ঢাকা     শুক্রবার   ০১ জুলাই ২০২২ ||  আষাঢ় ১৭ ১৪২৯ ||  ০১ জিলহজ ১৪৪৩

লিটন-মুশফিকের সেঞ্চুরিতে সোনামাখা দিন

ক্রীড়া প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০৯:৩২, ২৩ মে ২০২২   আপডেট: ১৯:৪৬, ২৩ মে ২০২২
লিটন-মুশফিকের সেঞ্চুরিতে সোনামাখা দিন

লিটন-মুশফিকে অবিশ্বাস্য দিন গেল বাংলাদেশের (ছবি: বিসিবি)

সংক্ষিপ্ত স্কোর: প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ- ২৭৭/৫ (৮৫ ওভার) মুশফিক ১১৫*, লিটন ১৩৫*

প্রভাতের সূর্য নাকি বলে দেয় দিনের পূর্বাভাস। কিন্তু এবার তো উল্টো হলো! পূর্বের সূর্য তখনও মিরপুরের সবুজ গালিচাকে সোনালি রঙয়ে রাঙিয়ে তুলছিল। বাংলাদেশের জন্য সোনালি সকালের শুরুটা ছিল তালগোল পাকানো। কিন্তু পূর্বের সূর্য পশ্চিমে হেলে পড়তেই চোখেমুখে প্রাপ্তির আনন্দ, দাপট দেখানোর তৃপ্তি। দিন শেষে ড্রেসিংরুমের চিত্র দেখে বোঝার উপায় নেই সকালে সেখানে ‘শশ্মান’ তৈরি হয়েছিল। 

সকালে টস জিতে ব্যাটিং করতে নেমে ৪৫ মিনিটেই লণ্ডভণ্ড বাংলাদেশ। দুই পেসারের নতুন বলের আক্রমণে ২৪ রানেই নেই ৫ উইকেট। তিন ব্যাটসম্যান তামিম, জয় ও সাকিব ফেরেন রানের খাতা খোলার আগে। মুমিনুল, শান্ত দুই অঙ্ক ছুঁতে পারেননি। 

সেখান থেকে অনবদ্য এক গল্প লেখা শুরু করেন মুশফিকুর রহিম ও লিটন দাস। দুই লড়াকু সৈনিকের রাজ‌্য বাঁচানোর লড়াই। দুই ডানহাতি ব্যাটসম্যান শুরুতে উইকেটে থিতু হতে সময় নিয়েছিলেন। এরপর প্রতি আক্রমণে অতিথিদের নাড়িয়ে দেন। জোড়া সেঞ্চুরিতে দেন জবাব। 

সকালের সেশনটা শ্রীলঙ্কার হলেও শেষ দুই সেশনে দাপট দেখায় বাংলাদেশ। আধিপত্য বিস্তার করে এগিয়ে যান মুশফিক ও লিটন। ঢাকা টেস্টে প্রথম দিন শেষে ৫ উইকেটে বাংলাদেশের রান ২৭৭। মুশফিকের রান অপরাজিত ১১৫, লিটনের ১৩৫। প্রথমবার ষষ্ঠ উইকেটে দুইশ রান ছোঁয়া এই জুটি করেছে ২৫৩ রান।

শেষ বিকেল রাঙাল বাংলাদেশই

দিনের সবচেয়ে লম্বা সেশনে কোনো বিপদ হয়নি। ৩২ ওভারের সেশনে বাংলাদেশ ১২৪ রান তুলেছে। এই সেশনে লিটন সেঞ্চুরি তুলে নেন। তার দেখানো পথে হাঁটেন মুশফিকও। তাদের জুটির রান দুইশ পেরিয়ে যায়। পরবর্তীতে নিখুঁত ব্যাটিংয়ে শক্ত অবস্থানে থেকে দিন শেষ করেছে বাংলাদেশ। সকালের সেশনের প্রথম ঘণ্টা বাদ দিলে দিনটি পুরোটাই বাংলাদেশের নামেই লেখা হলো।   

