আইনি বাধা পেরিয়ে সাকিবের বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন?
বাংলাদেশ ক্রিকেটে আবারো ফিরতে পারেন সাকিব আল হাসান—এমন আলোচনা বেশ কিছুদিন ধরেই চলছিল। এবার সেই গুঞ্জনকে আনুষ্ঠানিক রূপ দিতে বাংলাদেশের ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সরকারের সঙ্গে কাজ করছে। বিসিবির এক পরিচালক নিশ্চিত করেছেন, সাকিবকে ফিরিয়ে আনার বিষয় নিয়ে সরকারের সঙ্গে কথাবার্তা চলছে। তিনি স্পষ্ট করেছেন, বাংলাদেশের ক্রিকেটের স্বার্থে যত দ্রুত সম্ভব সাকিবকে দলে ফিরিয়ে আনা হবে।
ক্রিকেটের পাশাপাশি রাজনীতিতে নাম লেখানো সাকিব ২০২৪ সালে জাতীয় নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তবে সরকার পরিবর্তনের কারণে তিনি ৬ মাসও রাজনীতি করতে পারেননি। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর সাকিবের নামে একাধিক মামলা হয়, যার মধ্যে হত্যার মামলা ও দুদকের মামলা রয়েছে। এসব কারণে সাকিবের দেশে প্রত্যাবর্তন সহজ নয়। এর আগেও তিনি দেশে ফেরার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তাকে ঢাকার বিমানে ওঠা থেকে বিরত রাখায় ফেরেননি।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানানোর আগে অন্তত দেশের মাটিতে একটি পূর্ণাঙ্গ সিরিজ খেলতে চান বিশ্বের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার। নিজের প্রত্যাশা বারবার বিভিন্ন মাধ্যমে জানিয়েছেন তিনি।
নানা মাধ্যমে খবর এসেছে, আসছে মার্চে পাকিস্তানের বিপক্ষে হোম সিরিজেই সাকিবকে খেলাতে চায় বিসিবি। যদিও এ বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা নেই, তবে ক্রিকেট প্রশাসন কাজ করছে। সাকিবের বিরুদ্ধে থাকা আইনি মামলার নথি গত সোমবার সরকারকে জমা দিয়েছে বিসিবি। সাকিবের আইনজীবী দল নথি তৈরি করে বিসিবিকে হস্তান্তর করেছেন। বিসিবি সেই সমস্ত নথি সরকারকে পাঠিয়েছে, সঙ্গে সাকিবকে ফেরাতে সবুজ সংকেত থাকা চিঠিও ইস্যু করেছে।
নতুন সরকারের মনোভাব মন্ত্রীসভা গঠনের পরপরই স্পষ্ট হয়েছে। নবনির্বাচিত যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক জানিয়েছেন, সাবেক দুই সংসদ সদস্য মাশরাফি বিন মুর্তজা ও সাকিব আল হাসানের বিষয়ে মন্ত্রণালয় নমনীয় থাকবে। তাদের বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলো রাষ্ট্রীয়ভাবে দেখা হবে এবং কিংবদন্তি দুই ক্রিকেটারকে প্রাপ্য সম্মান দেওয়া হবে।
মূলত আমিনুলের এই মন্তব্যের পরপরই সাকিবকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা এবং জাতীয় দলে খেলানোর বিষয়ে উদ্যোগ নিতে শুরু করে বিসিবি। মাশরাফির ২২ গজে ফেরার কোনো পরিকল্পনা নেই; তিনি কেবল স্বাভাবিক জীবনে ফেরার অপেক্ষায়। মাশরাফির নামে আছে হত্যার মামলা, তবে অর্থ ও দুর্নীতির কোনো মামলা নেই।
আমিনুল হক দায়িত্ব নিয়ে জানিয়েছেন, দুই ক্রিকেটারের ফেরার পথ রাষ্ট্রীয়ভাবে সুগম করা হবে। তিনি বলেন, “সাকিব আর মাশরাফির বিষয়টি রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তের আওতায়। তারা বাংলাদেশের লেজেন্ডারি ক্রিকেটার। যে মামলাগুলো হয়েছে, তা রাষ্ট্রীয়ভাবে সমাধান করে আমরা চাই তারা দ্রুত দেশে ফিরে আসুক।”
বাংলাদেশ দলের পরবর্তী সিরিজ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর দেশের মাটিতে। পাকিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচের সিরিজ হবে ১১, ১৩ ও ১৫ মার্চ। ওয়ানডেতে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স খারাপের দিকে। সাকিবের অনুপস্থিতিতে বাংলাদেশ ২৫টি ওয়ানডে খেলেছে, এর মধ্যে ১৭টিতে হেরেছে, কেবল ৭টি জয়।
২০২৭ সালের বিশ্বকাপে সরাসরি খেলতে হলে র্যাঙ্কিংয়ে সেরা আট দলের মধ্যে থাকতে হবে। বর্তমানে বাংলাদেশের ওয়ানডে রেটিং পয়েন্ট ৭৪, অবস্থান ১০। ঠিক ওপরে থাকা ওয়েস্ট ইন্ডিজের পয়েন্ট ৭৭। অর্থাৎ বাংলাদেশের সরাসরি বিশ্বকাপে খেলার পথ জটিল, এবং প্রতিটি সিরিজ, প্রতিটি ম্যাচ গুরুত্বপূর্ণ। লড়াই শুরু হচ্ছে পাকিস্তানের বিপক্ষে মার্চ থেকেই।
সাকিবকে নিয়েই, নয়-তো সাকিব ছাড়া!
ঢাকা/ইয়াসিন