ঢাকা, শুক্রবার, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ২৫ মে ২০১৮
Risingbd
সর্বশেষ:

প্রাণের উৎসবে মেতে উঠেছিল সিডনি

জুয়েল : রাইজিংবিডি ডট কম
 
   
প্রকাশ: ২০১৭-১০-২৯ ৭:১৮:২৪ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৮-০৩-০৩ ১২:৪৯:৩৬ পিএম

নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রাণের উৎসবে মেতে উঠেছিল অস্ট্রেলিয়ার সিডনি নগরী। শনিবার বিকেলে অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও ফিজির হাজারো প্রবাসী বাংলাদেশির পদচারণায় সিডনির ব্যাংকসটাউনের পল কেটিং পার্কই যেন হয়ে গেল এক টুকরো বাংলাদেশ।

বাংলাদেশের সংস্কৃতি বিশ্বের দরবারে তুলে ধরার যে প্রয়াস, প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ ফেস্টিভ্যাল আয়োজনের মধ্য দিয়ে তা পরিপূর্ণতা পায়। এ যেন এক টুকরো বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি। বাঙালিয়ানার আড্ডায় মুহূর্তেই সবাই হারিয়ে যান বাংলাদেশের স্মৃতিতে, কৈশোর ও যৌবনের সেই ভালোলাগার দিনগুলিতে।

সিডনি থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অস্ট্রেলিয়ার মন্ত্রী, এমপি, মেয়র থেকে শুরু করে স্থানীয় গণ্যমাণ্য ব্যক্তিরা উপস্থিত হয়ে অনুষ্ঠানকে করেছেন আলোকিত। আর অস্ট্রেলিয়ার স্থানীয় এবং বাংলাদেশের খ্যাতিমান সংগীতশিল্পীদের পরিবেশনা সেই আলোর ছটাকে করেছে আরো বিস্তৃত। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি এনটিভির চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলহাজ মোহাম্মদ মোসাদ্দেক আলী শারীরিক অসুস্থতার কারণে উপস্থিত থাকতে না পারলেও এক শুভেচ্ছা বক্তব্যে অনুষ্ঠানের সাফল্য কামনা করেছেন।



আয়োজকেরাও মনে করছেন এ আয়োজনের লক্ষ্য শতভাগ পূরণ হয়েছে। এনটিভি অস্ট্রেলিয়ার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) রাশেদ শ্রাবণ অনুষ্ঠান শেষে উচ্ছ্বসিত কণ্ঠে বলেন, ‘আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও দর্শকদের এনটিভির প্রতি গভীর ভালোবাসাই এই উৎসবকে সার্থক করে তুলে ধরেছে। এনটিভি শুধু অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশিদের কাছে জনপ্রিয় নয়, সারা বিশ্বেই বাংলা ভাষাভাষী মানুষের কাছে জনপ্রিয়, তা আবারও প্রমাণিত হলো।’ দর্শকদের অনুপ্রেরণা পেলে প্রতি বছর এই আয়োজন করা হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

শনিবার অনুষ্ঠান শুরু হয় এনটিভি পরিবারের গল্প দিয়ে। হাটি হাটি পা পা করে কীভাবে এনটিভি ১৫ বছর ধরে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ আর সুস্থ বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান সম্প্রচার করে যাচ্ছে তা এক প্রামাণ্যচিত্রে তুলে ধরা হয়। এরপর পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করে শিশু তাসফির। এরপর শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ফেস্টিভ্যালের ইভেন্ট কোঅর্ডিনেটর জাহাঙ্গীর হাবিব, এনটিভি অস্ট্রেলিয়ার পাবলিক রিলেশন্স অফিসার সাইমুম সারোয়ার, আমরা বাংলাদেশির সংগঠক ও চার্লস স্টার্ট ইউনিভার্সিটির শিক্ষক শিবলী আবদুল্লাহ, হেড অব এনটিভি অনলাইন ফকরউদ্দীন জুয়েল। অনুষ্ঠানে উপস্থাপনা করেন এনটিভির বিশেষ প্রতিনিধি আরিফুর রহমান ও স্থানীয় সংগীতশিল্পী তমা।



