ঢাকা, শনিবার, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৪, ২৭ মে ২০১৭
Risingbd
সর্বশেষ:

জি এইচ হাবীবকে নিয়ে || স্বকৃত নোমান

স্বকৃত নোমান : রাইজিংবিডি ডট কম
 
   
প্রকাশ: ২০১৭-০১-২৬ ২:২৪:০১ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৭-০১-২৬ ২:৩০:০৬ পিএম
জি এইচ হাবীব এবং তার অনুবাদকৃত তিনটি বই

বিশ্বব্যাপী সাহিত্যকর্মের জন্য সরকারি-বেসরকারি নানা পুরস্কারের প্রচলন রয়েছে। বাংলাদেশেও। এটি বিদ্যামন বাস্তবতা। আমি-আপনি চাইলেই এসব পুরস্কার বন্ধ করতে পারব না। যেহেতু এটি একটি বিদ্যমান বাস্তবতা, সেহেতু এই বিষয়ে সাহিত্যকর্মীরা যদি কথা বলেন, যদি ইতিবাচক-নেতিবাচক কোনো মন্তব্য করেন, তাতে আমি দোষের কিছু আছে বলে মনে করি না। বরং কথা বলাই উচিত। এই জন্য, পুরস্কারগুলো যাতে অপাত্রে চলে না যায়, যাতে যোগ্য পাত্রের হাতে যায়। অযোগ্যরা কি পুরস্কারে ভূষিত হয় না? হয়। ভূরি ভূরি নজির আছে। সঠিক পাত্র পুরস্কৃত হলে ক্ষতি নেই, কিন্তু অপাত্র পুরস্কৃত হলে বিস্তর ক্ষতি আছে। কোনটা সাহিত্য আর কোনটা সাহিত্য নয়―সাধারণ পাঠক তো অত কিছুর খোঁজ-খবর রাখেন না। একজন অযোগ্য ব্যক্তিকে যখন যে কোনো পুরস্কারে ভূষিত করা হয়, তিনি তখন সাধারণ পাঠকের কাছে সাময়িকভাবে হলেও যোগ্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়ে যান। তৎকৃত অসাহিত্য সাধারণ পাঠক মহান সাহিত্যকর্ম ভেবে বসে থাকেন। তাতে যারা সাহিত্যের নিবেদিতপ্রাণ কর্মী, সাময়িকভাবে হলেও তারা কোনো না কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। একে আমি ‘লিটারারি ক্রাইম’ বলব। এই ক্রাইম কি হতে দেওয়া উচিত? মোটেই না। তাই, সাহিত্য পুরস্কার নিয়ে সমালোচনা খারাপ কিছু নয়। সমালোচনায় বরং পুরস্কারদাতা প্রতিষ্ঠানের দায়বদ্ধতা বাড়ে, সতর্কতা বাড়ে।

সাহিত্যের প্রতি প্রতিশ্রুতিশীল সাহিত্যিকের কাছে পুরস্কার মোটেই গুরুত্বপূর্ণ কিছু নয়। আমি মনে করি না, সাহিত্যিক কখনো পুরস্কারের জন্য সাহিত্য করেন। প্রত্যেক সাহিত্যিকই ভেতরের তাড়না থেকে সাহিত্য করেন। পুরস্কারের ব্যাপারে তিনি থাকেন সম্পূর্ণতই উদাসীন। তাঁর কাজ সাহিত্য করা, পুরস্কার চেয়ে বেড়ানো নয়, পুরস্কারের জন্য দৌড়ঝাঁপ, গ্রুপিং, লবিং, চামচামি, তেলবাজি করে বেড়ানো নয়। যারা এসব করেন তারা নিজের লেখকসত্তার অপমান করেন এবং সাহিত্যজগত দূষিত করেন। বাংলাদেশে নিভৃতচারী অনেক সাহিত্যিক রয়েছেন, যাঁরা শামুকের মতো সবসময় খোলসের ভেতর লুকিয়ে থেকে কাজ করে যান, কাজ ছাড়া নিজেকে খুব বেশি প্রকাশ করতে চান না, নীরবে নিভৃতে শুধু কাজই করে যান। এই করণে যথা সময়ে তাঁরা মূল্যায়িত হন না, জীবৎকালে তারা পুরস্কৃত হন না। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মূল্যায়িত বা পুরস্কৃত হন মৃত্যুর পর, যখন তাঁরা সকল চাওয়া-পাওয়ার উর্ধে চলে যান। অর্থাৎ মরে যান। মরণোত্তর পুরস্কারটা মাঝেমধ্যে আমার কাছে হাস্যকর লাগে।

