভাঙলেন সাউদি

কঠিন সময় কাটিয়ে থিতু হয়ে ২২ গজে দারুণ সময় কাটাচ্ছিলেন সোহান। উইকেটের চারপাশে দৃষ্টিনন্দন শটে রান পাচ্ছিলেন। কিন্তু টিম সাউদি বোলিংয়ে ফিরে ফেরালেন তাকে। তাতে ভাঙল ইয়াসির ও সোহানের প্রতিরোধ।

ষষ্ঠ উইকেটে দুজন ৬০ রানের জুটি গড়েছিলেন। এতে সোহানের অবদান ছিল ৪১। মুশফিকের ইনজুরিতে সুযোগ পাওয়া এ ব্যাটসম্যান প্রতি আক্রমণে ভালো ব্যাটিং করছিলেন। পছন্দের পুল শটে চার পেয়েছেন তিনটি। কভার ড্রাইভেও সাউদিকে সীমানার বাইরে পাঠিয়েছেন। আবার বোল্টকে পয়েন্টের ওপর দিয়ে চার হাঁকিয়েছেন। কিন্তু প্রতিশ্রুতিশীল ইনিংসের শেষ হয় সাউদির বোলিংয়ে। তার ভেতরে ঢোকানো বলে এলবিডব্লিউ হয়ে সাজঘরে ফিরতে হয় ৬২ বলে ৪১ রান করা সোহানকে। 

সোহান-ইয়াসির ‍জুটিতে প্রতিরোধ

শুরুর বিপর্যয় কাটিয়ে প্রতিরোধ পেয়েছে বাংলাদেশ। কাজী নুরুল হাসান সোহান ও ইয়াসির আলী চৌধুরীর ব্যাটে লড়ছে অতিথিরা। কঠিন সময় কাটিয়ে খানিকটা আলোর দেখা মিলেছে।

ষষ্ঠ উইকেটে প্রথমবার তারা জুটি বেঁধেছেন। জুটির রান এরই মধ্যে পঞ্চাশ ছাড়িয়েছে। চা-বিরতির পর প্রথম ওভারে লিটন সাজঘরে ফেরেন। তখন দলের রান ছিল ৫ উইকেটে ২৭। সেখান থেকে লড়াই শুরু করেন সোহান ও ইয়াসির। উইকেটে থিতু হয়ে এখন রান বাড়াচ্ছেন তারা। 

লিটনকে ফিরিয়ে বোল্টের ‘২৯৯’

আর মাত্র এক উইকেট। তাহলেই টেস্ট ক্রিকেটে তিনশ উইকেটের চূড়ায় উঠে যাবেন ট্রেন্ট বোল্ট। চা-বিরতির পর লিটনকে ফিরিয়ে ২৯৯ উইকেটের স্বাদ পেয়েছেন বাঁহাতি পেসার। ২৯৬ উইকেট নিয়ে মাঠে নেমেছিলেন তিনি। শুরুতে সাদমান ও শান্তকে ফিরিয়ে মাইলফলক গড়ার পথে এগিয়ে যান।

লিটন খুবই বাজেভাবে আউট হয়েছেন। হাফভলি বল জায়গায় দাঁড়িয়ে ড্রাইভ করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু ব্যাট-বলে টাইমিং হয়নি। ব্যাটের স্পর্শ পেয়ে বল যায় উইকেটের পেছনে। ৮ রানে শেষ লিটনের ইনিংস। 

বোল্ট-সাউদির তোপে এলোমেলো বাংলাদেশ

ট্রেন্ট বোল্ট প্রথম ওভারে পেলেন উইকেট। টিম সাউদি কি আর থেমে থাকবেন? নিজের দ্বিতীয় ওভারেই পেয়ে গেলেন সাফল্য। দুজনের প্রতিযোগিতা জমে উঠল। বোল্ট নিজের তৃতীয় ওভারে পেলেন আরেকটি উইকেট। সাউদিও চতুর্থ ওভারে দ্বিতীয় উইকেট পকেটে পুরলেন। ব্যাটসম্যানদের আসা-যাওয়ার মিছিলে দুই পেসারের উইকেট যুদ্ধ নিশ্চয়ই উপভোগ করছে ক্রিকেট বিশ্ব। 

তালগোল পাকানো ব্যাটিংয়ে কিউইরা চেপে ধরেছে বাংলাদেশকে। ১১ রান তুলতেই নেই বাংলাদেশের প্রথম ৪ উইকেট। এমন না যে খুব ভয়ংকর বলে তারা আউট হয়েছেন। প্রত্যেকেই উইকেট উপহার দিয়েছেন বোলারদের।