নতুন বল নিলো শ্রীলঙ্কা

৮০ ওভারের পর নতুন বল নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। শ্রীলঙ্কা এক মুহূর্তও দেরি করেনি। দিমুথ করুণারত্নে বোলিংয়ে এনেছেন সকালে নতুন বলে বাংলাদেশকে ভোগানো কাসুন রাজিতাকে। ডানহাতি পেসার ৩ উইকেট নিয়েছিলেন। আরেক পেসার আশিথা ফার্নান্দো নিয়েছিলেন ২ উইকেট। নতুন বলে ৪৫ মিনিটেই লণ্ডভণ্ড বাংলাদেশ। ২৪ রানে ৫ উইকেট হারায় স্বাগতিকরা। সেখান থেকে মুশফিক ও লিটনের বীরত্বগাথায় দিনটা নিজেদের করে নেওয়ার অপেক্ষায় বাংলাদেশ। দুজনের জোড়া সেঞ্চুরিতে বাংলাদেশের রান ৫ উইকেটে ২৬০। 

চট্টগ্রামের পর ঢাকাতেও মুশফিকের সেঞ্চুরি

ছন্দে থাকা মুশফিকুর রহিম পেয়ে গেলেন আরেকটি সেঞ্চুরি। চট্টগ্রামে সেঞ্চুরি পেয়েছিলেন ১৮ ইনিংস পর। এবার কোনো বিরতি নেই। ব্যাক টু ব্যাক সেঞ্চুরিতে উজ্জ্বল বাংলাদেশের ব্যাটিং স্তম্ভ। সাত সকালেই মাঠে নেমেছিলেন। ক্রিজের একপ্রান্তে দাঁড়িয়ে সতীর্থদের আসা-যাওয়ার মিছিলে দেখেছেন। কিন্তু পথ ভোলেননি। লিটনকে সঙ্গে নিয়ে ২২ গজে দু্যতি ছড়িয়ে ক্যারিয়ারের নবম সেঞ্চুরি তুলে নেন। ১১২ বলে পঞ্চাশ ছুঁয়েছিলেন। হাফ সেঞ্চুরি থেকে সেঞ্চুরিতে পৌঁছাতে খেলেন আরো ১০৬ বল। প্রতিপক্ষকে কোনো সুযোগ না দিয়ে উইকেটের চারপাশে দারুণ সব শট খেলে মাইলফলকে পৌঁছান এ ব্যাটসম্যান। 

পড়ুন: ৩৫তম জন্মদিনে মুশফিক শুনলেন, বিসিবি বলছে— রাস্তা মাপো সিনিয়র!

মুশফিক-লিটনের রেকর্ড রানের জুটি

গত বছরের নভেম্বরে পাকিস্তানের বিপক্ষে চট্টগ্রামে পঞ্চম উইকেটে ২০৬ রানের জুটি গড়েছিলেন মুশফিকুর রহিম ও লিটন দাস। আজ সেই রান ছাপিয়ে নতুন রেকর্ড গড়েছেন দুই ব্যাটসম্যান। সাদা পোশাকে এটি তাদের দ্বিতীয় ডাবল সেঞ্চুরির জুটি। ২৪ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়া দলকে উদ্ধার করেন মুশফিক ও লিটন।

লিটন এরই মধ্যে সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন। মুশফিক সেই পথেই হাঁটছেন। পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ পরিস্থিতি প্রায় একই রকম ছিল। সেবার ৪৯ রানে ৪ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। সেখান থেকে দলের হাল ধরেন এ দুই ব্যাটসম্যান। 

ষষ্ঠ উইকেটে এটি বাংলাদেশের একমাত্র ডাবল সেঞ্চুরি জুটি। এর আগে ২০০৭ সালে মুশফিক ও আশরাফুল ১৯১ রান করেছিলেন। 