বাংলাদেশ ফেস্টিভ্যালের সাফল্য কামনা করে শুভেচ্ছা বক্তব্য দিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সংস্কৃতি মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তাদের সেই ধারণকৃত বক্তব্য বড় পর্দায় প্রদর্শণ করা হয়।

এরপর নিউ সাউথ ওয়েলস প্রদেশের এমপি ও সহকারি যোগাযোগমন্ত্রী মার্ক জোসেফ কোর বক্তব্য দেন। তিনি বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতির প্রশংসা করেন।



পরে স্থানীয় শিল্পীরা সংগীত ও নৃত্য পরিবেশন করে। এতে মুগ্ধ হন দর্শকেরা। সংগীত পরিবেশন করেন স্থানীয় শিল্পী রুমেন কর্মকার, নৃত্যনাট্য ও দেশী সংগীতের সুর ও তালে ওপর নাচ পরিবেশন করে দর্শক মাতিয়ে তোলে স্থানীয় শিশু শিল্পীরা। সুমাইয়া, নাবিলা একক সংগীতের মধ্য দিয়ে দর্শকদের মাঝে কিছুটা উচ্ছাস ছড়ায়। অনুষ্ঠানের উপস্থাপক তমাও গান গেয়ে মাতিয়ে তোলেন দর্শকদের।

এরপর ছিল প্রবাসী বাংলাদেশি ও অস্ট্রেলীয় মডেলদের ফ্যাশন শো। অস্ট্রেলিয়ার জনপ্রিয় নৃত্যশিল্পী অর্পিতা সোমের দেশীয় গানের পরিবেশনায় দর্শক মোহিত হন। এনটিভির চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলহাজ মোহাম্মদ মোসাদ্দেক আলী অসুস্থ থাকায় তার পক্ষে এনটিভি অস্ট্রেলিয়ার সিইও রাশেদ শ্রাবণ শুভেচ্ছা বক্তব্য দর্শকদের পড়ে শোনান।



এরপর মঞ্চে আসেন অস্ট্রেলিয়ার বিরোধীদলীয় নেতার প্রতিনিধি টনি বার্কে এমপি, গ্লেন ব্রোক্স এমপি, ব্যাংকসটাইন সিটির ডেপুটি মেয়র, কাউন্সিলর শাহে জামান টিটু, কেন্টাবুরির সাবেক ডেপুটি মেয়র কার্ল সালেহসহ গণ্যমাণ্য ব্যক্তিরা। তারা তিনটি দেশে বসবাসকারী বাংলাদেশিদের এক মঞ্চে দেখে শুভেচ্ছা জানান। এ ধরণের অনুষ্ঠানের ভূয়সী প্রশংসা করে তারা বলেন, নিঃসন্দেহে এটা একটা বড় আয়োজন। বাংলাদেশের সংস্কৃতি যে কতটা সমৃদ্ধ এতো বড় আয়োজনই তা প্রমাণ করে। স্থানীয় ব্যান্ড স্পর্শ-এর গানে দর্শকেরা আনন্দিত হয়েছেন।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে বাংলাদেশের সংগীতশিল্পী সাঈদ ও ক্লোজআপ তারকা রন্টি দাশ মঞ্চ মাতিয়ে তোলেন। প্রাণের এই উৎসব মূলত পরিপূর্ণতা পায় এই দুই শিল্পীর মনোমুগ্ধকর পরিবেশনায়। ছোট-বড় সব ধরণের দর্শক নেচে-গেয়ে পুরো মঞ্চের আশেপাশে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে দেন। মেলার চারপাশে চটপটি, ফুচকা, দেশীয় শাড়ি-পোশাক, গহনায় বাহারি সাজে সেজেছিল স্টলগুলো। মেলায় এসে অনেকে দেশীয় পণ্য কেনাকাটা করতে ভোলেননি। তবে চটপটি-ফুচকার দোকানে ভিড় ছিল সবচেয়ে বেশি।



রাইজিংবিডি/ঢাকা/২৯ অক্টোবর ২০১৭/জুয়েল/শাহনেওয়াজ

Walton Laptop
 
   
Walton AC