ঢাকা     শনিবার   ১৩ জুলাই ২০২৪ ||  আষাঢ় ২৯ ১৪৩১

আইরিশদের উড়িয়ে ওয়ানডেতে সবচেয়ে বড় জয়ের রেকর্ড

সাইফুল ইসলাম রিয়াদ || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৩:৩৩, ১৮ মার্চ ২০২৩   আপডেট: ২১:১৬, ১৮ মার্চ ২০২৩
আইরিশদের উড়িয়ে ওয়ানডেতে সবচেয়ে বড় জয়ের রেকর্ড

বাংলাদেশ: ৩৩৮/৮ (৫০ ওভার

আয়ারল্যান্ড ১৫৫/১০ (৩০.৫ ওভার) 

ফল: বাংলাদেশ ১৮৩ রানে জয়ী। 

ম্যান অব দ্য ম্যাচ: তৌহিদ হৃদয় ৯২ (৮৫)

তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম ওয়ানডতে আয়ারল্যান্ডকে ১৮৩ রানে হারিয়েছে বাংলাদেশ। ওয়ানডেতে রানের হিসেবে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় জয় এটি। এর আগে সবচেয়ে বড় জয় ছিল ১৬৯ রানে। সিলেটে জিম্বাবুয়েকে এই রানে হারিয়েছিল ২০২০ সালে। তিন বছর পর সিলেটেই এবার আইরিশদের উড়িয়ে নতুন রেকর্ড গড়েছে লাল সবুজের দল। এদিন ওয়ানডেতে সর্বোচ্চ (৩৩৮) রানও করেছিল স্বাগতিকরা। বাংলাদেশের দেয়া রান তাড়া করতে নেমে শুরুর জুটিতে সম্ভাবনা দেখিয়েছিল সফরকারীরা। সাকিবের আক্রমণে ৬০ রানের এই জুটি ভাঙতেই ধস নামে তাদের ব্যাটিংয়ে। এবাদত-তাসকিনের আঘাতে ১৬ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে মুখ থুবড়ে পড়ে তাদের ব্যাটিং। শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যান ডকরেল। সর্বোচ্চ ৪৫ রান আসে তার ব্যাট থেকে। স্টিফেন ডাহনি ৩৪ ও পল স্টার্লিং ২২ রান করেন। এ ছাড়া আর কেউ বিশের ঘর পার হতে পারেননি। বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ৪ উইকেট নেন এবাদত। এ ছাড়া নাসুম ৩, তাসকিন ২ ও সাকিব নেন ১টি উইকেট।  

এবাদতের ক্যারিয়ার সেরা বোলিং

অ্যাডায়ারকে ফিরিয়ে আইরিশদের নবম উইকেট তুলে নিলেন এবাদত। এটি তার ব্যক্তিগত তৃতীয় উইকেট। মুশফিকের হাতে ক্যাচ দেয়ার আগে ১৩ রান করেন তিনি। এরপরের ওভারেই আবার এবাদত আক্রমণ করেন। ১৪২ কিলমিটার গতির বল ভেঙে দেয় লড়তে থাকা ডকরেলের স্ট্যাম্প। আইরিশদের হয়ে একাই লড়ছিলেন এই ব্যাটসম্যান। তার ব্যাট থেকে আসে সর্বোচ্চ ৪৫ রান। ৬টি চারে ৪৭ বলে এই রান করেন ডকরেল। ৬.৫ ওভারে ৪২ রান দিয়ে ৪ উইকেট নেন এবাদত। ওয়ানডেতে এটি তার ক্যারিয়ার সেরা বোলিং। এর আগে ৪৭ রান দিয়ে নিয়েছিলেন ৪ উইকেট। ১৪ ওয়ানডেতে দ্বিতীয়বারের মতো চার উইকেট নিলেন সিলেটি এই পেসার। 