দুই.

সাহিত্য পুরস্কার প্রসঙ্গে উল্লিখিত কথাগুলো লেখার পেছনে একটা কারণ আছে। সম্প্রতি শক্তিমান অনুবাদক জি এইচ হাবীবকে নিয়ে ফেসবুকে একটা স্ট্যাটাস দিয়েছিলাম। সেটি ছিল এমন: ‘‘জিএইচ হাবিবের অনুবাদকর্ম এত ভালো, এত ভালো যে, বহু  মৌলিক সাহিত্যকর্মও তাঁর অনুবাদকর্মের সামনে দাঁড়ায় না। গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেজের ‘নিঃসঙ্গতার একশ বছর’ এবং ইয়স্তাইন গোর্ডারের ‘সোফির জগ’―এ দুটি অনুবাদকর্মের জন্য তিনি সাহিত্যের পাঠকদের কাছে অমর হয়ে থাকবেন। তাঁর অন্যসব কাজের কথা বাদই দিলাম। তাঁকে যদি এবার একুশে পদকের জন্য নির্বাচিত করা হয়, সাহিত্যের একজন নগণ্য কর্মী হিসেবে রাষ্ট্রকে আমি বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানাব।’’

ফেসবুকে বিস্তারিত কিছু লেখা যায় না। লিখলেও সবার চোখে পড়ে না। পড়লেও ব্যস্ততার কারণে পড়া সম্ভব হয় না। তাই জি এইচ হাবীবকে নিয়ে বিস্তারিত একটা লেখা দাঁড় করানোর চিন্তা করি এবং সেদিন বাসায় ফিরেই লিখতে শুরু করি।

বাংলাদেশে অনুবাদকর্ম কেন যেন সাহিত্যকর্ম হিসেবে বিবেচনা করতে অনেকেই কুণ্ঠাবোধ করেন। একজন অনুবাদক যেন স্রেফ অনুবাদকই, কোনোভাবেই তিনি সাহিত্যিক নন―অনেকেরই এমন মনোভাব। এমন মনোভাব তাঁরা কেন পোষণ করেন ঠিক বুঝে আসে না। আমি মনে করি, যথার্থ অনুবাদকর্ম কখনো কখনো মৌলিক সাহিত্যকর্মকেও ছাড়িয়ে যায়। অনুবাদকও একজন সাহিত্যিক। সাহিত্য অনুবাদ করতে হলে অনুবাদককে সাহিত্যিক হতে হয়। নইলে তার অনুবাদে কোনোভাবেই প্রাণ প্রতিষ্ঠিত হবে না।

সাহিত্যের পাঠক হিসেবে আমাকে প্রচুর বই পড়তে হয়। দেশি সাহিত্যের পাশাপাশি বিদেশি সাহিত্যও। সবসময় চেষ্টা করি বিদেশি সাহিত্যের বাংলা অনুবাদ পড়তে। ইংরেজি অনুবাদ যে পড়ি না, তা নয়। পড়ি। কিন্তু খুবই কম। বঙ্গানুবাদ পাওয়া না গেলে ইংরেজির শরণাপন্ন হই। বঙ্গানুবাদ পড়ার পেছনে একটাই কারণ: আমি সবসময় বাংলার সঙ্গে থাকতে চাই। নিজের শব্দভাণ্ডার বেশি করে সমৃদ্ধ করতে চাই। ইংরেজি বা ইংরেজি অনুবাদে কোনো বই পড়লে আমার বাংলা শব্দভাণ্ডার তো সমৃদ্ধ হবে না, হবে ইংরেজি শব্দভাণ্ডার। তাতে আমার কী লাভ? আমি তো বই পড়ি শুধু তথ্য আহরণের জন্য নয়, ভাষার জানার জন্যও পড়ি, শব্দ আর বাক্যের জন্যও পড়ি।

