ঢাকা     শনিবার   ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ||  মাঘ ২৪ ১৪৩২

Risingbd Online Bangla News Portal

যাত্রাশিল্পী মিলন কান্তি দে আর নেই

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক  || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৮:৩৮, ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬  
যাত্রাশিল্পী মিলন কান্তি দে আর নেই

যাত্রাশিল্পী, পরিচালক, লেখক ও সাংস্কৃতিক কর্মী মিলন কান্তি দে আর নেই (দিব্যান্ লোকান্ স গচ্ছতু)।

শনিবার বিকেল ৩টা ২৫ মিনিটে চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার কলিশহরে নিজ বাসভবনে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৮ বছর।

মিলন কান্তি দে’র মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গবেষক আমিনুর রহমান সুলতান। তিনি জানান, “মিলন কান্তি দে বেশ কিছুদিন ধরেই শারীরিকভাবে অসুস্থ ছিলেন। শনিবার সকাল থেকে তার অবস্থার অবনতি ঘটে এবং নিজ বাড়িতেই তিনি মৃত্যুবরণ করেন।”

তিনি আরও জানান, মরদেহের সৎকারের বিষয়ে পারিবারিকভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

মিলন কান্তি দে’র মৃত্যুতে দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। যাত্রাশিল্পের একজন পথিকৃৎ হিসেবে তার অবদান স্মরণ করছেন সহকর্মী, নাট্যকর্মী ও সংস্কৃতিকর্মীরা।

১৯৪৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার ছনহরা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন মিলন কান্তি দে। বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী যাত্রাপালার সংস্কার ও আধুনিকীকরণে তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। যাত্রা থিয়েটারকে সময়োপযোগী ও গ্রহণযোগ্য করে তুলতে তার অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য। দীর্ঘদিন তিনি যাত্রাশিল্প উন্নয়ন পরিষদের সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছেন।

অভিনয় জীবনে মিলন কান্তি দে ১২০টিরও বেশি যাত্রা প্রযোজনা, পরিচালনা করেছেন এবং ১৫১টিরও বেশি প্রযোজনায় অভিনয় করেছেন। যাত্রাশিল্পে নতুন ভাবনা ও দৃষ্টিভঙ্গি যোগ করতে তিনি ১৯৯৩ সালে প্রতিষ্ঠা করেন ‘দেশ অপেরা’। এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি যাত্রা প্রশিক্ষক হিসেবেও কাজ করেছেন।

নাট্যাঙ্গনে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২২ সালে তিনি লাভ করেন বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার। আজীবন অভিনয় ও যাত্রাশিল্পে নিবেদনের জন্য ২০২৩ সালে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি থেকে পান যাত্রা শিল্পী সম্মাননা।

২০২৪ সালে প্রকাশিত হয় তার আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ ‘আমি যে এক যাত্রাওয়ালা’, যেখানে যাত্রাশিল্পে তার দীর্ঘ পথচলার স্মৃতি ও অভিজ্ঞতা উঠে আসে। 

ঢাকা/রাহাত//

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়