রোহিত-সূর্যকে পেছনে ফেলে বিশ্বমঞ্চে সেরা রাজা
এক সময় বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গাই নিশ্চিত করতে পারেনি জিম্বাবুয়ে। সেই দলই এবার বৈশ্বিক মঞ্চে ফিরে একের পর এক চমক দেখাচ্ছে। অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর পর শ্রীলঙ্কাকেও ছয় উইকেটে পরাজিত করে ‘বি’ গ্রুপের শীর্ষস্থান নিশ্চিত করেছে সিকান্দার রাজার নেতৃত্বাধীন দল। আর এই জয়ের কেন্দ্রে ছিলেন অধিনায়ক নিজেই। ব্যাট ও বল হাতে অসাধারণ নৈপুণ্যে বিশ্বরেকর্ডের পাতায় নিজের নাম লিখে।
কলম্বোর প্রেমাদাসা ক্রিকেট মাঠে শ্রীলঙ্কা আগে ব্যাট করে সাত উইকেটে তোলে ১৭৮ রান। বড় এই লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে জিম্বাবুয়ে শেষ পর্যন্ত তিন বল হাতে রেখেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায়। চার ম্যাচে সাত পয়েন্ট নিয়ে তারা গ্রুপের শীর্ষে থেকে পরবর্তী পর্বে উঠেছে। সমান ম্যাচে ছয় পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে শ্রীলঙ্কা।
চার নম্বরে নেমে মাত্র ২৬ বলে ৪৫ রান করেন সিকান্দার রাজা। দুটি চার ও চারটি ছক্কায় সাজানো এই ইনিংসে তার আক্রমণাত্মক মানসিকতা স্পষ্ট ছিল। রান তোলার গতি ছিল ১৭৩.০৮। বল হাতেও চার ওভারে ৩৬ রান খরচ করে নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখেন। যদিও উইকেট পাননি। ম্যাচের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার স্বাভাবিকভাবেই যায় তার হাতে।
এই সাফল্যের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ২০ ওভারের ক্রিকেটে ২০তম বার ম্যাচসেরা হলেন রাজা। পূর্ণ সদস্য দেশগুলোর ক্রিকেটারদের মধ্যে সর্বাধিকবার এই সম্মান অর্জনের রেকর্ড এখন তার। তিনি পেছনে ফেলেছেন ভারতের সূর্যকুমার যাদবকে। তালিকায় ভারতের বিরাট কোহলি রয়েছেন তৃতীয় স্থানে। পূর্ণ সদস্য নয় এমন দেশগুলোর মধ্যে মালয়েশিয়ার বীরান্দিপ সিং রয়েছেন সবার ওপরে। তার ম্যাচসেরা সংখ্যা বাইশ।
এছাড়া বৈশ্বিক আসরে সবচেয়ে বেশি বয়সী অধিনায়ক হিসেবে ম্যাচসেরা হওয়ার কীর্তিও গড়েছেন রাজা। এর আগে এই কৃতিত্ব ছিল ভারতের রোহিত শর্মার।
রাজার নেতৃত্ব ও ফর্ম জিম্বাবুয়ে শিবিরে নতুন প্রাণ সঞ্চার করেছে। পরিসংখ্যান বলছে, গত এক বছরে সীমিত ওভারের ক্রিকেটে দলের জয়ের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তরুণ ও অভিজ্ঞদের সমন্বয়ে গড়া এই দল এখন আর কেবল অংশগ্রহণকারী নয়, বরং শিরোপা লড়াইয়ের সম্ভাব্য দাবিদার হিসেবেই নিজেদের প্রতিষ্ঠা করছে।
ঢাকা/আমিনুল