সাম্প্রতিক কালে বিদেশি সাহিত্যের বাংলা অনুবাদ অনেকেই করছেন। প্রতি বছর বইমেলায় বহু ভালো বইয়ের অনুবাদ প্রকাশিত হয়। আর সবার মতো সেগুলো আমিও সংগ্রহ করি। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই প্রতারণার শিকার হই। বেশিরভাগ অনুবাদকের না আছে সাহিত্যজ্ঞান, না আছে শব্দজ্ঞান। অনেকের বাক্যগঠনও ঠিকমতো হয় না। সাহিত্যকর্ম নয়, যেন তারা নোট-গাইড বইয়ের বঙ্গানুবাদ করেছেন। তবু বিকল্প পাওয়া যায় না বলে কোনো কোনো বই কষ্ট করে হলেও পড়ি, কোনো কোনো বই না পড়েই ফেলে রাখি, কিংবা কাগজঅলার কাছে কেজি দরে বিক্রি করে দেই। বাংলাদেশে একজন ‘অনুবাদক’ আছেন, যার সাতটি অনূদিত গ্রন্থ আমি না পড়েই ফেলে দিয়েছি।

অনুবাদ-সাহিত্যে একেবারেই ব্যতিক্রম জি এইচ হাবীব। তার অনুবাদকর্মের সঙ্গে আমার প্রথম পরিচয় সম্ভবত ২০০৪ সালে; গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেজের উপন্যাস ‘নিঃসঙ্গতার একশ বছর’র মধ্য দিয়ে। মহান ঔপন্যাসিক মার্কেসের সেরা এই সাহিত্যকর্মটির জি এইচ হাবীবকৃত বঙ্গানুবাদটি প্রথম প্রকাশিত হয় ২০০০ সালের অমর একুশে গ্রন্থমেলায়। দ্বিতীয় সংশোধিত সংস্করণ প্রকাশিত হয় ২০০১’র বইমেলায়। প্রথম কোন প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত হয়েছিল জানি না। ২০০৪ সালে বইটি সংগ্রহ করে পড়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু দুর্বোধ্য লেগেছে বলে ফেলে রেখেছি। প্রায় আট বছর ধরে বইটি আমার বইয়ের আলমিরায় অবহেলায় পড়ে থেকেছে, পড়ার সাহস পাইনি। একটা সময় বইটা আর খুঁজে পাই না। কোথায় গেল? অসংখ্য বইয়ের ভিড়ে পড়ে গেছে, অথবা কেউ নিয়ে গেছে। ২০১১ সালে সন্দেশ প্রকাশনী থেকে উপন্যাসটি আবার সংগ্রহ করে আবার পড়া ধরি। মাত্র চার কি পাঁচ দিনে পড়ে শেষ করি। বুঝতে পারি, ২০০৪ সালে পড়তে না পারাটা আমারই ব্যর্থতা, পাঠক হিসেবে আমি তখনো উপযুক্ত হয়ে উঠিনি তাই দুর্বোধ্য লেগেছে। উপন্যাসটি আমি এতটাই মুগ্ধতা নিয়ে পড়ি, মনে আছে, একবার বাথরুমেও নিয়ে যাই। ঐ সময়টুকুও আমার তর সইছিল না। উপন্যাসটি পড়ার সময় আমি গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেজকে সামনে উপস্থিত দেখতে পেয়েছি, একই সঙ্গে দেখতে পেয়েছি অনুবাদক জি এইচ হাবীবকেও। উপন্যাসের এত প্রাঞ্জল অনুবাদ সারা জীবনে আমার খুব কমই পড়া হয়েছে।