লিটনের সেঞ্চুরি, অপেক্ষায় মুশফিক

আশিথা ফার্নান্দোর শর্ট বল পুল করে ডিপ স্কয়ার লেগে পাঠালেন লিটন। সেখানে কামিন্ডু মেন্ডিস ছিলেন ফিল্ডিংয়ে। দৌড়ে এক রান নিয়ে প্রান্ত বদল করেছিলেন লিটন। কিন্তু কামিন্ডুর থ্রো লাইনে থাকা ফিল্ডারকে এড়িয়ে চলে যায় সীমানায়। ওভার থ্রো-র রান যোগ হয় লিটনের অ্যাকাউন্টে। তাতেই সেঞ্চুরি।

৯৬ রানের সঙ্গে ৫ রান যোগ করে লিটন পেয়ে যান ক্যারিয়ারের তৃতীয় সেঞ্চুরি। শেষ ম্যাচে ৮৮ রান করে সেঞ্চুরি মিস করেছিলেন। এবার কোনো ভুল করেননি। দল যখন খাদের কিনারায় তখন ব্যাট হাতে দোর্দন্ড প্রতাপ দেখিয়েছেন লিটন। ফিফটি ছুঁয়েছেন ৯৬ বলে। সেঞ্চুরিতে পৌঁছতে খেলেছেন ১৪৯ বল। সব মিলিয়ে বাউন্ডারি ১৩টি।  

সেঞ্চুরির অপেক্ষায় আছেন মুশফিকুর রহিমও। ৮৭ রানে ব্যাটিং করছেন তিনি। দুজনের জুটির রান ১৮৫। ২৪ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে দল যখন বিপদে তখন হাল ধরেছিলেন দুজন। 

ধ্বংসস্তুপ থেকে উঠে মুশফিক-লিটনের ব্যাটে আধিপত্য বিস্তার

প্রথম ও দ্বিতীয় সেশনের মধ্যে কী আকাশ-পাতাল তফাৎ! সকালের সেশনে দল ছিল ধ্বংসস্তুপে। সেখান থেকে উঠে দ্বিতীয় সেশনে স্বপ্নের সৌধে বাংলাদেশ। কোনো উইকেট না হারিয়ে এই সেশনে মুশফিকুর রহিম ও লিটনের ব্যাটে আধিপত্য বিস্তার করল বাংলাদেশ।

৩০ ওভারে দুজন যুক্ত করলেন ৮৭ রান। সব মিলিয়ে দলীয় রান ৫ উইকেটে ১৫৩। মুশফিক লিটন এই সেশনে তুলে নেন ব্যক্তিগত ফিফটি। তাদের দুজনের ফিফটিতে জুটির রানও সেঞ্চুরি ছড়িয়েছে। ইনিংস বড় করার পথে আছেন তারা। কোনো ভুল না করলে দুজনের ব্যাটেই রাঙা হতে পারে সেঞ্চুরি।

লিটন ৭২ ও মুশফিক ৬২ রানে অপরাজিত থেকে বিরতিতে গিয়েছেন। ১২৯ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি বাংলাদেশকে শুধুমাত্র খাদের কিনারা থেকে উদ্ধারই করেনি, আধিপত্য বিস্তার করে এগিয়ে নিচ্ছে। 

লিটন-মুশফিকের হাফ সেঞ্চুরিতে জুটির সেঞ্চুরি

আরো একটি চার লিটনের ব্যাটে। আরো একটি মাইলফলক পেরিয়ে বাংলাদেশ। ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে লিটন ও মুশফিকের রান একশ ছাড়িয়েছে। ২৪ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে পথ ভোলা বাংলাদেশকে আলো দেখিয়েছেন দুই ডানহাতি ব্যাটসম্যান। ২০৫ বলে তাদের জুটির রান একশ ছাড়িয়েছে।

অফস্পিনার রামেশ মেন্ডিসের শর্ট বল পেছনের পায়ে ভর করে পুল শটে ডিপ স্কয়ার লেগ দিয়ে বাউন্ডারিতে পাঠান লিটন। এর আগে দলের পঞ্চাশ রান, জুটির পঞ্চাশ রান এবং ব্যক্তিগত পঞ্চাশ রানের মাইলফলক ছুঁতেও বাউন্ডারি হাঁকিয়েছিলেন লিটন।

