ভেরেইনি-মুল্ডারের প্রতিরোধের পর আলোকস্বল্পতায় দিন শেষ
::: সংক্ষিপ্ত স্কোর :::
দক্ষিণ আফ্রিকা: ১৪০/৬ (৪১ ওভার)
বাংলাদেশ: ১০৬/১০ (৪০.১ ওভার)
তাইজুল ইসলামের ঘূর্ণিতে দিশেহারা হয়ে ১০৮ রানেই ৬ উইকেট হারিয়ে বসে দক্ষিণ আফ্রিকা। তবে সেখান থেকে প্রতিরোধ গড়েন টেল এন্ডার ব্যাটসম্যান কাইল ভেরেইনি ও উইয়ান মুল্ডার। সপ্তম উইকেটে তারা দুজন ৩২ রান তোলেন দাপুটে ব্যাটিং করে। তাতে ৪১ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে প্রোটিয়াদের রান বেড়ে হয় ১৪০। লিড বেড়ে হয় ৩৪। ভেরেইনি ১ চারে ১৮ ও মুল্ডার ৩ চারে ১৭ রান নিয়ে ব্যাট করছিলেন। এমন সময় আলোকস্বল্পতায় দিনের খেলা বন্ধ হয়ে যায়। এরপর আম্পায়ারদ্বয় দিনের খেলা সমাপ্তি ঘোষণা করেন।
মিরপুর টেস্টের প্রথমদিনে উইকেট পড়লো ১৬টি। বাংলাদেশ সবকটি উইকেট হারিয়ে ১০৬ রান করে। জবাবে ৬ উইকেট হারিয়ে ১৪০ রান তুলে প্রথমদিন শেষ করে দক্ষিণ আফ্রিকা। আগামীকাল মঙ্গলবার দ্বিতীয়দিনে ভেরেইনি ও মুল্ডার ব্যাট করতে নামবেন।
আজ ১৭ মিনিট ও ৬ ওভার খেলা কম হয়। সে কারণে আগামীকাল ১৫ মিনিট আগে খেলা শুরু হবে।
তাইজুলের ফাইফার, বিপাকে দ. আফ্রিকা:
৩২তম ওভারে এসে পঞ্চম উইকেট তুলে নিলেন তাইজুল ইসলাম। এবার ফেরালেন আরেক সেট ব্যাটসম্যান রায়ান রিকেলটনকে। তার করা বলটিতে কাট করতে যান রিকেলটন। কিন্তু বল তার ব্যাট ছুঁয়ে লিটন দাসের গ্লাভসে জমা হয়। ৪৯ বল খেলে ৪টি চারে ২৭ রান করে যান তিনি। নতুন ব্যাটসম্যান হিসেবে ভেরেইনির সঙ্গে যোগ দিয়েছেন উইয়ান মুল্ডার।
১১ ওভারে ২ মেডেনসহ ৩০ রান দিয়ে ৫টি উইকেট শিকার করেছেন তাইজুল। এটা তার টেস্ট ক্যারিয়ারের ১৩তম ফাইফার।
২০০ উইকেটের মাইলফলকে তাইজুল:
দক্ষিণ আফ্রিকার ম্যাথিউ ব্রিটজকিকে বোল্ড করে উল্লাসে ভাসলেন তাইজুল ইসলাম। এটা মিরপুর টেস্ট তার চার নম্বর উইকেট। কিন্তু ৪৮তম টেস্ট ম্যাচে এটা ছিল তার ২০০ উইকেটের মাইলফলক ছোঁয়া উইকেট। ২০১৪ সালে টেস্টে তার অভিষেক হয়। এরপর গেল ১০ বছরে তিনি ৪৮টি টেস্ট খেলেছেন। ক্যারিয়ারে ৫ উইকেট নিয়েছেন ১২ বার। এবারও আছেন ফাইফারের দ্বারপ্রান্তে।
ক্যারিয়ারে ৪ উইকেট শিকার করেছেন ১২বার। ১০ উইকেট নিয়েছেন দুইবার। এক ইনিংসে তার ক্যারিয়ার সেরা বোলিং ৩৯ রানে ৮ উইকেট। আর এক ম্যাচে ক্যারিয়ার সেরা বোলিং ১৭০ রানে ১১ উইকেট।
তাইজুলের ঘূর্ণিতে পঞ্চম উইকেট হারালো দ. আফ্রিকা:
২৮তম ওভারে জোড়া উইকেট তুলে নেন তাইজুল ইসলাম। দ্বিতীয় বলেই ফেরান থিতু হওয়া ব্যাটসম্যান টনি জর্জিকে। তার ফুল লেন্থের বলে ডিফেন্ড করতে গিয়ে ইনসাইজ এজ হন। বল তার ব্যাট-প্যাড ছুঁয়ে চলে যায় শর্ট লেগে থাকা মাহমুদুল হাসান জয়ের হাতে। ৭২ বল খেলে ৪টি চারে ৩০ রান আসে জর্জির ব্যাট থেকে।
