ঢাকা     শুক্রবার   ০৯ ডিসেম্বর ২০২২ ||  অগ্রহায়ণ ২৪ ১৪২৯

আমিরাতের বিপক্ষে প্রথম সিরিজেই বাংলাদেশের জয়

ক্রীড়া প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৯:৩৪, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২   আপডেট: ২৩:৪০, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২
আমিরাতের বিপক্ষে প্রথম সিরিজেই বাংলাদেশের জয়

আরব আমিরাতের বিপক্ষে প্রত্যাশিতভাবে সিরিজ জিতেছে বাংলাদেশ। এর আগে আমিরাতের বিপক্ষে কখনো সিরিজ খেলেনি বাংলাদেশ। প্রথম সিরিজেই মরুর দেশটির বিপক্ষে জয়ের স্বাদ পেয়েছে লাল সবুজের দল। প্রথম ম্যাচে ৭ রানের কষ্টের জয় এলেও দ্বিতীয় ম্যাচে ৩২ রানে জিতে সিরিজ নিশ্চিত করে নুরুল হাসানের দল। রান তাড়ায় নেমে ২৯ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে ফেলে স্বাগতিকরা। পরে হামিদ-রিজওয়ানের ৯২ রানের জুটিতে ঘুরে দাঁড়ায় তারা। ৫১ রানে অপরাজিত ছিলেন রিজওয়ান। বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ২ উইকেট নেন মোসাদ্দেক। 

আরব আমিরাত: ১৩৭/৫ (২০ ওভারে)
বাংলাদেশ: ১৬৯/৫ (২০ ওভার) 

হামিদ-রিজওয়ানের চোখ রাঙানি

বিপর্যয় সামলে ঘুরে দাঁড়িয়েছে আমিরাত। হামিদ-রিজওয়ান ফিফটির জুটি গড়ে শাসন করছেন বাংলাদেশি বোলারদের। ৪ ওভারে তাদের প্রয়োজন ৬৬ রান। ৪৪ বলে পঞ্চম উইকেটে ফিফটির জুটি পূর্ণ হয়। ২৯ রানে ৪ উইকেট পড়ে গেলে দুজনের জুটি শুরু হয়। দলীয় ১০০ পূর্ণ করেন ১৫.৫ ওভারে। ৪০ বলে ৪২ রানে বাসিল আউট হলে ভাঙে সেই জুটি। জুটি থেকে আসে ৭২ বলে ৯২ রান। 

বাংলাদেশের বোলিং তোপে ধুঁকছে আমিরাত

রান তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশের বোলিং তোপের মুখে পড়েছে আমিরাত। তৃতীয় ওভারের পঞ্চম বলে প্রথম উইকেট হারায় তারা। এরপর ষষ্ঠ ওভারের তৃতীয় বলে, সপ্তম ওভারের তৃতীয় ও চতুর্থ বলে হারায় আরও তিনটি উইকেট। ২৭ রানের মাথায় তাসকিন আহমেদের বলে এলবিডব্লিউ হন মুহাম্মদ ওয়াসিম (১৮)। এরপর মোসাদ্দেক এসে দলীয় ২৯ রানের মাথায় পর পর দুই বলে আরিয়ান লাকরা (৪) ও অরবিন্দকে (২) ফেরান।

আমিরাত শিবিরে নাসুমের প্রথম আঘাত:

১৭০ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নামা আরম আমিরাত শিবিরে প্রথম আঘাতটি হেনেছেন নাসুম আহমেদ। তার করা বাংলাদেশের ইনিংসের তৃতীয় ওভারের পঞ্চম বলে কট অ্যান্ড বোল্ড হয়ে যান চিরাগ সুরি। ১০ বল খেলে ১ চারে ৫ রান করেন তিনি।

আমিরাতের সামনে ১৭০ রানের চ্যালেঞ্জ ছুড়লো বাংলাদেশ:

আমিরাতকে ১৭০ রানের লক্ষ্য দিলো বাংলাদেশ। শেষ ৫ ওভারে বাংলাদেশের রানের গতি কমে যায়। শেষ বলে সোহানের ছক্কায় স্কোর ১৬৯ হয়। শেষ ৫ ওভারে আসে মাত্র ৩৮ রান। সোহান ১০ বলে ১৯ ও ইয়াসির আলী ১৩ বলে ২১ রানে অপরাজিত ছিলেন। সর্বোচ্চ ৪৬ রান করেন মিরাজ। এ ছাড়া লিটন ২৫ ও মোসাদ্দেক ২৭ রান করেন। টানা তিন ম্যাচেই ব্যর্থ সাব্বির। এবার তিনি আউট হন ১২ রানে। আমিরাতের হয়ে সর্বোচ্চ ২ উইকেট নেন আয়ান আফজাল খান। 