এদিকে জুটির মাইলফলক ছোঁয়ার পর মুশফিক তুলে নিয়েছেন ব‌্যক্তিগত ফিফটি। প্রবীন জয়াবিক্রমাকে ডিপ কভার দিয়ে বাউন্ডারিতে পাঠিয়ে ৪৮ থেকে ৫২ রানে পৌঁছান মুশফিক। টেস্ট ক‌্যারিয়ারে এটি ২৬তম হাফ সেঞ্চুরি। ১১২ বলে ৯ বাউন্ডারিতে ফিফটিতে পৌঁছান মুশফিক।   

জীবন পাওয়ার পর নির্ভীক লিটনের ফিফটি

দ্বিতীয় সেশনে প্রথম ঘণ্টা দারুণ কাটানোর পর লিটন ভুল করলেন বিরতির পর প্রথম বলেই। পেসার আশিথার শর্ট বল পুল করতে গিয়ে টপ এজে ক্যাচ দিয়েছিলেন ব্যাকওয়ার্ড স্কয়ার লেগে। কামিন্ডু মেন্ডিস ঠিকঠাক মতো বলের পজিশনে পৌঁছালেও ক্যাচ নিতে পারেননি। তার হাত ফসকে বল বেরিয়ে যায়।

৪৭ রানে জীবন পান লিটন। কিন্তু ওই ওভারে তাকে থামানো যায়নি। নির্ভীক লিটন শেষ দুই বলে প্রায় একই রকম দুই শটে তিন ফিল্ডারের ফাঁক দিয়ে বল পাঠান বাউন্ডারিতে। প্রথম চারে পেয়ে যান টেস্ট ক্যারিয়ারের ১৩তম ফিফটি। ৯৬ বলে ৮ বাউন্ডারিতে পঞ্চাশে পৌঁছেছেন এ ব্যাটসম্যান। 

লিটন-মুশফিকের ব‌্যাটে শতরান ছাড়িয়ে বাংলাদেশ

দলের রান ছিল ৯৭। লিটন ৪৩ রানে ব্যাটিং করছিলেন। প্রবীন জয়াবিক্রমার শর্ট বল পেছনের পায়ে ভর করে কাট করলেন লিটন। ডিপ কভার দিয়ে বল চলে যায় সীমানায়। ওই চারে বাংলাদেশের রান পৌঁছে গেল একশ রানে। ছন্দে থাকা লিটন এগিয়ে যাচ্ছেন আরেকটি হাফ সেঞ্চুরির দিকে। ৩৬ ওভার শেষে ৫ উইকেটে বাংলাদেশের রান ১০৩। লিটন ৪৭ ও মুশফিক ৩৭ রানে ব্যাটিং করছেন। 

জুটির পঞ্চাশ রানে উজ্জ্বল মুশফিক-লিটন

দুঃসময়ে দলের হাল ধরে স্কোরবোর্ড সচল রেখেছেন মুশফিকুর রহিম ও লিটন দাস। দুই ডানহাতি ব্যাটসম্যানের জুটির পঞ্চাশ রানে শুরুর ধাক্কা সামলে মাথা তুলে লড়াই করছে বাংলাদেশ। ২৪ রানে ৫ উইকেটে হারানোর পর পথ চলা শুরু লিটন ও মুশফিকের। ২৬তম ওভারে প্রবীন জয়াবিক্রমাকে পুল করে বাউন্ডারিতে পাঠিয়ে জুটির পঞ্চাশ রান পূর্ণ করেন লিটন। ১১২ বলে ৫৩ রান করেছেন তারা।

উইকেটে টিকে থাকতে দারুণ মানসিকতা দেখাচ্ছেন তারা। স্থির হয়ে খেলছেন প্রতিটি বল। বাজে বল শাসন করছেন। ভালো বল দেখে শুনে ছেড়ে দিচ্ছেন। তাতে বাংলাদেশের ইনিংসের পায়ের নিজের জমিনও শক্ত হচ্ছে। 