নাসুমের জোড়া আঘাত 

নাসুমের জোড়া আঘাতে বড় জয়ের পথে বাংলাদেশ। পরপর দুই বলে ফেরালেন ডিলানি-ম্যাকব্রিনকে। ডিলানিকে এলবিডব্লিউ করে ১ রানে। এরপর ক্রিজে এসেই প্রথম বলে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ম্যাকব্রিন। ম্যাকব্রিনের আউটে আম্পায়ার জোরালো আবেদনে সাড়া না দিলে রিভিউ নেয় বাংলাদেশ। রিভিউতে দেখা যায় বল ম্যাকব্রিনের ব্যাটে লেগে মুশফিকের হাতে যায়। এই নিয়ে তিন উইকেট নিলেন এই স্পিনার। একপ্রান্তে আগলে রেখে লড়ছেন ডকরেল। তার সঙ্গী অ্যাডায়ার।  

আইরিশদের প্রতিরোধ ভেঙে দিলেন নাসুম

১৬ রানে ৫ উইকেট হারানোর পর প্রতিরোধ গড়েছিলে জর্জ ডকরেল-কার্টিস ক্যাম্পার। দুজনে ৩৩ রানের জুটিতে দলীয় স্কোর ১০০ পার হয়। তবে বেশিদূর যাওয়ার আগেই থামিয়ে দেন নাসুম। ডিফেন্স করতে চেয়েছিলেন ক্যাম্পার, বল তার ব্যাটি ফাঁকি দিয়ে আঘাত করে পায়ে। জোরালো আবেদনে সাড়া দেন আম্পায়ার। রিভিউ নেয় আইরিশরা। কিন্তু লাভ হয়নি। ১৭ বলে ১৬ রান করেন ক্যাম্পার। 

টানা দুই ওভারে শূন্য রানে তাসকিনের দুই উইকেট

শুরুটা করেছেন সাকিব আল হাসান। এরপর নিজের করা টানা দুই ওভারে দুই উইকেট তুলে নিলেন এবাদত হোসেন। উইকেট শিকারে এবার এবাদতের সঙ্গে যোগ দিলেন তাসকিন। দ্বিতীয় স্পেলের প্রথম ওভারে অ্যান্ডি বালবির্নিকে বোল্ড করে ফেরান সাজঘরে। বালবির্নি ১২ বলে ৫ রান করেন। এখানেই শেষ নয়। পরের ওভারে তাসকিনের শিকার লরকান টাকার। অফে করা শর্ট বল টাকারের ব্যাটে লেগে যায় স্লিপে। হালকা লাফিয়ে দারুণ ক্যাচ নেন ইয়াসির আলী। ৮ বলে ৬ রান করেন টাকার। ১৬ রানে ৫ উইকেট হারালো আয়ারল্যান্ড। টানা দুই মেডেন দিয়ে তাসকিন নেন ২ উইকেট।  দারুণ শুরুর পর ধস নামে তাদের ব্যাটিংয়ে। 

আবারও এবাদত, ৮ রানে ৩ উইকেট হারালো আয়ারল্যান্ড

এবাদতের শিকার এবার হ্যারি ট্যাক্টর। টানা দুই ওভারে দুই উইকেট নিলেন তিনি। আউটসাইড অফের বল ট্যাক্টর খোঁচা দেন উইকেটের পেছনে। আগের দুবারের মতো এবারও ক্যাচ নিতে ভুল করেননি মুশফিক। ৮ বলে ৩ রান করেন এই ব্যাটসম্যান। পাওয়ার প্লের পর ৮ রানের ব্যবধানে ৩ উইকেট হারাল আইরিশরা। 

এবাদতের আঘাত, মুশফিকের দুর্দান্ত ক্যাচ

পাওয়ার প্লের পর পরপর দুই ওভারে দুই উইকেট নিলো বাংলাদেশ। এবাদতের শর্ট বলে পুল করতে চেয়েছিলেন স্টার্লিং, বল ব্যাটের কানায় লেগে যায় উইকেটের পেছনে। বাঁ দিকে শূন্যে ভেসে ঝাঁপিয়ে পড়ে দারুণ ক্যাচ নেন মুশফিকুর রহিম। এর আগের ক্যাচটিও নেন মুশফিক। স্টার্লিং ১টি করে চার-ছয়ে ৩২ বলে ২২ রান নেন। 

