অর্থ কেলেঙ্কারিতে আর্জেন্টিনা ফুটবল সংস্থার শীর্ষকর্তারা আইনি জালে
বিশ্বকাপের প্রস্তুতির ঠিক আগমুহূর্তে বড় ধরনের সংকটে পড়েছে আর্জেন্টিনা ফুটবল সংস্থা। কর ফাঁকি ও অর্থ আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগে সংস্থার সভাপতি ক্লদিও তাপিয়া, কোষাধ্যক্ষ তোভিগিনোসহ একাধিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে দেশটির আদালত। ফলে মাঠের বাইরে প্রশাসনিক অস্থিরতা নতুন করে চাপ তৈরি করেছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের ওপর।
অর্থনৈতিক অপরাধ সংক্রান্ত আদালতের বিচারক দিয়েগো আমারান্তে সংস্থাটিকেও একটি আইনি সত্তা হিসেবে অভিযুক্ত করেছেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, প্রায় ১৯ বিলিয়ন পেসোর বেশি অর্থ, যার মধ্যে কর রাজস্ব ও সামাজিক নিরাপত্তা তহবিল রয়েছে; যথাসময়ে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়নি। তদন্তে উঠে এসেছে, ২০২৪ সালের মার্চ থেকে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কর্মচারী ও সরবরাহকারীদের কাছ থেকে বিভিন্ন কর কেটে রাখা হলেও নির্ধারিত ৩০ দিনের মধ্যে তা পরিশোধ করা হয়নি।
এই ঘটনায় মোট ৩৪টি কর আত্মসাত এবং ১৭টি সামাজিক নিরাপত্তা তহবিল সংক্রান্ত অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের জন্য সর্বোচ্চ ৫০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে, যা পুরো বিষয়টির গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
আদালতের নির্দেশে সংস্থা ও শীর্ষ কর্মকর্তাদের সম্পদ থেকে ৩৫০ মিলিয়ন পেসো জব্দ করা হয়েছে। পাশাপাশি সংস্থার সাধারণ পরিচালক, সাধারণ সম্পাদক এবং সাবেক সাধারণ সম্পাদককেও মামলার আওতায় আনা হয়েছে, যদিও তাদের ক্ষেত্রে জব্দের পরিমাণ তুলনামূলক কম।
তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সভাপতি তাপিয়া। আদালতে দেওয়া সাক্ষ্যে তিনি দাবি করেছেন, সব কর সংক্রান্ত নথি যথাযথভাবে জমা দেওয়া হয়েছে এবং বকেয়া অর্থও পরিশোধ করা হয়েছে। যদিও দেরির কারণে সুদ আরোপ হয়েছে। সংস্থার পক্ষ থেকেও একই বক্তব্য দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বিচারক এই ব্যাখ্যা গ্রহণ করেননি। তার মতে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই অর্থ পরিশোধ করার মতো সক্ষমতা সংস্থার ছিল।
বর্তমানে তাপিয়া ও তোভিগিনোর ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। তারা দেশ ত্যাগ করতে পারবেন না এবং আদালতের অনুমতি ছাড়া ৭২ ঘণ্টার বেশি নিজ বাসস্থানের বাইরে থাকতে পারবেন না। যদিও অন্য অভিযুক্তদের ক্ষেত্রে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হয়েছে।
বিশ্বকাপ শুরু হতে বাকি কম সময়। এমন অবস্থায় প্রশাসনিক এই সংকট আর্জেন্টিনার প্রস্তুতিকে জটিল করে তুলতে পারে। দল মাঠে শক্তিশালী অবস্থানে থাকলেও, সংস্থার এই আইনি জটিলতা সামগ্রিক ভাবমূর্তিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
ঢাকা/আমিনুল
অনলাইনেও ক্লাস নেওয়ার কথা ভাবছে সরকার: শিক্ষামন্ত্রী