শ্রীলঙ্কার আগুনে বোলিংয়ে প্রথম সেশনে পথহারা বাংলাদেশ

আগুনে বোলিংয়ে শ্রীলঙ্কার দুই পেসার এলোমেলো করে দিয়েছেন বাংলাদেশকে। রাজিথা ও আশিথার সম্মিলিত আক্রমণে প্রথম ঘণ্টাতেই ৫ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। দুই ওপেনার জয় ও তামিম শূন্য রানে ফেরেন সাজঘরে। সাকিব গোল্ডেন ডাক। মুমিনুল আশার আলো দেখালেও দুই অঙ্কের ঘরে যেতে পারেননি। শান্তও ফিরেছেন সাজঘরে।

সব মিলিয়ে প্রথম সেশন পুরোটাই শ্রীলঙ্কার। দ্বিতীয় ঘণ্টায় স্বাগতিকরা প্রতিরোধ পেয়েছে লিটন ও মুশফিকের ব্যাটে। ৪২ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে দলকে আর বিপদে পড়তে দেননি দুই ডানহাতি ব্যাটসম্যান। তাদের ব্যাটে বাংলাদেশ কতদূর এগোয় সেটাই দেখার। আপাতত বাংলাদেশ কঠিন পরিস্থিতিতেই আছে। 

বাংলাদেশের পঞ্চাশ

আশিথা ফার্নান্দোর শর্ট বল পুল করে স্কয়ার লেগ দিয়ে বাউন্ডারিতে পাঠালেন লিটন। ছন্দে থাকা লিটনের ব্যাট থেকে আসা আত্মবিশ্বাসী শটে বাংলাদেশ পৌঁছে যায় দলীয় ফিফটিতে। ১৮.২ ওভারে দলীয় পঞ্চাশ ছুঁয়েছে বাংলাদেশ। 

প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টায় লিটন-মুশফিক 

ছন্দে থাকা লিটন দাসকে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ায় চেষ্টায় আছেন চট্টগ্রাম টেস্টে সেঞ্চুরি পাওয়া মুশফিকুর রহিম। প্রথম ঘণ্টার বিপর্যয় সামলে দ্বিতীয় ঘণ্টায় ভালো শুরু পেয়েছেন তারা। দেখেশুনে স্থির হয়ে খেলছেন। পাশাপাশি আলগা বলে শট খেলে রান বাড়াচ্ছেন। দলের এ অবস্থায় বাড়তি সতর্ক হয়ে খেললেও বিপদ! রান তোলার গতি না থাকলে প্রথম ইনিংসে ভালো পুঁজি পাওয়া যাবে না। 

৫ উইকেট হারিয়ে প্রথম ঘণ্টায় ব্যাকফুটে বাংলাদেশ

রাজিথার বলটা জয়ের খেলতে হতো ফ্রন্টফুটে এসে। ভুল করলেন। আলগা শটে উইকেটে বিলিয়ে এলেন। তাকে অনুসরণ করে তালগোল পাকানো শট খেললেন তামিম ইকবাল, নাজমুল হোসেন শান্ত। দারুণ শুরুর পরও টিকতে পারেননি মুমিনুল হক। সাকিব ২২ গজে আসলেন আর গেলেন।

ঢাকা টেস্টের প্রথম ঘণ্টায় নতুন বলে স্রেফ এলোমেলো বাংলাদেশ। ২৪ রানেই নেই বাংলাদেশের ৫ উইকেট। জয়, তামিম ও সাকিব খুলতে পারেননি রানের খাতা। বাকিদুজন দুই অঙ্কের ঘরে যেতে পারেননি।

দুই পেসার রাজিথা ও আশিথার বোলিং ছিল নিয়ন্ত্রিত। তাদের আগ্রাসী বোলিংয়ে স্রেফ এলোমেলো বাংলাদেশ। গতি আহামরি না হলেও বৈচিত্রে দুজনই অনন্য। ব্যাটসম্যানদের ভোগাচ্ছেন নিয়মিত। লিটন ও মুশফিক এখন ক্রিজে আছেন। তাদের হাত ধরে দল উদ্ধার হয় কিনা সেটাই দেখার। 

