ঢাকা     রোববার   ০৪ ডিসেম্বর ২০২২ ||  অগ্রহায়ণ ২০ ১৪২৯ ||  ০৯ জমাদিউল আউয়াল ১৪১৪

১৯৩০: অলিম্পিকের সঙ্গে দ্বন্দ্ব থেকেই জন্ম বিশ্বকাপ ফুটবলের 

মোহাম্মদ মেহেদী হাসান || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৭:১৩, ২৫ নভেম্বর ২০২২   আপডেট: ১৯:১৪, ২ ডিসেম্বর ২০২২
১৯৩০: অলিম্পিকের সঙ্গে দ্বন্দ্ব থেকেই জন্ম বিশ্বকাপ ফুটবলের 

ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে উরুগুয়ের উচ্ছ্বাস

আয়োজক: উরুগুয়ে, ভেন্যু: ৩, দল: ১৩, ফাইনাল: উরুগুয়ে ও আর্জেন্টিনা, জয়ী: উরুগুয়ে (৪-২), ইতিহাস: ৩টি হ্যাটট্রিকসহ মোট গোল হয় ৭০টি। প্রথম হ্যাটট্রিক করেন যুক্তরাষ্ট্রের পেটানভ। সর্বাধিক ৮টি গোল করেন আর্জেন্টিনার গুলেইর্মো স্ট্যাবিল

ফুটবল তখন এতোটা জনপ্রিয় ছিল না। এমনকি খেলতোও অল্প কিছু দেশ। তারপরও অলিম্পিকের দ্বিতীয় আসরেই অন্তর্ভুক্ত করা হয় ফুটবল। তবে তখনও অংশগ্রহণ করেনি জাতীয় দলগুলো। ১৯০৮ সালে অনুষ্ঠিত অলিম্পিকে সর্বপ্রথম ফুটবল আনুষ্ঠানিকভাবে খেলার মর্যাদা পায়। বছর ২০ কাটতেই এর জনপ্রিয়তা রীতিমতো আকাশচুম্বী! বিশেষ করে ১৯২৪ ও ১৯২৮ সালে ফুটবল ছিল অলিম্পিকের মূল আকর্ষণ। তাতেই নড়েচড়ে বসেন ফিফার কর্তারা। অলিম্পিকের আদলে একটি ভিন্ন টুর্নামেন্ট আয়োজন করতে চায় সংস্থাটি।

কিন্তু ওই দিকে এটা মেনে নিতে রাজী নয় আইওসি। বেশ কিছু মতপার্থক্য দেখা দেয় ফিফার সঙ্গে। আর এর জেরে অলিম্পিকের স্পোর্টস ক্যাটাগরি থেকে বাদ দেওয়া হয় ফুটবল। মূলত এর রেশ ধরে অলিম্পিকের পরবর্তী আসরের আগেই তৎকালীন ফিফা প্রেসিডেন্ট জুলে রিমে তার নিজের নামে ফুটবল বিশ্বকাপ আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেন।

সফলভাবে ১৯৩০ সালে উরুগুয়েতে প্রথম বিশ্বকাপ প্রতিযোগিতার আয়োজনও করেন জুলে রিমে। তাতে শুরু হয় এক নতুন দিগন্ত। তবে বাধাও ছিল বেশ। ইউরোপের দলগুলো খুব ভালো চোখে দেখেনি। এ কারণে নানা বাধা পেরিয়ে ইউরোপের মাত্র চারটি দল অংশ নেয় সে বিশ্বকাপে। বিশ্বকাপের ইতিহাসে ওই একবারই ইউরোপের দলগুলোর চেয়ে ল্যাটিন দলের উপস্থিতি ছিল বেশি।

সে বছরটি ছিল উরুগুয়ের স্বাধীনতার শততম বার্ষিকী। উদযাপনের অংশ হিসেবেই বিশ্বকাপ আয়োজন করতে চায় দেশটি। তাদের চাওয়া মেনে নেয় ল্যাটিন আমেরিকার সবগুলো দল। ইউরোপিয়ানদের কাছ থেকে কিছু বাধা আসে। মূলত আটলান্টিক মহাসাগর পাড়ি দিতে চায়নি অনেক দেশ। এ জন্য অবশ্য বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী দলগুলোর যাবতীয় খরচ বহন করতে সম্মত হয় উরুগুয়ে। ফলে শেষ পর্যন্ত ভোটাভুটিতে উরুগুয়েকেই নির্ধারণ করা হয় বিশ্বকাপের ইতিহাসের প্রথম সাক্ষী হিসেবে। রাজধানী মন্টেভিডিওতে মোট তিনটি ভেন্যুতে আয়োজিত হয় ওই বিশ্বকাপ।

সেবার মোট ১৩টি দেশ অংশ নেয়। ইউরোপ থেকে অংশ নেওয়া দেশ ৪টি ছিল বেলজিয়াম, ফ্রান্স, রোমানিয়া ও যুগোস্লোভিয়া। ল্যাটিন আমেরিকার ছিল ৭টি দল- পেরু, প্যারাগুয়ে, চিলি, আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, বলিভিয়া ও উরুগুয়ে। বাকি দুটি দল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকো। ১৮ দিনব্যাপী বিশ্বকাপের আসরটি ১৩ জুলাই শুরু হয়ে শেষ হয় ৩০ জুলাই। ১৩টি দলকে চার ভাগে বিভক্ত করে অনুষ্ঠিত হয় প্রথম আসর।

ফ্রান্স এবং মেক্সিকোর মধ্যকার ম্যাচ দিয়ে শুরু হয় বিশ্বকাপ। ম্যাচে ৪-১ গোলের জয় পায় ফরাসিরা। বিশ্ব আসরের প্রথম ম্যাচে হারের ধাক্কা এখনও পোহাচ্ছে মেক্সিকো। কারণ বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি ২৫টি ম্যাচে হার দেখেছে যে তারাই।

এই আসরে ফাইনালে দর্শক উপস্থিত ছিল ৬০ হাজারের বেশি। কিন্তু দর্শকদের হাবভাব দেখে সন্দেহ হয় রেফারির। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দর্শকদের তল্লাশি করতে বলেন তিনি। তল্লাশি করে দর্শকদের কাছ থেকে ১৬০০ রিভলভার পাওয়া যায়। শুধু তাই নয়, এরপর বল নিয়েও লাগে আরেক বিপত্তি। দুই দলই চায় নিজেদের বল নিয়ে খেলতে। শেষে সিদ্ধান্ত হয় প্রথমার্ধে আর্জেন্টিনার এবং দ্বিতীয়ার্ধে উরুগুয়ের বল দিয়ে খেলা হবে। আর প্রথমার্ধে নিজেদের বল দিয়ে দুটি গোল দেয় আর্জেন্টিনা। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে নিজেদের বল দিয়ে উরুগুয়ে দেয় চার গোল। ফলে ৪-২ ব্যবধানে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন উরুগুয়ে।

এ বিশ্বকাপে তিনটি হ্যাটট্রিকসহ মোট গোল হয় ৭০টি। বিশ্বকাপের ইতিহাসের প্রথম হ্যাটট্রিক করেন যুক্তরাষ্ট্রের পেটানভ। আর সর্বাধিক ৮টি গোল করেন আর্জেন্টিনার গুলেইর্মো স্ট্যাবিল।

তারা//

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়