এরপর ষষ্ঠ বলে আরও একটি উইকেট নেন তাইজুল। নতুন ব্যাটসম্যান ম্যাথিউ ব্রিটজকি তাইজুলের করা বলটি ছেড়ে দিয়েছিলেন। ভেবেছিলেন বলটি টার্ন করে বেরিয়ে যাবে। কিন্তু সেটি তার অফ স্ট্যাম্প নাড়িয়ে দেয়। ৪ বল খেলে কোনো রান না করেই সাজঘরে ফেরেন তিনি।
এই উইকেটের মধ্যে দিয়ে টেস্টে তাইজুলের মোট উইকেট সংখ্যা বেড়ে হয় ২০০।
নতুন ব্যাটসম্যান হিসেবে রায়ান রিকেলটনের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন কাইল ভেরেইনি।
বেডিংহ্যামকে ফেরালেন তাইজুল
ব্যাপারটা কাকতালীয় মনে হতে পারে। প্রথমে স্টাবসের ক্যাচ ছেড়েছিলেন জয়। পরে তাকেই নিজের শিকার বানিয়েছিলেন তাইজুল। এবার বেডিংহ্যামের ক্ষেত্রেও একই মুন্সিয়ানা দেখালেন।
সাদমান জীবন দিয়েছিলেন বেডিংহ্যামকে। তবে সুযোগটা কাগে লাগাতে পারলেন না এই ব্যাটার। তাইজুলের বলেই তাকে ফিরতে হলো প্যাভিলিয়নে। তাইজুল ইসলামের বেশ বড় টার্ন করা ডেলিভারি কাট করতে গিয়ে কট বিহাইন্ড হলেন তিনি। ২৫ বলে ১১ রান করে ফিরলেন তিনি।
ক্রিজে নতুন ব্যাটসম্যান রায়ান রিকেল্টন। টোনি ডি জোর্জি ৫৯ বলে ২৪ রানে অপরাজিত।
দুই উইকেট তুলে চা বিরতিতে বাংলাদেশ
শুরুতে হাসান মাহমুদ উইকেট এনে দিলেও প্রোটিয়ারা নিজেদের মতো খেলে যাচ্ছে। ওয়ানডে স্টাইলে খেলে রান তুলে নিচ্ছে তারা। তাতে চা বিরতির আগে এক ঘণ্টায় দুই উইকেট নিতে পারলো বাংলাদেশ।
বাংলাদেশের হয়ে উইকেট দুটি নেন হাসান মাহমুদ ও তাইজুল ইসলাম।
স্টাবসকে ফেরালেন তাইজুল
মেহেদি হাসান মিরাজের বলে স্টাবসকে জীবন দিয়েছিলেন মাহমুদুল হাসান হয়। তবে সেটা কাজে লাগাতে পারলেন না প্রোটিয়া ব্যাটার। আক্রমণাত্মক হতে গিয়ে ডেকে আনলেন বিপদ।
তাইজুল ইসলামের ওভারের প্রথম দুই বলে বাউন্ডারি মারলেন স্টাবস। এক বল পরই জবাব দিয়ে দিলেন অভিজ্ঞ বাঁহাতি স্পিনার। তাইজুলের ঝুলিয়ে দেওয়া বলটা রক্ষণাত্মক ভঙ্গিতে খেলতে গিয়ে স্লিপে সাদমান ইসলামের হাতে ধরা পড়েন। শেষ হয় তার ২৭ বলে ২৩ রানের ইনিংস।
টোনি ডি জোর্জি ৩৭ বলে ১৭ রানে অপরাজিত। নতুন ব্যাটসম্যান ডেভিড বেডিংহ্যাম।
স্টাবসের ক্যাচ ছাড়লেন জয়
শুরুতেই জীবন পেয়ে গেলেন স্টাবস। মেহেদী হাসান মিরাজের বল অন সাইডে খেলার চেষ্টায় সোজা শর্ট লেগ ফিল্ডার বরাবর মারেন। তবে চেষ্টা করেও বল হাতে রাখতে পারেননি মাহমুদুল হাসান জয়। ৮ রানে বেঁচে যান স্টাবস।
মার্করামকে বোল্ড করলেন হাসান
এমন ডেলিভারি যে কোনো বোলারের জন্য স্বপ্নের। তেমনই এক ডেলিভারি করলেন হাসান মাহমুদ। বাংলাদেশী পেসারের ব্যাক অব লেংথের বলটি অফ স্টাম্পের সামান্য বাইরে পড়ে ভেতরে ঢোকে। মার্করাম বুঝতেই পারেননি। বল তার ব্যাটের পাশ ঘেষে চুমো খেয়ে যায় মিডল স্টাম্পের ঠিক ওপরে। ৯ রানে প্রথম উইকেট হারাল দক্ষিণ আফ্রিকা।
১০৬ রানে গুটিয়ে গেল বাংলাদেশ
দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে দাঁড়াতেই পারলো না বাংলাদেশ। গুটিয়ে গেল ১০৬ রানে। মিরপুরে এটা বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বনিম্ন টেস্ট ইনিংস। সর্বনিম্ন রানের ইনিংসটি ৮৭ রানের। ২০২১ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচের দ্বিতীয় ইনিংসে ৮৭ রানে আউট হয়েছিল বাংলাদেশ।
বাংলাদেশের পক্ষে প্রথম ইনিংসে সর্বোচ্চ ৩০ রান ছুঁতে পারেন শুধু মাহমুদুল হাসান জয়। ৯৭ বলে ৩০ রান করেন তিনি। কোনো জুটিই ত্রিশ ছুঁতে পারেনি। নবম উইকেটে সর্বোচ্চ ২৬ রান যোগ করেন তাইজুল ও নাঈম হাসান।
দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে ৩টি করে উইকেট নেন মহারাজ, কাগিসো রাবাদা ও ভিয়ান মুল্ডার। প্রথম উইকেট নিয়ে টেস্ট ক্রিকেটে বলের হিসেবে দ্রুততম ৩০০ উইকেটের মালিক হন রাবাদা।
দুই বলের ব্যবধানে আউট জয়-জাকের
মধ্যাহ্ন বিরতির পর মাত্র দুই বলের ব্যবধানে ফিরে গেলেন সেট ব্যাটার মাহমুদুল হাসান জয় ও অভিষিক্ত জাকের আলী অনিক।
মধ্যাহ্ন বিরতির পর এসেই ছক্কা হাঁকালেন জয়। কিন্তু এক ওভার পরেই ডেন পিটকে জায়গা বানিয়ে কাট করার চেষ্টায় বোল্ড হয়ে গেলেন তরুণ ওপেনার। খেললেন ৯৭ বলে ৩০ রানের ইনিংস।
জয়ের আউটের পরই উইকেট বিলিয়ে আসেন জাকের। মহারাজের বলে সামনের পা এগিয়ে দিয়ে বড় শট খেলার চেষ্টায় স্টাম্পড হয়ে গেলেন ২ রান করা ব্যাটসম্যান।
৩০.৩ ওভারে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৮ উইকেটে ৭৬ রান। ক্রিজে দুই নতুন ব্যাটসম্যান নাঈম হাসান ও তাইজুল ইসলাম।
মিরাজও ফিরে গেলেন
মাত্র এক বল। এই এক বল কোনোভাবে খেলে দিতে পারলেই নিরাপদে মধ্যাহ্ন বিরতিতে যেতে পারতো বাংলাদেশ। কারণ মিরাজ ছিলেন। কিন্তু সেটা হতে দিলেন না কেশব মহারাজ।
মহারাজের আর্ম বল ভুল লাইনে খেলে লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়েন মিরাজ। রিভিউ নিয়েও লাভ হয়নি। ২৪ বলে ১৩ রান করেন এই অলরাউন্ডার।
২৬.১ ওভারে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৬ উইকেটে ৬০ রান। একমাত্র আগলে রেখে ৮৬ বলে ১৬ রানে অপরাজিত মাহমুদুল হাসান জয়। বিরতির পর নামবেন অভিষিক্ত জাকের আলি।
রাবাদার দ্বিতীয় শিকার লিটন
লিটনের এই আউটে আসলে ফিল্ডার ত্রিস্টিয়ান স্টাবসকেই বেশি কৃতিত্ব দিতে হয়। রাবাদার বলটি অফ স্টাম্পের বাইরে পড়ে লিটনের দিকে যাচ্ছিল। আলতো হাতে শট খেললেন তিনি। বল চলে যাচ্ছিল দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্লিপের মধ্য দিয়ে। স্টাবস উড়ন্ত অবস্থায় বল তালুবন্দি করলেন।
বাংলাদেশ ৪৫ রানে পঞ্চম উইকেট হারাল। লাঞ্চ বিরতির আগেই বাংলাদেশের অর্ধেক ব্যাটসম্যান শেষ।
মুশফিককে বিদায় করে রাবাদার ৩০০
মিরপুরে সাতসকালেই উইকেটের মিছিলে বাংলাদেশ। একের পর এক উইকেট তুলে নিচ্ছেন দক্ষিণ আফ্রিকার পেসাররা। এবার চতুর্থ উইকেটের পতন ঘটলো বাংলাদেশের। বিদায় নিলেন মুশফিকুর রহিম।