সাকিবের ঘূর্ণিতে অবশেষে উইকেটের দেখা পেলো বাংলাদেশ

দশম ওভারে দিয়েছেন ১৫ রান, ১২তম ওভারে এসেই নিলেন উইকেট। সাকিবের ঘূর্ণিতে অবশেষে প্রথম উইকেটের দেখা পেয়েছে বাংলাদেশ। আগের ওভারে টানা দুই চার মারা স্টিফেন ডাহনি ক্যাচ দেন উইকেটের পেছনে। ৩৮ বলে ৩৪ রান করেন ডাহনি। 

উইকেটের দেখা পাচ্ছে না বাংলাদেশ

কোনো উইকেট না হারিয়ে আয়ারল্যান্ড প্রথম পাওয়ার প্লে কাটিয়ে দিয়েছে। শুরুতে ধীর গতিতে খেললেও দুই ওপেনার স্টিফেন-স্টার্লিং সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে হাত খুলে খেলার চেষ্টা করছেন। বিশাল রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে দুজনে বল -রানের পার্থক্য সমান রাখার চেষ্টা করছেন। সুযোগ পেলেই হাঁকাচ্ছেন বাউন্ডারি। সাকিবের করা প্লাওয়ার পের শেষ ওভারে দুই ওপেনার নেন ১৫ রান। 

দলীয় সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড গড়ে থামলো বাংলাদেশ

টস হেরে ব্যাটিং করতে নেমে বাংলাদেশ ৮ উইকেটে ৩৩৮ রান করে। ওয়ানডেতে এটি বাংলাদেশের সর্বোচ্চ দলীয় স্কোর। এতদিন পর্যন্ত সর্বোচ্চ দলীয় স্কোর ছিল অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৮ উইকেটে ৩৩৩ (পর ব্যাটিং)। আর আগে ব্যাটিং করে সর্বোচ্চ রান ছিল দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৬ উইকেটে ৩৩০ রান। দুটি রেকর্ডই হয়েছিল ২০১৯ বিশ্বকাপে।  আইরিশদের বিপক্ষে সর্বোচ্চ ৯৩ রানের ইনিংস খেলেন সাকিব আল হাসান। ৮৯ বলে তিনি এই রান করেন। সাকিব থেকে ১ রান কম ৯২ করেন অভিষিক্ত তৌহিদ হৃদয়। ৮৫ বলে এই রান করেন তিনি। দুজনেই সেঞ্চুরি হাতছড়া করেন। মুশফিক খেলেন ২৬ বলে ৪৪ রানের ঝড়ো ইনিংস। লিটন দাস ২৬, নাজমুল হোসেন শান্ত ২৫ রান করে ফেরেন সাজঘরে। শেষদিকে ইয়াসির আলী ১০ বলে ১৭ রান করে ফেরেন রানআউট হয়ে। তার আগে তাসকিন ৭ বলে ১১ রান করেন। এ ছাড়া নাসুম ৭ বলে ১১ ও মোস্তাফিজুর রহমান ২ বলে ১ রান নিয়ে অপরাজিত থাকেন। আইরিশদের হয়ে সর্বোচ্চ ৪ উইকেট নেন গ্রাহাম হুম। 

বিশ্ব রেকর্ড গড়া হলো না হৃদয়ের

অভিষেকে বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড গড়েছিলেন। হাতছানি দিচ্ছিল বিশ্বরেকর্ড। অভিষেকে পাঁচে নেমে কোনো ব্যাটসম্যানের সেঞ্চুরি ছিল না। অভিষেকে সর্বোচ্চ ছিল স্বপ্নিল প্রকাশ পাটিলের ৯৯ রান। মাত্র ৮ রানের জন্য হৃদয়ের রেকর্ড হলো না। গ্রাহাম হুমের স্লোলার ইয়র্কারে বোল্ড হয়ে ফেরেন ৯২ রানে। এর আগে বাংলাদেশের হয়ে অভিষেকে সর্বোচ্চ ৬৩ রান ছিল নাসির হোসেনের। ১২ বছর পর এই রেকর্ড ভাঙেন হৃদয়। ৮টি চার ও দুটি ছয়ে পাঁচে নেমে এই রান করেন হৃদয়। 