২৭ রানে আউট মোসাদ্দেক, ক্রিজে সোহান-রাব্বি

২২ বলে ২৭ রান করে আউট মোসাদ্দেক হোসেন। ২ চার ও ১ ছয়ে এই রান করেন মোসাদ্দেক। কার্তিককে মারতে গিয়ে মোসাদ্দেক ধরা পড়েন ওয়াসিমের হাতে।  তার আউটের পর ক্রিজে আসেন সোহান। সঙ্গী ইয়াসির আলী রাব্বি। দুজনেই ক্রিজে নতুন। 

৪ রানের আক্ষেপ নিয়ে মাঠ ছাড়লেন মিরাজ

এশিয়া কাপে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দারুণ শুরুর পর ৩৮ রানে থামতে হয়। আমিরাতের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে সুবিধা করতে পারেননি। কিন্তু দ্বিতীয় ম্যাচেই জ্বলে ওঠেন মিরাজ। চার মেরে খোলেন রানের খাতা। চেষ্টা করেছেন স্ট্রাইক রোটেট করে খেলার। ওপেনিংয়ে নেমে আগলে রেখেছিলেন এক প্রান্ত। সাবিরের বলে এলবিডব্লিউ হওয়ার আগের বলেও চার মেরেছিলেন। টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের প্রথম হাফ সেঞ্চুরি হতে হতেও হলো না। ৩৭ বলে ৪৬ রান করে ফেরেন সাজঘরে। তার ইনিংসে চারের মার ছিল ৫টি।

ঝড় তুলে আফিফের বিদায়, ৭৪ বলে বাংলাদেশের ১০০ 

লিটনের বিদায়ের পর ক্রিজে এসেই ঝড় তোলেন আফিফ। ২ চার ও ১ ছয়ে মনোযোগ দেন দ্রুত রান তোলায়। আয়ান আফজালকে ৬ হাঁকানোর ১ বল পরেই অবশ্য থামতে হয় তাকে। কার্তিক মায়াপ্পননের দুর্দান্ত ক্যাচে সাজঘরে ফেরেন ১০ বলে ১৮ রান করে। ক্রিজে মিরাজের সঙ্গী মোসাদ্দেক। আফিফের বিদায়ের পর রানের গতি কিছুটা কমে যায়। অল্পের জন্য বেঁচে যান নতুন ব্যাটসম্যান মোসাদ্দেক। আয়ানকে ৬ হাঁকিয়ে বাংলাদেশের স্কোরর তিন অঙ্কের ঘরে নিয়ে যান। ১২.২ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে ১০০ করে বাংলাদেশ।

দারুণ ইনিংসির আশা জাগিয়ে আউট লিটন

ক্রিজে আসার পর থেকেই লিটন দাসকে দেখাচ্ছিল ভীষণ আত্মবিশ্বাসী। খেলছিলেন দারুণ সব শট। মিরাজের সঙ্গে বোঝাপড়াও ছিল দেখার মতো। কিন্তু ২৫ রান তাকে থামতে হয়। আয়ান আফজালের ঘূর্ণিতে পরাস্ত হন এই ডানহাতি। পয়েন্টে ক্যাচ তুলে দেন লিটন। ৪ চারে ২০ বলে ২৫ রান করেন এই উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান। ক্রিজে মিরাজের সঙ্গী আফিফ।

মিরাজ-লিটনে পাওয়ার প্লেতে বাংলাদেশের ৪৮

সাব্বির দলীয় ২৭ রানে আউট হলে চতুর্থ ওভারে মাত্র ১ রান আসে। এরপর কিরজে নতুন ব্যাটসম্যান লিটন আসলেও রানের চাকা থামেনি। পাওয়ার প্লের শেষ দুই ওভারে লিটন-মিরাজ নেন ২০ রান। পাওয়ার প্লেতে বাংলাদেশের সংগ্রহ ১ উইকেটে ৪৮। মিরাজ ২২ ও লিটন ১১ রানে ব্যাট করছেন। এর আগে সাব্বির আউট হন ১২ রানে। অথচ আগের ম্যাচে ৪৭ রান করতেই বাংলাদেশ ৪ উইকেট হারিয়ে ফেলে।