শুরুটা হয়েছিল সাদমানকে দিয়ে। বোল্টের অফস্টাম্পের বাইরের বল খোঁচা দিয়ে সাদমান ক্যাচ দেন তৃতীয় স্লিপে। ৭ রানে শেষ তার ইনিংস। এরপর অভিষিক্ত নাঈম শেখের পালা। সাউদির মুখোমুখি প্রথম বলটিই খেললেন বাজে ফুটওয়ার্কে। লেগ স্টাম্প দিয়ে বেরিয়ে যাওয়া বল চালাতে চাইলেন। ওই যাত্রায় বেঁচে গেলেও পঞ্চম বলে পারেননি। শরীরের ওপর তাক করা বাউন্স লাফিয়ে খেলতে গিয়ে উইকেটে টেনে আনেন। দুই ওপেনার নেই তিন ওভারেই। 

ষষ্ঠ ও সপ্তম ওভারে আবারো উইকেট। নাজমুল হোসেন শান্ত ও মুমিনুল ফিরলেন পরপর দুই ওভারে। বোল্টের সুইং ডেলিভারীতে ব্যাট ছুঁইয়ে দ্বিতীয় স্লিপে ক্যাচ দেন ৪ রান করা শান্ত। বাংলাদেশের অধিনায়ক মুমিনুল (০) সাউদির ভেতরে ঢোকানো বলের লাইন মিস করে বোল্ড হন।

বাংলাদেশের সামনে রানের পাহাড়

টম ব্লান্ডেলের ফিফটির অপেক্ষায় ছিলেন লাথাম। ফিফটি পূর্ণ হওয়ার ৫ বল পরই ইনিংস ঘোষণা করেন কিউই অধিনায়ক। ততক্ষণে বাংলাদেশের সামনে রানের পাহাড়। নিউ জিল্যান্ড ৬ উইকেটে ৫২১ রানে ইনিংস ঘোষণা করে। বাংলাদেশের বিপক্ষে এটি নিউ জিল্যান্ডের পঞ্চম সর্বোচ্চ রান।

প্রথম দিন এলোমেলো বোলিংয়ে ৩৪৯ রান দিয়েছিলেন বোলাররা। উইকেট পেয়েছিলেন মাত্র ১টি। আজ দ্বিতীয় দিনে আরো ১৭২ রান যোগ করে ইনিংস ঘোষণা করেছে স্বাগতিকরা। এজন্য হারিয়েছে ৫ উইকেট। 

বল হাতে ইবাদত ও শরিফুল পেয়েছেন ২টি করে উইকেট। ইবাদতের বোলিং ছিল ছন্নছাড়া। ৪.৭৬ ইকোনমিতে ৩০ ওভারে দিয়েছেন ১৪৩ রান। তাসকিন ৩২.৫ ওভারে ১১৭ রান দিয়েছেন। মিরাজ ৩১ ওভার হাত ঘুরিয়ে ১২৫ রান দিয়েছেন। দুজনই ছিলেন উইকেটশূন্য।

বোলাররা ছিলেন বিবর্ণ। ব্যাটসম্যানদের সামনে কঠিন সময় অপেক্ষা করছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। 

ব্লান্ডেলের ফিফটি

দ্রুত রান তুলে ফিফটি পূর্ণ করলেন টম ব্লান্ডেল। ৫৬ বলে ৭ বাউন্ডারিতে পঞ্চাশ স্পর্শ করেন তিনি। উইকেট রক্ষক ব্যাটসম্যানের এটি তৃতীয় ফিফটি। ১৪ টেস্টে ২টি সেঞ্চুরিও হাঁকিয়েছেন তিনি।

লাথামকে থামালেন মুমিনুল

প্রথম বল ছক্কা, পরের বল চার। তৃতীয় বল আবার ছক্কা। মুমিনুলকে এভাবেই ১২৬তম ওভারে ক্রিজে স্বাগত জানান টম লাথাম। বাঁহাতি স্পিনার মুমিনুল প্রতিশোধ নিলেন চতুর্থ বলে। একটু ধীর গতির বল। সঙ্গে ফ্লাইট দিয়েছিলেন। স্লগ সুইপ করতে গিয়ে টপ এজ হন লাথাম। মিড উইকেটে ইয়াসির আলীর হাতে ক্যাচ দিয়ে কিউই অধিনায়ক ফেরেন সাজঘরে। ৩৭৩ বলে ২৫২ রান করে থামেন লাথাম। ৩৪ চার ও ২ ছক্কায় সাজান নিজের ইনিংসটি। ক্যারিয়ারে এটি তার দ্বিতীয় সেরা ইনিংস। এর আগে ২৬৪ রান করেছিলেন শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। 