২৬ বলে ৪৪ রান করে মুশফিকের বিদায় 

সিলেটে দেখা মিললো আগ্রাসী মুশফিকুর রহিমের। মাত্র ২৬ বলে ৪৪ রান করে বিদায় নেন এই অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান। গ্রাহাম হুমের বলে ক্যাচ দেন শর্ট ফাইন লেগে ৩টি করে চার-ছয়ে তার ইনিংসটি সাজানো ছিল।  

হৃদয়-মুশফিকের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে এগোচ্ছে বাংলাদেশ

সাকিবের আউটের পর ক্রিজে এসেই হাত খুলে খেলতে থাকেন মুশফিক। আগে থেকে থাকা ফিফটি হাঁকানো তৌহিদ হৃদয়ও মারছেন সুযোগ পেলেই। দুজনের ফিফটির জুটি পূর্ণ হয় মাত্র ৩২ বলে। 

৭ রানের জন্য সেঞ্চুরির আক্ষেপ নিয়ে সাজঘরে সাকিব

মাত্র ৭ রানের জন্য সেঞ্চুরি পাননি সাকিব আল হাসান। গ্রাহাম হুমের আউটসাইড অফের ইয়র্কারে পরাস্ত হন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার। ব্যাটের কানায় লেগে বল যায় উইকেটের পেছনে। জোরালো আবেদনে সাড়া দেন আম্পায়ার। সাকিব রিভিউ নেননি। ৬৫ বলে ফিফটির পর হাত খুলে খেলতে থাকেন সাকিব। ফিফটির পর ৪৩ রান করেন মাত্র ২৪ বলে। টেক্টরের এক ওভারেই ৫টি চারে নেন ২২ রান। ৯টি চারে ৮৯ বলে ৯৩ রান করেন বাঁহাতি অলরাউন্ডার। ক্রিজে হৃদয়ের সঙ্গী মুশফিকুর রহিম। 

তৃতীয় বাংলাদেশি হিসেবে অভিষেকেই হৃদয়ের হাফ সেঞ্চুরি

এর আগে নাসির হোসেন ও ফরহাদ রেজা তাদের অভিষেক ম্যাচেই ফিফটি করেন। আজ এই রেকর্ডে নাম লেখান তৌহিদ হৃদয়। ৪টি চারে ৫৫ বলে নিজের অভিষেক ম্যাচে ফিফটির দেখা পান হৃদয়। 

টেক্টরের ওভারে সাকিবের ৫ চার, বাংলাদেশের ২০০

টানা তিনটি সহ টেক্টরের করা ৩৫তম ওভারে ৫টি চার হাঁকিয়েছেন সাকিব আল হাসান। এই ওভারে ২২ রান নেন তিনি। বাংলাদেশ ৩৪.৫ ওভারে ২০০ পূর্ণ করে। 

সাকিব-হৃদয়ের জুটির সেঞ্চুরি

চতুর্থ উইকেটে সাকিব আল হাসান-তৌহিদ হৃদয় ১০০ রান যোগ করেন। ১০৩ বলে এই রান করেন দুজনে। এর আগে দুজনে ৫৭ বলে ৫০ রান যোগ করেছিলেন। 

রেকর্ড গড়ার পর সাকিবের হাফ সেঞ্চুরি 

ক্যাম্পারকে ডিপ পয়েন্টে কাট করে ৬৫ বলে ফিফটির দেখা পান সাকিব আল হাসান। এটি তার ক্যারিয়ারের ৫৩তম হাফ সেঞ্চুরি। শুরুতে বলে-রানে প্রায় সমান থাকলেও মাঝে কিছুটা ধীরগতিতে খেলেন। তার ফিফটির ইনিংসে মাত্র ২টি চার। সিঙ্গেলস-ডাবলে যতো মনোযোগ। ব্যাক্তিগত ফিফটির আগে তৌহিদ হৃদয়ের সঙ্গে জুটিরও ফিফটি হয়।  

