ঢাকা     শনিবার   ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ||  মাঘ ২৪ ১৪৩২

Risingbd Online Bangla News Portal

মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার হুঁশিয়ারি ইরানের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২০:২০, ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬   আপডেট: ২০:২৪, ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার হুঁশিয়ারি ইরানের

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করা বাহিনী যদি ইরানে হামলা চালায়, তাহলে ইরানও এ অঞ্চলে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে পাল্টা হামলা চালাবে। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, যে, একে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর (যারা ঘাঁটিগুলো পরিচালনা করতে দিচ্ছে) ওপর হামলা হিসেবে দেখা উচিত হবে না। খবর রয়টার্সের।

শুক্রবার ওমানে দুপক্ষের মধ্যে ইতিবাচক আলোচনার পর তেহরান ও ওয়াশিংটন পরোক্ষ পরমাণু আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেয়। কিন্তু এর একদিন পরই কাতারের আল-জাজিরা টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এই হুঁশিয়ারি দিলেন।

আরো পড়ুন:

আরাঘচি জানান, পরবর্তী দফার আলোচনার জন্য এখনো কোনো নির্দিষ্ট তারিখ নির্ধারিত হয়নি। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, আগামী সপ্তাহের শুরুতেই এই আলোচনা হতে পারে। আরাকচি বলেন, “আমরা এবং ওয়াশিংটন- উভয় পক্ষই বিশ্বাস করি যে এটি শিগগির হওয়া উচিত।”

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নৌবাহিনীর শক্তি বৃদ্ধির পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানকে হামলার হুমকি দিয়েছেন। তিনি দাবি করেন, ইরানকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ (পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সম্ভাব্য উপকরণ), ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়ন ও আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থন দেওয়া বন্ধ করতে হবে। তবে তেহরান দীর্ঘদিন ধরেই, পারমাণবিক জ্বালানি উৎপাদনের জন্য ইউরেনিয়াম মজুদের কথা বলে অস্ত্র তৈরির ইচ্ছার কথা অস্বীকার করে আসছে।

পশ্চিমাদের সঙ্গে তেহরানের দীর্ঘদিনের পারমাণবিক বিরোধ নিয়ে উভয় পক্ষই কূটনীতি পুনরুজ্জীবিত করার প্রস্তুতি দেখালেও, আলোচনার পরিধি বাড়ানোর বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছেন আরাঘচি। তিনি বলেন, যেকোনো সংলাপের জন্য হুমকি ও চাপ থেকে বিরত থাকা প্রয়োজন। তেহরান কেবল তার পারমাণবিক ইস্যু নিয়ে আলোচনা করবে...আমরা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অন্য কোনো বিষয়ে আলোচনা করি না।”

গত বছরের জুনে ইরানে ইসরায়েলের ১২ দিনের বিমান হামলার শেষের দিকে যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় বোমা হামলা চালিয়েছিল। এরপর থেকে তেহরান জানিয়ে আসছে যে, তারা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম স্থগিত করেছে।

সেই সময়ে মার্কিন হামলার প্রতিক্রিয়ার অংশ হিসেবে কাতারের একটি মার্কিন ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছিল ইরান। যদিও কাতারের সঙ্গে তেহরান ও ওয়াশিংটন- উভয় পক্ষেরই সুসম্পর্ক রয়েছে। পুনরায় মার্কিন হামলা হলে ফলাফল একই হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন আরাঘচি।

তিনি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে আক্রমণ করা হয়তো সম্ভব হবে না, তবে আমরা এই অঞ্চলে অবস্থিত তাদের ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানাব।”

তিনি আরো স্পষ্ট করে বলেন, “আমরা প্রতিবেশী দেশগুলোকে আক্রমণ করব না; বরং তাদের দেশে অবস্থানরত মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করব। এই দুটির মধ্যে অনেক বড় পার্থক্য রয়েছে।”

ইরান বলছে, তারা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকারের স্বীকৃতি চায়। তাদের দাবি, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকে আলোচনার টেবিলে নিয়ে আসা মানে নিজেদের ইসরায়েলি হামলার মুখে অরক্ষিত করে তোলা।

ঢাকা/ফিরোজ

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়