ঢাকা     শনিবার   ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ||  মাঘ ২৪ ১৪৩২

Risingbd Online Bangla News Portal

রংপুর-৩

‘ব্যাপক জনসমর্থন পাচ্ছি’, হিজড়া প্রার্থী রাণী 

রংপুর প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৯:২১, ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬  
‘ব্যাপক জনসমর্থন পাচ্ছি’, হিজড়া প্রার্থী রাণী 

দেশের একমাত্র হিজড়া জনগোষ্ঠীর প্রার্থী আনোয়ারা ইসলাম রাণী।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রংপুর-৩ (সদর) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে হরিণ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন নগরীর নুরপুর এলাকার বাসিন্দা আনোয়ারা ইসলাম রাণী। তিনি দেশের একমাত্র হিজড়া জনগোষ্ঠীর প্রার্থী।

২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারির নির্বাচনে হিজড়া জনগোষ্ঠীর রাণী রংপুর–৩ আসনে সংসদ সদস্য পদে ভোটে দাঁড়িয়ে চমকে দেন। ওই নির্বাচনে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের ৮১ হাজার ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। রাণী ঈগল প্রতীক নিয়ে ২৩ হাজার ভোট পেয়ে তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হন। পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীর হয়ে ভোটে দাঁড়ানোর জন্য তাকে সাধুবাদ জানান তার নির্বাচনি এলাকার মানুষ।

আরো পড়ুন:

এবারের নির্বাচনেও তিনি প্রার্থী হয়েছেন। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় নগরীর নুরপুর এলাকায় ভোটের প্রচারের বিষয়ে রাইজিংবিডির সঙ্গে কথা হয় রাণীর।

স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জনগণের সাড়া পাচ্ছেন বলে জানান রাণী। তিনি বলেন, ‘‘গত নির্বাচনেও জি এম কাদেরের বিরুদ্ধে ভোট করে ব্যাপক সাড়া পেয়েছি। শুধু ইঞ্জিনিয়ারিং ইলেকশনের কারণে আমি হেরে গেছি। তবে এবার আরো বেশি সাড়া মিলছে ভোটের মাঠে।’’ এক সময়ের জাতীয় পার্টির ঘাঁটি এখন পরিবর্তন হয়ে ‘রংপুরের মাটি, রাণী আপার ঘাঁটিতে’ পরিণত হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।

বিভাগীয় নগরী রংপুরের ২৪টি ওয়ার্ড ও পাঁচটি ইউনিয়ন নিয়ে রংপুর-৩ (সদর) আসনে ভোটার ৫ লাখ ৮ হাজার ২২৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৫২ হাজার ৩৫৯ জন, নারী ২ লাখ ৫৫ হাজার ৮৪৯ জন। আর হিজড়া ভোটার ৫ জন।

এ আসনে আরো প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী জি এম কাদের, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বেলাল, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী আমিরুজ্জামান পিয়ালসহ আটজন।

রংপুরেই জন্ম ও বেড়ে ওঠা রাণীর। বাবা মো. চাঁন মিয়া ছিলেন মোটরশ্রমিক, মা জুলেখা বেগম গৃহিণী। রংপুর নগরের শাপলা চত্বর থেকে আধা কিলোমিটার পূর্বে নূরপুরে তার বাড়ি। বাড়িতেই তাঁর নির্বাচনি কার্যালয়। প্রচারে সমন্বয় ও কর্মী–সমর্থকদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে বাড়ি থেকে। রাণী বিকেলে গণসংযোগে বের হন। 

রাণী বলেন, লিঙ্গীয় পরিচয়ের কারণে তাকে বৈষম্যের শিকার হতে হয়েছে। তাই তিনি পিছিয়ে রাখা জনগোষ্ঠীর কণ্ঠস্বর হতে সংসদে যেতে চান। হিজড়া, বেদে, হরিজন, দলিত ও সাঁওতালদের মতো প্রান্তিক মানুষের নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করাই তার লক্ষ্য।

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ এর বিষয়ে এখনো পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি বলে জানান রাণী। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘‘সরকার প্রচার করছে ‘হ্যাঁ’ এর পক্ষে। কেউ কেউ আবার ‘না’ এর পক্ষেও প্রচার করছে। এ বিষয়ে আমার মতামত একান্তই ব্যক্তিগত। ভোটের দিন গণভোটের বিষয়ে আমি আমার ব্যক্তিগত মতামত গোপন ব্যালটের মধ্যে প্রকাশ করব।’’

ভোটারদের কাছ থেকে সমর্থন পাচ্ছেন বলে জানান রাণী। এ জন্য তিনি জয়ের ব্যাপারেও আশাবাদী হয়ে উঠেছেন। 

আনোয়ারা ইসলাম রাণী বলেন, ‘‘যেখানেই যাচ্ছি, ব্যাপক জনসমর্থন পাচ্ছি। সকল প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীই অনেক শক্তিশালী। কাউকে আমি ভোটের মাঠে ছোট করে দেখছি না। তবে সব ছাপিয়ে এবার রংপুর-৩ আসনের মানুষ সংসদ সদস্য প্রার্থী হিসেবে রাণী আপাকেই বেছে নেবে।’’ 

ঢাকা/আমিরুল/বকুল

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়