রাবাদার ইয়র্কারটা বুঝতেই পারলেন না মুশফিক। কিছু বুঝার আগেই এলোমেলো হয়ে গেল স্টাম্প। মুশফিকের উইকেট দিয়ে টেস্ট ক্রিকেটে কাগিসো রাবাদার উইকেট হলো ৩০০টি।
দক্ষিণ আফ্রিকার ষষ্ঠ বোলার হিসেবে ৩০০ উইকেট পাওয়ার কীর্তি গড়েছেন রাবাদা। তার আগে যে পাঁচ দক্ষিণ আফ্রিকান বোলার ৩০০ উইকেটের মাইলফলক ছুঁয়েছেন। তারাও হলেন—অ্যালান ডোনাল্ড, শন পোলক, মাখায় এনটিনি, মরনে মরকেল ও ডেল স্টেইন।
উইকেটের মিছিলে শান্ত
সাদমান ইসলাম ও মুমিনুলের পথ ধরে এবার উইকেটের মিছিলে যোগ দিলেন নাজমুল হোসেন শান্ত। তিনিও উইকেট বিলিয়ে দিয়েছেন মুল্ডারকে। ২১ রানে ৩ উইকেট হারিয়েছে বাংলাদেশ।
রাউন্ড দা উইকেট থেকে মুল্ডারের ভেতরে ঢোকা ডেলিভারি অন সাইডে খেলার চেষ্টা করেন শান্ত। বল তার ব্যাটের সামনের দিকে লেগে শর্ট কভারে চলে যায়। সহজ ক্যাচ নেন কেশাভ মহারাজ। ৭ বলে ৭ রান করেন বাংলাদেশ অধিনায়ক।
উইকেটে এসেছেন মুশফিকুর রহিম। তার সঙ্গী জয়।
সাদমানের পথ ধরলেন মুমিনুল

সাদমান ইসলাম ফিরে যেতে না যেতেই তার পথ ধরলেন মুমিনুল হক। শুরু থেকেই নড়বড়ে মনে হচ্ছিল মুমিনুলকে। উইকেটে এসে চার মেরে নার্ভারনেস কাটানোর ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। কিন্তু টিকতে পারলেন না। ওভারের চতুর্থ বলেই ক্যাচ দিয়েছেন উইকেটের পেছনে।
মিডল স্টাম্পে ফেলে কিছুটা সুইং করিয়েছিলেন মুল্ডার। সেই বলে লেগ সাইডে খেলতে গিয়ে উইকেটকিপার কাইল ভেরেইনাকে ক্যাচ দিয়ে ফিরে গেছেন মুমিনুল।
ফিরে গেলেন সাদমান
বাংলাদেশের একাদশে এক পেসার থাকলেও দক্ষিণ আফ্রিকা নেমেছে তাদের পেস স্কোয়াড নিয়েই। ফলও পেল হাতেনাতে। উইয়ান মুল্ডারের বলে আউট কোনো রান না করেই আউট হয়ে ফিরেছেন সাদমান ইসলাম।
মুল্ডারের ফুল লেংথ ডেলিভারিটা অফ স্টাম্পের বাইরে পিচ করে বল চলে যাচ্ছিল। সেই বলে খোঁচা দিয়ে আত্মহুতি দিলেন সাদমান। ৬ রানে প্রথম উইকেট হারাল বাংলাদেশ। উইকেটে এসেছেন মুমিনুল হক।
জাকেরের অভিষেক, এক পেসার তিন স্পিনার নিয়ে মাঠে বাংলাদেশ
অনেকদিন ধরেই আলোচনায় ছিলেন উইকেটকিপার ব্যাটার জাকের আলী অনিক। রঙিন পোশাকে ইতোমধ্যে অভিষেক হয়ে গেছে তার। এবার সাদা পোশাকেও শুরু হলো পথচলা।
টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের ১০৫তম ক্রিকেটার তিনি। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে তার ৫০তম ম্যাচ এটি। এখন পর্যন্ত ৪৯টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচে ৪ সেঞ্চুরি ও ১৯ ফিফটিতে জাকেরের সংগ্রহ ২ হাজার ৮৬২ রান।
জাকেরের অভিষেকের দিনে এক পেসার ও তিন স্পিনার নিয়ে মিরপুরে নামছে বাংলাদেশ। একমাত্র পেসার হাসান মাহমুদ। স্পিনে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজের সঙ্গে নেওয়া হয়েছে নাঈম হাসানকে। একাদশে ফিরেছেন মাহমুদুল হাসান জয়।