৪ উইকেটে প্রথম সেশন বাংলাদেশের

তাসকিন আহমেদ টম লাথামের ক্যাচটা নিতে পারলে বাংলাদেশ দ্বিতীয় দিনের প্রথম সেশনেই পেয়ে যেত ৫ উইকেট। লাথামের উইকেট না পেলেও সকালের সেশনটি বাংলাদেশের নামেই লিখা থাকলো। ২২.৪ ওভারের খেলায় বাংলাদেশ পেয়েছে ৪ উইকেট। এলোমেলো বোলিংয়ের পরিবর্তে নিয়ন্ত্রিত থাকায় রান এসেছে ৭৪। তাতে সন্তুষ্ট থাকার কথা বাংলাদেশের। 

মধ্যাহ্ন বিরতির আগে শেষ ওভারে বাংলাদেশ পেয়েছে ডার্ল মিচেলের উইকেট। পেসার শরিফুল ইসলামের অফস্টাম্পের বাইরের শর্ট বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন মিচেল। কিন্তু আম্পায়ারের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করেন দলে ফেরা ডানহাতি ব্যাটসম্যান। তাতে তার ভাগ্য খুলেনি। ১১ বলে ৩ রান করে ফেরেন সাজঘরে।

ডাবল সেঞ্চুরি পাওয়া লাথাম ২১৫ রানে অপরাজিত থেকে বিরতিতে গিয়েছেন। দ্বিতীয় সেশনে তাকে বাংলাদেশ কি আটকাতে পারবে? 

ইবাদতের জোড়া ধাক্কা, চাপে নিউ জিল্যান্ড

ধারাবাহিক বোলিংয়ে ইবাদত পেলেন আরেকটি উইকেট। এবার তার শিকার হেনরি নিকোলস। ডানহাতি পেসারের বল ডিফেন্স করতে গিয়েছিলেন নিকোলস। বল তার ব্যাটের চুমু খেয়ে যায় উইকেটের পেছনে। বাংলাদেশের আবেদনে সাড়া দেননি আম্পায়ার। মুমিনুল হক রিভিউ নেন। তাতে মিলে সাফল্য। রিপ্লেতে দেখা যায়, বল ব্যাটের আলতো ছোঁয়া পেয়ে উইকেট কিপার সোহানের হাতে জমা পড়ে। ৪ বলে শূন্য রান করে ফিরলেন নিকোলস।    

লাথামকে জীবন দিলেন তাসকিন

নিজের বোলিংয়ে ফিরতি ক্যাচ পেয়েছিলেন তাসকিন আহমেদ। সেটাও ডাবল সেঞ্চুরিয়ান টম লাথামের। হাতে বল জমিয়েও ধরে রাখতে পারেননি। ২০৮ রানে লাথামকে জীবন দেন তাসকিন। ডানহাতি পেসারের শর্ট বল অনসাইডে খেলতে চেয়েছিলেন লাথাম। বল একটু নিচু হওয়ায় বিভ্রান্ত হন লাথাম। ব্যাটের কোনায় লেগে বল হাওয়ায় ভেসে ওঠে। দৌড়ে, ঝাপিয়ে বল তালুবন্দি করেছিলেন তাসকিন। কিন্তু শেষ মুহূর্তে তার হাত ফসকে বল বেরিয়ে যায়। 

টেইলরকে ফিরিয়ে ইবাদতের সাফল্য

মাউন্ট মঙ্গানুই টেস্টের নায়ক ইবাদত হোসেনকে প্রথম উইকেট পেতে অপেক্ষা করতে হলো ২৮ ওভার। ডানহাতি পেসার ফিরিয়েছেন ক্যারিয়ারের শেষ টেস্ট খেলতে নামা রস টেইলরকে। ইবাদতের ফুলার লেন্থ বলে ক্রস করেছিলেন ডানহাতি ব্যাটসম্যান। ঠিকমতো টাইমিং হয়নি। বল সোজা যায় স্কয়ার লেগে। সেখানে সহজ ক্যাচ নেন শরিফুল ইসলাম। ৩৯ বলে ২৮ রান করে টেইলর ফিরলেন সাজঘরে। এটাই কি তার শেষ টেস্ট ইনিংস হয়ে থাকল নাকি শেষ টেস্টে দ্বিতীয়বার ব্যাটিংয়ের সুযোগ পাবেন তিনি? 

ডাবলে কেন উইলিয়ামসনকে ছুঁলেন লাথাম

১৯৯ রানে থেকে যে কোনো শট খেলতেই সাহসিকতার পরিচয় দিতে হয়। লাথাম তেমন কাজটাই করলেন। তাসকিনের হাফভলি বলে দারুণ এক কভার ড্রাইভ করলেন। বল চলে গেল সীমানায়। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দ্বিতীয় ডাবল পূর্ণ করলেন লাথাম। সব মিলিয়ে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে তার পঞ্চম ডাবল। তাতে কেন উইলিয়ামসনকে ছুঁলেন বাঁহাতি ওপেনার। ৩০৫ বলে ৩২ বাউন্ডারিতে লাথাম পৌঁছেছেন ডাবল সেঞ্চুরিতে। তার ক্যারিয়ার সেরা ২৬৪ রান করেছেন শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে।  