তারপর পড়ি ‘পরদেশী গল্প’ নামের একটি বই। বিশ্বখ্যাত গল্পকারদের ১২টি গল্পের অনুবাদ নিয়ে বইটি। ২০১২ সালের একুশে বইমেলায় ‘নান্দনিক প্রকাশনী’ থেকে এটি প্রকাশিত হয়। বইটি পড়ার মধ্য দিয়ে আবিষ্কার করতে সক্ষম হই, বিশ্বখ্যাত গল্পকার হোর্হে লুইস বোর্হেসকে। শ্রদ্ধেয় রাজু আলাউদ্দিন বোর্হেসকে নিয়ে বিস্তর কাজ করেছেন, বোহের্সের অনেক সাহিত্যকর্ম তিনি অনুবাদ করেছেন। সেসব দেখেছি, কিন্তু পড়ার সুযোগ হয়নি। ‘পরদেশী গল্প’ বইটিতে জি এইচ হাবীবের অনুবাদে ‘আলিফ’ গল্পটি পড়ে বোর্হেসকে নতুন করে আবিষ্কার করি। তাঁর লেখাজোখার প্রতি আমার আগ্রহ জন্মে এবং তার নানা বইপুস্তক সংগ্রহ করে পড়তে শুরু করি। ‘পরদেশী গল্প’ বইয়ের ‘আলিফ’ গল্পটি না পড়লে বোর্হেসের লেখাজোখার সঙ্গে আমার পরিচয় ঘটতে হয়ত আরো সময় লাগত। আগে পরিচয় ঘটার মাধ্যম হিসেবে কাজ করেছে ‘পরদেশী গল্প’। এ জন্য জি এইচ হাবীবের কাছে পাঠক হিসেবে আমি কৃতজ্ঞ।

জি এইচ হাবীবের আরেকটি অসাধারণ অনুবাদকর্ম নরওয়েজীয় লেখক ইয়স্তাইন গোর্ডারের বিশ্ববিখ্যাত বই ‘সোফিজ ভারডেন’, মোলারকৃত যার ইংরেজি অনুবাদ ‘সোফিজ ওয়ার্ল্ড’। জি এইচ হাবীব ইংরেজি থেকে এটি অনুবাদ করে নাম দিয়েছেন ‘সোফির জগৎ’। সাম্প্রতিকালে যেসব অনূদিত গ্রন্থ পড়েছি তার মধ্যে এটি সেরা। উপন্যাসের আঙ্গিকে পাশ্চাত্য দর্শনের যে ইতিহাস তুলে ধরেছেন গোর্ডার, জি এইচ হাবীব এর বঙ্গানুবাদ না করলে আমার মতো অনেকেই এ বই সম্পর্কে হয়ত অজানাই থেকে যেতেন। এ ছাড়াও জি এইচ হাবীব অনুবাদ করেছেন আইজাক আসিমভের ‘ফাউন্ডেশন’,  আমোস তুতুওয়ালার ‘তাড়িখোর’ এবং রঁলা বার্তের ‘রচয়িতার মৃত্যু’। শেষোক্ত প্রথম দুটি বই আমার সংগ্রহ রয়েছে, তবে এখনো পড়ে উঠতে পারিনি। শেষের বইটি সংগ্রহের চেষ্টা করেও কোথাও পাইনি। আশা করি এ তিনটি বই অল্পদিনের মধ্যে পড়ে উঠতে পারব।