সাকিবের গোল্ডেন ডাক

প্রথম বলেই সাকিব আল হাসান ফিরলেন সাজঘরে। পেসার রাজিথার বলে এলবিডব্লিউ হন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। রাউন্ড দ্য উইকেট থেকে বল ভেতরে ঢুকাচ্ছেন রাজিথা। তাতেই এলোমেলো ব্যাটসম্যানরা। সাকিবের প্যাডে আঘাত করলে আম্পায়ার আঙুলে তুলে নেন। রিভিউ নিয়ে বাঁচতে চেয়েছিলেন সাকিব। কিন্তু রিভিউ তার পক্ষে আসেনি। ক্যারিয়ারে এটি তার পঞ্চম ডাক, দ্বিতীয় গোল্ডেন ডাক। ২০০৯ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম গোল্ডেন ডাক হয়েছিলেন। অজন্তা মেন্ডিসের বলে সেবারও এলবিডব্লিউ হয়েছিলেন।  

উইকেট উপহার দিয়ে এলেন শান্ত

বিপর্যয়ে হাল ধরতে পারলেন না নাজমুল হোসেন শান্ত। উল্টো শ্রীলঙ্কাকে উইকেট উপহার দিয়ে এলেন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। পেসার রাজিথার ভেতরে ঢোকানো বলে এলোমেলো শট খেলে বোল্ড হন শান্ত। আউট হওয়ার আগে ২১ বলে ৮ রান করেন করেন এ ব্যাটসম্যান। নতুন ব্যাটসম্যান সাকিব আল হাসান। 

মুমিনুলও সাজঘরে

দারুণ ফ্লিক শটে প্রথম বলেই পেয়েছিলেন বাউন্ডারি। পরের ওভারে আরেকটি চোখ ধাঁধানো কভার ড্রাইভ। মনে হচ্ছিল রান খরায় থাকা মুমিনুল হক পায়ের তলায় মাটি পেয়েছেন। আজ বড় কিছু করবেন। কিন্তু বেশিক্ষণ টিকলেন না বাংলাদেশের অধিনায়ক। পেসার আশিথা ফার্নান্দোর লেন্থ বল খেলা, না খেলা নিয়ে দ্বিধায় ছিলেন। তাতেই সর্বনাশ। বলের মুভমেন্টের কাছে হার মানতে হয় তাকে। ব্যাটে খোঁচা লেগে বল যায় উইকেটের পেছনে। ৯ বলে ৯ রানে ফেরেন মুমিনুল। উইকেটে নতুন ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহিম। 

এলোমেলো শটে ফিরলেন তামিম

আশিথা ফার্নান্দোর লেন্থ বল লেগ সাইডে খেলতে চেয়েছিলেন তামিম ইকবাল। কিন্তু বল-ব্যাটের টাইমিং হয়নি। ব্যাটের উপরের দিকে লেগে বল যায় পয়েন্টে। সেখানে জয়াবিক্রমা দারুণ ক্যাচ নিয়ে তামিমকে সাজঘরের পথ দেখান। দারুণ বোলিংয়ের পর নিখুঁত ফিল্ডিংয়ে তামিমকে রানের খাতা খুলতে দেয়নি শ্রীলঙ্কা। টেস্ট ক্রিকেটে এটি তামিমের দশম ডাক। প্রথম ওভারে আলগা শটে জয় বোল্ড হয়েছিলেন। এবার তামিম ফিরলেন সাজঘরে। দুই ওপেনারই ফিরেছেন শূন্য রানে। 

দ্বিতীয় বলেই উইকেট হারাল বাংলাদেশ

টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে বাংলাদেশের শুরুটা একদম বাজে হলো। পেসার কাশুন রাজিথার দ্বিতীয় বলে বোল্ড ডানহাতি ব্যাটসম্যান মাহমুদুল হাসান জয়। বলে তেমন গতি ছিল না, ১২৮ কি.মি.। কিন্তু স্কিড করে ভেতরে ঢোকায় ব্যাট নামানোর সুযোগ পাননি জয়। আলগা শটে শূন্য রানে ফিরলেন এ ওপেনার। প্রথম বলটিও দারুণ করেছিলেন ডানহাতি পেসার। ইয়র্কার দিয়েছিলেন জয়কে। ঠিকঠাক মতো সেই বলটি আটকে দিলেও দ্বিতীয় বলে সাজঘরে ফিরতে হয় তাকে। উইকেটে নতুন ব‌্যাটসম‌্যান নাজমুল হোসেন শান্ত। 