সাকিব-হৃদয়ের ফিফটির জুটিতে এগোচ্ছে বাংলাদেশ 

শান্ত আউট হওয়ার পর আর কোনো বিপদ ঘটেনি বাংলাদেশের ইনিংসে। সাকিবের সঙ্গে জুটি গড়ে অভিষিক্ত হৃদয় খেলছেন দারুণ। ৫৭ বলে চতুর্থ উইকেটে দুজনে ৫০ রান যোগ করেন। দুজনের এই জুটিতে একশর পর ২৯.৪ ওভারে দেড়শ রান করে বাংলাদেশ। 

দ্বিতীয় বাংলাদেশি হিসেবে ওয়ানডেতে সাকিবের ৭ হাজার

ক্যাম্পারের বলে সিঙ্গেল নিয়ে ওয়ানডে ক্রিকেটে ৭ হাজারি ক্লাবে নাম লেখান সাকিব আল হাসান। ২১৬ ম্যাচে ৩৭.৮৪ গড়ে ৯ সেঞ্চুরিতে এই রান করেন বিশ্ব সেরা অলরাউন্ডার। ২৩৩ ম্যাচে ৮ হাজার ১৪৬ রান নিয়ে তার উপরে আছেন তামিম ইকবাল। এ ছাড়া ২২৭ ম্যাচ খেলে ৭ হাজার থেকে ৯৯ রান দূরে আছেন মুশফিকুর রহিম। এর আগে ইংল্যান্ড সিরিজে ৬ হাজার রান ও ৩০০ উইকেটের বিরল কীর্তি গড়েছিলেন। এবার আইরিশদের বিপক্ষে নাম লেখালেন নতুন রেকর্ডে। আইরিশদের বিপক্ষে এখন তিনি ব্যাট করছেন ২৯ রানে। 

সাকিব-হৃদয় জুটিতে বাংলাদেশের সেঞ্চুরি

শান্ত ফেরার পর ক্রিজে সাকিবের সঙ্গী হন অভিষিক্ত তৌহিদ হৃদয়। দ্বিতীয় বলেই রানের খাতা খোলেন বাউন্ডারি দিয়ে। দুই প্রান্ত দুজনে খেলছেন বুঝেশুনে। তাদের জুটিতে ২০.৪ ওভারে বাংলাদেশ দলীয় স্কোর ১০০ পার করে। 

এবার ম্যাকব্রিনের ঘূর্ণিতে বোল্ড শান্ত

এক পাশে আগলে রেখে সাবলীল ছিলেন নাজমুল হোসেন শান্ত। ১৭তম ওভারে ম্যাকব্রিনের করা তৃতীয় বলে ফ্রন্ট ফুটে এসে ড্রাইভ করেছিলেন, ব্যাটে-বলে এক হয়নি। ভেঙে দেয় উইকেট। ৩৪ বলে ১ চারে ২৫ রান করেন এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। ৮১ রানে বাংলাদেশ হারালো তৃতীয় উইকেট। তার আউটে সাকিবের সঙ্গে গড়া ৪২ বলে ৩২ রানের জুটি ভেঙে যায়। ক্রিজে সাকিবের সঙ্গী অভিষিক্ত তৌহিদ হৃদয়। 

দারুণ ইনিংসের আভাস দিয়ে সাজঘরে লিটন

মার্ক অ্যাডেয়ারের করা পঞ্চম ওভারের দ্বিতীয় বল। শর্ট লেন্থের বাউন্স, লিটন দুর্দান্ত দক্ষতায় থার্ডম্যান অঞ্চল দিয়ে উড়িয়ে পাঠালেন বাউন্ডারির বাইরে। তামিম ফিরলেও লিটনের ব্যাট ছিল সাবলীল। কিন্তু থিতু হয়েও ক্রিজে বেশিক্ষণ থাকতে পারলেন না। আউট হওয়ার এক বল আগেও ক্যাম্পারকে ফ্লিক করে হাঁকিয়েছেন দারুণ চার। ব্যাক ফুটে খেলতে গিয়ে ধরা পড়েন কাভারে। ২ চার ১ ছয়ে ৩১ বলে ২৬ রান করেন এই ডানহাতি ব্যাটসম্যান। তার আউটে ভেঙে যায় শান্তর সঙ্গে গড়া ৪২ বলে ৩৯ রানের জুটি। ক্রিজে শান্তর সঙ্গী সাকিব। 

