তামিমের সেই ‘অভিযোগের’ সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন পাপন
অবসর নাটকীয়তার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আহ্বানে সাড়া দিয়ে আবার খেলায় ফেরার ঘোষণা দেন ওয়ানডে অধিনায়ক তামিম ইকবাল। অনেকেই তখন নাটকীয়তার শেষ ধরে নিয়েছিলেন। কিন্তু না, পরিস্থিতি বলছে সেটি যেন কেবল শুরুতেই আছে।
ক’দিন আগে অবসরকাণ্ডসহ নিজের ইনজুরি নিয়ে কয়েকটি গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দেন তামিম। সেখান পিঠের পুরোনো চোট পুনরায় জেগে ওঠার পেছনে দায়ি করছেন বিসিবির ট্রেনার, ফিজিও ও মেডিক্যাল বিভাগকে।
রোববার (২৩ জুলাই) ভারতের বিপক্ষে মেয়েদের সিরিজ ড্র-য়ের সাফল্য উদযাপনের পর সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হলে তামিমের এই অভিযোগ নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়েন বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন। এ সময় তিনি অভিযোগের সত্যতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। জানান, যখন যে চিকিৎসা প্রয়োজন ছিল তামিমের সবই করেছে বোর্ড।
‘আপনারাই বলেন। এটা নিয়ে আমি কোনো মন্তব্য করতে চাই না। কারণ, এই কথা কেন বলেছে, কোন পরিস্থিতিতে বলেছে, তা তো আমি জানি না। তার মানে যারা ওকে ব্যায়াম দিয়েছে, তারা কি ওর ক্ষতি চায়? আমি জানি না, এই কথা বলার উদ্দেশ্যটা কী?’-বলেছেন বোর্ড প্রেসিডেন্ট।
সেই সাক্ষাৎকারে তামিম অভিযোগ তুলে বলেছেন, ‘ইনজুরি আবার ফিরে এসেছে। সেই ব্যথাটা আবার কীভাবে এলো? জিম সেশনে একটি এক্সারসাইজ করতে গিয়ে তা আবার ফিরে এসেছে। তাহলে কি প্রশ্ন তোলা উচিত নয়, ওই এক্সারসাইজ আমার জন্য সঠিক ছিল নাকি ভুল? যে এক্সারসাইজ আমার করার কথা নয়, সেটি কেন করছিলাম? এই কারণও বের করা উচিত।’
এদিকে তামিমের প্রয়োজনীয় সব চিকিৎসা বোর্ড করিয়েছে জানিয়ে পাপন আরও বলেন, ‘দুই বছর ধরে তো ও যখন যা চাচ্ছে, চিকিৎসার জন্য দেশে-বিদেশে, যা যা বলছে আমরা সবই করছি। আমরা তো এর আগে শুনি নাই ওর অন্য কিছু আছে।’
তামিমের অধিনায়কত্ব নিয়ে বিসিবি আগের অবস্থানেই আছে। তামিম ফিট হয়ে ফিরলে অধিনায়ক থাকবেন, না হয় অন্য কেউ পাবে। বর্তমানে ওয়ানডে অধিনায়ক আরব আমিরাতে অবস্থান করছেন। সেখান থেকে ২৬ জুলাই লন্ডনে চিকিৎসক দেখাবেন। সেই রিপোর্টের উপর নির্ভর করছে তামিমের ফেরা না ফেরা। বিসিবি সেই সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করবে।
তবে তামিম জানিয়েছেন তার সার্জারিও করা লাগতে পারে। এটা হলে কমপক্ষে চার মাস তাকে মাঠের বাইরে থাকতে হবে। সেক্ষেত্রে মিস হবে এশিয়া কাপ-বিশ্বকাপ, ‘এখন ও বলছে, একটা ডাক্তার দেখিয়েছে সে বলেছে ইনজেকশন দিতে হবে অথবা সার্জারি করতে হবে। ভালো, যেটা লাগবে করবো আমরা। মানে আমরা এক পায়ে খাড়া। ওকে সুস্থ করার জন্য যা যা দরকার আমরা করতে রাজি আছি। এ ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নাই। এ মন্তব্য কেন করেছে আমি জানি না। আমাকে কখনো বলেনি।’
রিয়াদ/আমিনুল