ঢাকা     মঙ্গলবার   ১৮ জুন ২০২৪ ||  আষাঢ় ৪ ১৪৩১

বাংলাদেশের প্রথম ফিফা এজেন্ট নিলয়

সাইফুল ইসলাম রিয়াদ || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২১:২৪, ২৮ এপ্রিল ২০২৩   আপডেট: ২১:৫৪, ২৮ এপ্রিল ২০২৩
বাংলাদেশের প্রথম ফিফা এজেন্ট নিলয়

‘ফিফা এজেন্ট হিসেবে এক মাসে আমার আয় হয়েছে ৩০ লাখ টাকা, আবার কোনো মাসে ১০ হাজার টাকাও এসেছে, এটার কোনো সীমা নেই’ -রাইজিংবিডিকে এভাবেই বলছিলেন বাংলাদেশের প্রথম ফিফা অনুমোদিত এজেন্ট হওয়া নিলয় বিশ্বাস।

ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি থেকে সাংবাদিকতা বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতোকত্তর পাশ করা নিলয় হতে চেয়েছিলেন ফুটবলার। কিন্তু বাধা হয়ে দাঁড়ায় ইনজুরি। কেড়ে নেয় ফুটবলার হওয়ার স্বপ্ন। তবে নিলয় দমে যাননি, লেগে ছিলেন ফুটবলের সঙ্গে। তাতেই মেলে সাফল্যের দেখা।

কঠিন পথ পাড়ি দিয়ে নিলয় বনে যান বাংলাদেশের প্রথম ফুটবল এজেন্ট। এখন থেকে তিনি ফুটবলার কিংবা ফুটবল কোচদের বিভিন্ন ক্লাবে কেনা-বেচায় এজেন্ট হিসেবে কাজ করতে পারবেন। যদিও তিনি ২০১৭ সাল থেকে এই কাজ কাজ করে আসছিলেন। কিন্তু এই বছরের অক্টোবর থেকে লাইসেন্স ছাড়া কেউ এজেন্ট হিসেবে কাজ করতে পারবেন না বলে ফিফা নিয়ম বেঁধে দিয়েছিল। এজেন্ট হিসেবে লাইসেন্স পাওয়ায় নিলয়ের সামনে আর কোনো বাধা নেই।

বেঙ্গল সকার এজেন্সি নামে নিলয় একটি প্রতিষ্ঠান গড়েছেন। সেটির মাধ্যমে এখন থেকে তিনি কাজ করবেন। এই এজেন্ট হওয়ার জন্য নিলয়কে বসতে হয়েছে কঠিন পরীক্ষায়। পরীক্ষাটাও ছিল বেশ কঠিন। ফিফার গঠনতন্ত্র, ট্রান্সফার আইন হতে শুরু করে আদ্যোপ্যান্ত সব নখদপর্ণে থাকতে হবে। সর্বমোট প্রশ্ন ছিল ২০টি, ৭৫ শতাংশ নম্বর পেলেই পাশ।

সারা বিশ্ব থেকে ৩ হাজার ৮০০ প্রার্থী অংশ নিয়েছিলেন, পাশ করেছেন ১ হাজার ৯৬২ জন। নিলয় তার মধ্যে একজন। এজেন্টের পরীক্ষায় পাশ করার পর নিলয়কে ফিফায় ৬০০ ডলার জমা দিতে হয়েছে।

এজেন্ট হওয়া নিয়ে রাইজিংবিডিকে নিলয় বলেন, ‘প্রথমে ফুটবলার হওয়ার ইচ্ছা ছিল। কিন্তু ইনজুরির কারণে সেটা হওয়া হয়ে উঠে নাই। পরে ফুটবলের দিকে আসলাম। দেখলাম এই এজেন্ট ফিল্ডে তেমন কেউ নাই। দেখলাম কাজ করার সুযোগ আছে এখানে তাই আসা। আসলে ফুটবলকে ভালবেসেই এখানে আসা।’

নিলয় কাজ করেছেন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) ও বসুন্ধরা কিংসের সঙ্গে। এ ছাড়া দেশের জনপ্রিয় ব্যান্ড আরভোভাইরাসের ম্যানেজার হিসেবে কাজ করছেন তিনি।

মাঝে ক্রীড়া সাংবাদিকতাও করছেন বছর খানেকের মতো। আছে এএফসির ফুটবল ম্যানেজম্যান্ট সার্টিফিকেটও। 

নিলয় বলেন, ‘এখন এটা (লাইসেন্স) পাওয়ার পর সারা বিশ্বে কাজ করার সুযোগ তৈরি হয়েছে আমার। আগে যখন কাজ করতাম তখন পেমেন্ট নিয়ে একটা ঝামেলা ছিল। এখন এজেন্ট হিসেবে লাইসেন্স পাওয়ায় সেটা আর হবে না। ফিফা সবক্ষেত্রে আমাকে আইনি সহায়তা দেবে।’

এজেন্ট হিসেবে কাজ করতে হলে থাকতে হবে ধৈর্য্য। মাঝপথে হাল ছেড়ে দিলে চলবে না, ‘এজেন্ট হতে হলে ধৈর্য্যটা অনেক দরকার। লেগে থাকতে হবে প্রচুর। হাল ছাড়া চলবে না। ১০০ ডিলের চেষ্টা করলে আপনার ১০ টা হবে’-এভাবেই বলছিলেন নিলয়।

ঢাকা/আমিনুল

সম্পর্কিত বিষয়:

আরো পড়ুন  



সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়