ঢাকা     বুধবার   ১৭ আগস্ট ২০২২ ||  ভাদ্র ২ ১৪২৯ ||  ১৮ মহরম ১৪৪৪

ইয়াসির যেন সব কিছু ছেড়ে দিলেন ভাগ্যের ওপর 

সাইফুল ইসলাম রিয়াদ || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৪:২২, ৫ জুলাই ২০২২   আপডেট: ১৪:৫৬, ৫ জুলাই ২০২২
ইয়াসির যেন সব কিছু ছেড়ে দিলেন ভাগ্যের ওপর 

মুঠোফোনে দুইবারের চেষ্টায় পাওয়া গেলো ইয়াসির আলী রাব্বিকে। অপর পাশ থেকে ভেসে আসা কণ্ঠে ছিল জড়তা। শুনেই স্পষ্ট ঘুমে কাতর জাতীয় দলের এই ব্যাটসম্যান। কিন্তু শেষ বিকালে কেউ কি ঘুমায়? ইয়াসির কেন ঘুমাচ্ছেন? মনে এই প্রশ্ন আসলেও করা হয় না। তার আগেই ইয়াসির বলেন, ‘গতকাল সারারাত ঘুমাইনি। তাই এখন ঘুমাচ্ছি। আপনার সাথে রাতে কথা বলি!’

ইয়াসিরের সঙ্গে মুঠোফোনে এই আলাপ হয় সোমবার (৪ জুলাই) বিকালে। ঠিক যখন বাংলাদেশ জাতীয় টি-টোয়েন্টি দল ডোমিনিকা থেকে গায়ানা যাচ্ছিল। সেই ফ্লাইটে অবধারিতভাবে থাকার কথা ছিল ইয়াসিরের। কিন্তু নিয়তির মারপ্যাঁচে ইয়াসির তখন চট্টগ্রামে নিজ বাসায় ঘুমে বিভোর। ঘুম থেকে ওঠার পর ইয়াসিরের সঙ্গে রাতে আবার আলাপ। কীভাবে কাটছে এই সময়টা তার? 

‘কীভাবে আর কাটবে। হয়তো বুঝতেই পারছেন (হাসি)। দেশে আসার পর থেকে আমার বিসিবির মেডিক্যাল টিমের অধীনে পুনর্বাসন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সেটার মধ্যে আছি। আর দিন গুনছি কবে মাঠে ফিরতে পারবো।’- এক নাগাড়ে এভাবেই বলে গেলেন ধীরে ধীরে জাতীয় দলে নিজের জায়গা পোক্ত করতে থাকা এই ক্রিকেটার। 

ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরের আগেই মুশফিকুর রহিম ছুটিতে চলে যান। ইয়াসিরের দায়িত্ব আরও বাড়ে। তাকে খেলতে হবে মিস্টার ডিপেন্ডেবলের জায়গায়, যিনি শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সবশেষ দুই টেস্টেই সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় দলে সার্ভিস দিয়ে আসা মুশফিকের জায়গায় নিজেকে দেখা চাট্টিখানি কথা নয়। ইয়াসিরও মানসিকভাবে সেই প্রস্তুতিই নিচ্ছিলেন। 

উইন্ডিজের বিমান ধরার আগে একটি গণমাধ্যমে ইয়াসির বলেছিলেন, ‘আমি মুশফিক ভাইয়ের জায়গায় খেলবো। মুশফিক ভাইয়ের মতো একজনের জায়গা পূরণ করা সহজ না, যখন কি না বিপুল প্রত্যাশা থাকে সবার। আমার নিজের একটা প্রত্যাশা আছে। যেটা আমি পূরণ করতে চাই।’

কিন্তু ইয়াসিরের কপালে এই সিরিজ লেখা ছিল না। পিঠের ইনজুরিতে প্রথমে টেস্ট সিরিজ শেষ হয়ে যায়। পরে পুরো সফর থেকেই (টি-টোয়েন্টি ও ওয়ানডে) ছিটকে যান। ‘সবকিছু ঠিকঠাক ছিল। এখানে এসে প্রস্তুতিও নিচ্ছিলাম। হঠাৎ করে অনুশীলনের সময় পিঠে ব্যথা অনুভব হয়। ইনজুরিতে পড়ি। ভেবেছিলাম টেস্ট সিরিজের মধ্যেই সুস্থ হবো। আসলে ভাগ্যে ছিল না।’- বলছিলেন ইয়াসির। 

উইন্ডিজের প্রস্তুতি ম্যাচের প্রথম দিন ব্যাটিংয়ের সময় পিঠের ইনজুরিতে পড়েন তিনি। রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে মাঠ থেকে উঠে যান। পরবর্তীতে তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয় এবং এমআরআই করানো হয়। স্ক্যানে তার লাম্বার মেরুদণ্ডে ডিসকোজেনিক ব্যাক পেইন ধরা পড়েছে। সপ্তাহখানেক যেতেই সব আশা শেষ হয়ে যায়। জাতীয় দলের ফিজিও বায়েজিদ ইসলাম জানিয়েছেন, সুস্থ হতে সময় লাগবে। এখানেই শেষ হয়ে যায় ইয়াসিরের উইন্ডিজ সফর। 

মুশফিকের জায়গায় আপনার খেলার কথা ছিল, আপনি সেভাবে প্রস্তুতিও নিচ্ছিলেন, মাঝপথে ইনজুরিতে ছিটকে যাওয়া- এই প্রশ্ন শেষ না করার আগেই ইয়াসির মুখের কথা কেড়ে নেন, ‘দেখেন ইনজুরি কি আমার হাতে আছে? এটা আমাদের অ্যাথলেটদের লাইফের একটা পার্ট। খারাপ তো অবশ্যই লাগবে। খারাপ লাগা কাজ করে। এত দূর যেয়ে ফিরে আসা, কার ভালো লাগে? তবে মেনে নিতে হবে। আমিও মেনে নিয়েছি। এখন দ্রুত মাঠে ফিরতে চাই।’

কথায়-কথায় ইয়াসিরকে আরেকটি প্রশ্ন করতেই হলো। উইন্ডিজ সফর থেকে শুরু হয়েছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দল গোছানোর কাজ। ইনজুরি কি তাকে এই রেস থেকে পিছিয়ে দিয়েছে? ইয়াসির বলেন, ‘এখন এসব আমার মাথায় নেই। বিশ্বকাপ নিয়ে চিন্তা করছি না। চিন্তা করছি কীভাবে তাড়াতাড়ি সুস্থ হওয়া যায়। কপালে লেখা থাকলে বিশ্বকাপ খেলবো, না থাকলে খেলবো না। দেখেন এমন একটা জায়গায় ইনজুরি হয়েছে, পুরোপুরি ঠিক না হলে ভবিষ্যতে সমস্যায় পড়বো।’

ইয়াসির যেন সব কিছু ছেড়ে দিয়েছেন ভাগ্যের ওপর! রিহ্যাবের অংশ হিসেবে তিনি এখন বিশ্রামে আছেন। বিসিবির চিকিৎসক মনজুর হোসাইন জানিয়েছেন, এসব ইনজুরি থেকে পূর্ণ সুস্থ হয়ে ফিরতে চার থেকে ছয় সপ্তাহ লাগে। সেই হিসাব করলে আগস্টের আগে মাঠে ফেরা হচ্ছে না ইয়াসিরের। তারও তাড়া নেই, সুস্থ হয়েই ফিরতে চান মাঠে। 

ঢাকা/ফাহিম

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়