বাংলাদেশ একাদশ: নাজমুল হোসেন শান্ত (অধিনায়ক), সাদমান ইসলাম, মাহমুদুল হাসান জয়, মুমিনুল হক, মুশফিকুর রহিম, লিটন কুমার দাস, মেহেদী হাসান মিরাজ, জাকের আলি, তাইজুল ইসলাম, নাঈম হাসান, হাসান মাহমুদ।
টস
টস জিতে বাংলাদেশের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
রেকর্ড বাংলাদেশের বিপক্ষে
দুই দল এখন পর্যন্ত ১৪ টেস্ট মুখোমুখি হয়েছে। যেখানে ১২ জয় দক্ষিণ আফ্রিকার। বাংলাদেশ কোনো ম্যাচে জয় পায়নি। তবে ড্র করেছে দুইটি। আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের লড়াইয়ে দুই দল মুখোমুখি হচ্ছে। যেখানে ফাইনালে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে দুই দলেরই। রেকর্ড বাংলাদেশের পক্ষে নেই। তবে ভালো ক্রিকেট খেললে এই সিরিজেও প্রত্যাশিত জয় পাওয়া সম্ভব। যেমনটা এ বছরই নিউ জিল্যান্ডকে হারিয়েছে বাংলাদেশ। জিতেছে পাকিস্তানের বিপক্ষে তাদের মাটিতেই। এবার কী দক্ষিণ আফ্রিকা বধের কাব্য লিখতে পারবে শান্ত এন্ড কোং?
মঞ্চটা হতে পারত উৎসবের!
সাকিব আল হাসান, বাংলাদেশ ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় সুপারস্টার এই ম্যাচটি দিয়ে টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসর নিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু দেশের পরিবর্তীত পরিস্থিতিতে দেশে ফেরার অনুমতি পাননি সাকিব। নিরাপত্তা নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণেই সাকিবকে সরকারের পক্ষ থেকে দেশে না আসতে বলা হয়। সাকিবের অবসরকে কেন্দ্র করে এই ম্যাচটি হতে পারত উৎসবের। কিন্তু দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের প্রথমটা হচ্ছে আর দশটা সাধারণ ম্যাচের মতোই।
সাকিব ইস্যুতে মিরপুর শের-ই-বাংলায় পক্ষে-বিপক্ষে নানা কর্মসূচি চলছে গত কয়েক দিন ধরেই। টেস্ট শুরুর আগের দিন স্টেডিয়ামমুখী ‘সাকিবিয়ানদের লং মার্চ’ কর্মসূচি ডেকেছিলেন সাকিবের ভক্ত-সমর্থকরা। অন্যদিকে সাকিব বিরোধীরা তাদের আক্রমণ করে কর্মসূচি এলোমেলো করে দেন। সব মিলিয়ে পরিস্থিতি পরবর্তীতে নিয়ন্ত্রণে আনে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী।
অচলায়তন ভেঙে ক্রিকেট ফেরার আনন্দ
লম্বা সময় ধরেই দেশের মাটিতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট নেই। বাংলাদেশ ঘরের মাঠে সবশেষ টেস্ট খেলেছে সাত মাস আগে। ওয়ানডেও তাই। লম্বা সময় পর অচলায়তন ভেঙে মিরপুরে ফিরছে ক্রিকেটানন্দ। পরিবর্তিত পরিস্থিতি এবারই প্রথম বড় কোনো ক্রীড়া আয়োজন করতে যাচ্ছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। নারীদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আয়োজনের কথা থাকলেও নিরাপত্তার কারণে আইসিসি তা সরিয়ে নেয়। দক্ষিণ আফ্রিকার বাংলাদেশ সফরের মধ্য দিয়ে দেশের মাটিতে ক্রিকেট ফেরার সুবাস বইছে।
ঢাকা/বিজয়/আমিনুল