টেইলরকে গার্ড অব অনার

বিদায়ী টেস্টে রস টেইলর। কনওয়ের বিদায়ে চারে ব্যাটিংয়ে আসেন তিনি। ব্যাটিংয়ে নামতেই স্টেডিয়ামের গ্যালারির দর্শকরা দাঁড়িয়ে তাকে অভিবাদন জানান। বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা তাকে দেন গার্ড অব অনার। দুই পাশে দাঁড়িয়ে টেইলরকে সম্মান জানান মুমিনুল, লিটন, সোহানরা। নিউ জিল্যান্ডের কিংবদন্তি ক্রিকেটার এই টেস্ট দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় বলবেন। চলতি মৌসুম শেষে তুলে রাখবেন ব্যাট-প্যাড। 

মেহেদীর দুর্দান্ত থ্রো ফেরাল কনওয়েকে

অবশেষে ভাঙল কনওয়ে ও লাথাম দেয়াল। কোনো বোলার তাদের পথ আলাদা করতে পারেননি। ফিল্ডার মেহেদী হাসান মিরাজ তাদের ২১৫ রানের জুটি ভেঙেছেন। শরিফুলের বল আলতো টোকায় খেলেছিলেন লাথাম। বল খানিকটা দূরে যাওয়ায় ১ রানের জন্য কল করেন কিউই অধিনায়ক। কনওয়ে সেই ডাকে সাড়া দেন। কিন্তু মিরাজ ছিলেন ক্ষিপ্র। কভার থেকে দৌড়ে বল এক হাতে লুফে সরাসরি থ্রোতে ভাঙেন উইকেট। কনওয়ের ইনিংস থেমে যায় সেখানেই। ১৬৬ বলে ১০৯ রান করেন কনওয়ে। 

প্রথম বলেই সেঞ্চুরি

৯৯ রানে দিন শুরু করেছিলেন ডেভন কনওয়ে। সেঞ্চুরি পেতে অপেক্ষা করতে হয়নি তাকে। এজন্য ইবাদত হোসেনকে ধন্যবাদ দিতে পারেন। দিনের প্রথম বল করেছেন লেগ স্টাম্পের বাইরে। আলগা বলে ব্যাট ছুঁয়ে বাউন্ডারিতে পাঠান বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। তাতে ক্যারিয়ারের তৃতীয় সেঞ্চুরি পেয়ে যান কনওয়ে। দারুণ ফর্মে থাকা এ ব্যাটসম্যান প্রথম টেস্টেও সেঞ্চুরি পেয়েছিলেন। সব মিলিয়ে ৫ টেস্টে ৩ সেঞ্চুরির সঙ্গে ২টি হাফ সেঞ্চুরিও আছে তার।

কোথায় থামবে নিউ জিল্যান্ড?

ক্রাইস্টচার্চ টেস্টের প্রথম দিন রান উৎসব করেছিল নিউ জিল্যান্ড। মাত্র ১ উইকেট হারিয়ে স্কোরবোর্ডে তুলে নেয় ৩৪৯ রান। সেঞ্চুরির অপেক্ষায় আছেন ডেভন কনওয়ে। ডাবলের অপেক্ষায় টম লাথাম। দুজনের অবিচ্ছন্ন জুটিতে এসেছে ২০১ রান। আজ কোথায় গিয়ে থামবেন তারা?

ভালো দিনের অপেক্ষায় বাংলাদেশ

মাউন্ট মঙ্গানুই টেস্টের সুখস্মৃতি নিয়ে ক্রাইস্টচার্চে মাঠে নামলেও প্রথম দিনটি ভালো যায়নি বাংলাদেশের। স্বাগতিকদের রান উৎসব ও নিজেদের এলোমেলো ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ পিছিয়ে যায় প্রথম দিনই। আজ একটি ভালো দিনের অপেক্ষায় বাংলাদেশ। প্রথম দিন বাংলাদেশের পক্ষে কিছুই আসেনি।

পেসারদের মধ্যে প্রথম টেস্টের নায়ক ইবাদত ছিলেন সবচেয়ে বেশি এলোমেলো। ওভার প্রতি তিনি দিয়েছেন সবচেয়ে বেশি রান (৫.৪২)। এ ছাড়া তাসকিন আহমেদ ৩.০৯ ও শরিফুল দিয়েছেন ২.৭৭ রান করে। একমাত্র উইকেটটি জমা হয়েছে শরিফুলের ঝুলিতে। তিন পেসার বোলিং করেছেন ৬১ ওভার।  আজ তারা জ্বলে উঠলে জ্বলে উঠবে বাংলাদেশও।

ঢাকা/ইয়াসিন

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়