এবার আউট ১২ রানে, ওপেনিংয়ে তিন ম্যাচেই ব্যর্থ সাব্বির

প্রথম ওভারে মিরাজের দারুণ চারে বাংলাদেশ রানের খাতা খোলেন। শেষ বলে সাব্বির অল্পের জন্য ইনসাইড এজ থেকে বেঁচে যান। পরের ওভারে ৩ রান আসলেও তৃতীয় ওভারে সাব্বিরের ছয়ে আসে ১৪ রান। আত্মবিশ্বাসী মনে হলেও সাব্বির ইনিংস লম্বা করতে পারেননি। আরিয়ান লাকরার বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ফেরেন সাজঘরে। ৯ বলে ১২ রান করেন এই ডানহাতি ব্যাটসম্যান। ওপেনিংয়ে নেমে তিন ম্যাচেই ব্যর্থ সাব্বির। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৫ আর আমিরাতের বিপক্ষে দুই ম্যাচে আউট হন ০ ও ১২ রানে।

ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ

আরব আমিরাতের বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচেও টস হেরেছে বাংলাদেশ। টস জিতে বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ের পাঠিয়েছেন আমিরাত অধিনায়ক। দুবাই আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার রাত ৮টায় ম্যাচটি শুরু হয়।

বাংলাদেশ একাদশ: একাদশে ফিরেছেন তাসকিন আহমেদ ও ইবাদত হোসেন। বাদ পড়েছেন মোস্তাফিজুর রহমান ও শরিফুল ইসলাম।  

কাজী নুরুল হাসান সোহান, আফিফ হোসেন ধ্রুব, লিটন দাস, মেহেদি হাসান মিরাজ, সাব্বির রহমান, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন, ইয়াসির আলি রাব্বি, নাসুম আহমেদ তাসকিন আহমেদ ও ইবাদত হোসেন। 

ভুল শুধরে নামতে চায় বাংলাদেশ

ভুল শুধরে দ্বিতীয় ম্যাচে নামতে চায় বাংলাদেশ। দলের অলরাউন্ডার মেহেদি হাসান মিরাজ মনে করেন, ‘দেখেন আমরা এখানে একটা উদ্দেশ্য নিয়ে এসেছি, বিশ্বকাপের ভালো প্রস্তুতির লক্ষ্য। সে জন্য আমরা এখানে লাস্ট ২-৩ দিন অনুশীলন করেছি, একটা ম্যাচ খেলেছি। আমাদের ছোট ছোট যে ভুলগুলো ছিল আগে, সে ভুলের পরিমাণ যেন কমিয়ে আনতে পারি সেটাই আমরা চেষ্টা করছি। পরের ম্যাচেও তাই প্রয়োগ করতে চাইবো।’

প্রথম সিরিজ জয়ের হাতছানি 

প্রথম ম্যাচে জিতে সিরিজে এগিয়ে আছে বাংলাদেশে। এবার দ্বিতীয় ম্যাচ জিতলে প্রথমবারের মতো দেশটির বিপক্ষে সিরিজ জেতার স্বাদ পাবে নুরুল হাসান সোহানের দল। এখন পর্যন্ত দুবারের দেখায় দুবারই জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। 

প্রথম ম্যাচে কষ্টের জয়

প্রথম ম্যাচে ৭ রানে কষ্টের জয়। ১৫৯ রানের লক্ষ্যে আমিরাত দারুণ শুরু করে। রানআউট হয়ে ওয়াসিম (১৫) ফিরলেও আরেক ওপেনার চিরাগ ছিলেন ভয়ঙ্কর। মিরাজ তাকে থামান ৩৯ রানে। মাত্র ২৪ বলে এই রান করেন তিনি। চিরাগের আউটে পতন ঘটে আমিরাতের ব্যাটিং লাইনআপে। ৩৬ রানে তারা হারায় ৬ উইকেট। শেষ ২ ওভারে আমিরাতের প্রয়োজন ছিল ২১ রান। ১৯তম ওভারে সাইফউদ্দিন ১০ রান দেন। শেষ ওভারে প্রয়োজন ছিল ১১। আমিরাতের ছিল ২ উইকেট। সাইফউদ্দিন ক্যাচ মিস করলেও পরপর দুই বলে ২ উইকেট নিয়ে নেন। মোস্তাফিজ-শরিফুল ডেথ ওভারে করা ২ ওভারে ১১ রানে নেন ৩ উইকেট। সর্বোচ্চ ৩ উইকেট করে নেন শরিফুল-মিরাজ। 

ঢাকা/রিয়াদ

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়