টস

মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় টেস্টে টস জিতে ব‌্যাটিং করছে বাংলাদেশ। ইনিংস উদ্বোধনে নেমেছেন তামিম ইকবাল ও মাহমুদুল হাসান জয়।  সকাল ১০টায় ম‌্যাচটি শুরু হয়। বাংলাদেশের অধিনায়ক মুমিনুল হক টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। 

বাংলাদেশের একাদশে দুটি পরিবর্তন অনুমিতই ছিল। পেসার শরিফুল ইসলাম ও স্পিনার নাঈম হাসান প্রথম টেস্টের পর ছিটকে গেছেন। তাদের পরিবর্তে একাদশে সুযোগ পেয়েছেন মোসাদ্দেক হোসেন ও ইবাদত হোসেন।

বাংলাদেশ একাদশ: তামিম ইকবাল, মাহমুদুল হাসান জয়, নাজমুল হোসেন শান্ত, মুমিনুল হক, মুশফিকুর রহিম, লিটন দাস, সাকিব আল হাসান, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, ইবাদত হোসেন, খালেদ আহমেদ ও তাইজুল ইসলাম। 

শ্রীলঙ্কা একাদশ: দিমুথ করুণারত্নে, ওশাদা ফার্নান্দো, কুশল মেন্ডিস, অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুউজ, ধনঞ্জয়া ডি সিলভা, দিনেশ চান্দিমাল, নিরোশান ডিকাভেলা, রামেশ মেন্ডিস, প্রবীন জয়াবিক্রমা, কাশুন রাজিথা, আশিথা ফার্নান্দো। 

২০১৮ এর পুনরাবৃত্তি চায় না বাংলাদেশ

সেবারও চট্টগ্রাম টেস্ট ড্র হয়েছিল। পাঁচদিন নিষ্প্রাণ লড়াইয়ের পর অমীমাংসিত থাকে দুই দলের ম্যাচ। কিন্তু ঢাকাতে পা রাখতেই পথ হারায় স্বাগতিকরা। স্পিন বান্ধব উইকেটে, নিজেদের চিরচেনা কন্ডিশনে মুখ থুবড়ে পড়ে বাংলাদেশের। ফলাফল সিরিজ হার। চার বছর পেরিয়ে আবার একই মঞ্চে দুই দল। চট্টগ্রামে দুই দল কেউ কাউকে ছাড় দেয়নি। ঢাকাতে যে উড়াবে বিজয়ের পতাকা সিরিজটা হয়ে যাবে তারই। 

টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে কার কোথায় অবস্থান?

আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের লড়াইয়ে বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কা কিছুক্ষণের মধ্যেই মাঠে নামবে। ‘টেস্ট বিশ্বকাপ’ হিসেবে পরিচিত এ লড়াইয়ে কার কোথায় অবস্থান? ৯ দলের এই প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের অবস্থান আটে। সাত ম্যাচে ১ জয় এবং ড্র ও ৫ পরাজয়ে ১৬ পয়েন্ট বাংলাদেশের। নিউ জিল্যান্ডের মাউন্ট মঙ্গানুই টেস্টে বাংলাদেশ জিতেছিল। সেই টেস্ট জেতায় ১২ পয়েন্ট পান তারা। সর্বশেষ মুমিনুল হক শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টেস্ট ড্র করায় ৪ পয়েন্ট পেয়েছে। শ্রীলঙ্কার পয়েন্ট ২৮। ৫ ম্যাচে ২টি করে জয় ও পরাজয় এবং ১টি ড্র তাদের। ২৮ পয়েন্ট নিয়ে তাদের অবস্থান পাঁচে।  

ঢাকা/ইয়াসিন

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়