৩ রানে ফিরলেন তামিম 

বাংলাদেশের শুরুটা ভালো হয়নি। তৃতীয় ওভারে সাজঘরে ফেরেন বাংলাদেশ অধিনায়ক তামিম ইকবাল। সুইং করে বেরিয়ে যাওয়া বলে ড্রাইভ করতে গিয়ে বিপদে পড়েন তামিম। কানায় লেগে বল যায় প্রথম স্লিপে। সেখানে থাকা স্টার্লিং ক্যাচ ধরতে ভুল করেননি। ৯ বলে ৩ রান করেন তামিম। ক্রিজে লিটন দাসের সঙ্গী নাজমুল হোসেন শান্ত।

ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ, হৃদয়ের অভিষেক

আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি বাংলাদেশ। এই ম্যাচে টস হেরে ব্যাটিং করবে তামিম ইকবালের দল। শনিবার দুপুর ২টায় সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে খেলাটি শুরু হয়। 

বাংলাদেশ একাদশ

অনুশীলনে ফুটবল খেলতে গিয়ে পাওয়া চোটের কারণে মেহেদি হাসান মিরাজ নেই একাদশে। অভিষেক হচ্ছে তৌহিদ হৃদয়ের। ওয়ানডে দলে ফেরার পর একাদশে ফিরেছেন নাসুম আহমেদ। ফিরেছেন ইয়াসির আলী চৌধুরীও। 

একাদশে যারা, তামিম ইকবাল, লিটন কুমার দাস, নাজমুল হোসেন শান্ত, মুশফিকুর রহিম, সাকিব আল হাসান, তৌহিদ হৃদয়, ইয়াসির আলী চৌধুরী, তাসকিন আহমেদ, মোস্তাফিজুর রহমান, এবাদত হোসেন চৌধুরী ও নাসুম আহমেদ।

ভালো খেলে জয়ের পাল্লা ভারী করতে চায় বাংলাদেশ

দুই দলের মুখোমুখিতে ফল হওয়া নয় ম্যাচের সাতটিতে বাংলাদেশ জিতেছে। হেরেছে দুটিতে। এবার তাদের বিপক্ষে হাথুরুসিংহের একটাই চাওয়া, ‘ছেলেদের থেকে একটাই প্রত্যাশা পারফর্ম করা। আমরা যখন ভালো খেলি তখন ম্যাচ জিতি। এবার সেই কাজটাই ওদের থেকে চাইছি।’

আগ্রাসী ক্রিকেট খেলতে নামবে বাংলাদেশ 

জয়-পরাজয় ছাপিয়ে হাথুরুসিংহের চাওয়া মাঠে নিজেদের আক্রমণাত্মক, আগ্রাসী, ক্ষুধার্ত চরিত্রটা ফুটিয়ে তোলা, ‘আমি ভিন্ন কিছুর জন্য তাকিয়ে থাকো। মাঠে চরিত্র ফুটিয়ে তোলা। তারা কিভাবে পরিস্থিতি সামলে নেয়। পারফরম্যান্স উঠা-নামা করবে। কিন্তু মাঠে নিজেদের শারীরিক ভাষা, ফিল্ডিং, অ্যাটিটিউড যেন প্রদর্শন করতে পারে। তাহলেই আমরা সঠিক পথে থাকব।’

ছাড় দেবে না আয়ারল্যান্ডও 

বাংলাদেশ যে ইংল্যান্ড দলকে ৩-০ ব্যবধানে কিছুদিন আগে টি-টোয়েন্টিতে হোয়াইটওয়াশ করেছে সেই দলটিকে বিশ্বকাপে একমাত্র হারিয়েছে এই আয়ারল্যান্ডই। সেই দলটি বাংলাদেশে এসেছে তিনটি করে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি ও একটি টেস্ট খেলতে।

ঢাকা/রিয়াদ

আরো পড়ুন  



সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়