জি এইচ হাবীবের প্রতিটি অনুবাদকর্মে আমি প্রাণ দেখতে পাই, স্বতঃস্ফূর্ততা দেখতে পাই। তিনি যে প্রতিটি শব্দের পেছনে গবেষণা করেন, প্রতিটি বাক্যের পেছনে পরিশ্রম করেন, তা বেশ ভালো করেই টের পাই। বোঝা যায় সাহিত্যের প্রতি তাঁর নিবেদন কতখানি। তিনি যদি সাহিত্যিক না হতেন, তৎকৃত অনুবাদকর্মে এতটা প্রাণ প্রতিষ্ঠা করতে পারতেন না। নীরবে-নিভৃতে তিনি কাজ করে যাচ্ছেন। নিজেকে সবসময় আড়াল করে রাখতে ভালোবাসেন। তিনি নেই কোনো গ্রুপিংয়ে, লবিংয়ে, সাহিত্য-রাজনীতিতে। আমরা তাঁকে দেখতে পাই না। দেখতে পাই তাঁর কর্ম। তাঁর অনূদিত উল্লিখিত বইগুলো পড়েছি, তাঁর প্রশংসায় নানা জায়গায় পঞ্চমুখ হয়েছি, অথচ তাঁর সঙ্গে কোনোদিন দেখা হয়নি, কথা হয়নি।

তিন.

আবার আসি শুরুর প্রসঙ্গে। অর্থাৎ সাহিত্য পুরস্কার প্রসঙ্গে। অনেক সাহিত্যিক শুধু একটি বই লিখে একাধিক পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। এটিকে আমি খারাপ বলছি না। বইয়ের মতো বই হলে একটিই যথেষ্ট। একটি বই লিখেই তিনি সরকারি-বেসরকারি নানা পুরস্কারে ভূষিত হতেই পারেন। শ্রদ্ধাভাজন কবি হেলাল হাফিজ তো সরাজীবনে একটি বই-ই লিখেছেন। তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। হয়ত কয়েক বছরের মধ্যেই একুশে পদকে ভূষিত হবেন। খুব বেশি লিখতে হয়নি তাঁকে, অল্প লিখেই তিনি পাঠক-হৃদয়ে স্থান করে নিতে পেরেছেন। জীবনভর শত শত বই লেখার চেয়ে একটা ভালো লিখলেই যথেষ্ঠ। সুতরাং তাঁর মতো যে কেউ মাত্র একটি বই লিখে পুরস্কার পেতেই পারেন।

তাহলে কেন একজন শক্তিমান অনুবাদক হিসেবে জি এইচ হাবীব পুরস্কৃত হবেন না? বাংলাদেশে তো সরকারি-বেসরকারি বিস্তর পুরস্কার চালু আছে। কই, আমার জানা মতে, এ পর্যন্ত তো তাঁকে একটি পুরস্কারেও ভূষিত করা হলো না! কেন? শুধু ‘নিঃসঙ্গতার একশ বছর’র জন্য তিনি একাধিক পুরস্কার পেতে পারেন। শুধু ‘সোফির জগৎ’ অনুবাদের জন্য তিনি একাধিক পুরস্কার পেতে পারেন। শুধু এ দুটি অনুবাদকর্মের জন্য যদি তাঁকে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পুরস্কার একুশে পদকে ভূষিত করা হয়, আমি অকুণ্ঠচিত্তে সংশ্লিষ্ট কর্তাব্যক্তিদের ধন্যবাদ জানাব।

পুরস্কারদাতা প্রতিষ্ঠানের কর্তাব্যক্তিদের প্রতি অনুরোধ থাকল, সাহিত্যকর্মের জন্য আপনারা যদি পুরস্কার দিতেই চান, তাহলে সঠিক ব্যক্তিকেই পুরস্কৃত করুন। সঠিক সাহিত্যকর্ম মূল্যায়ন না করলে সাহিত্যিকের কোনো ক্ষতি হবে না। আগেই বলেছি, সাহিত্যিক পুরস্কারের জন্য সাহিত্য করেন না। কিন্তু বঞ্চিত হবে পাঠক। একজন সাহিত্যিককে যখন পুরস্কৃত করা হয়, তাঁর বইগুলো তখন ব্যাপক প্রচারণা লাভ করে। এই প্রচারণার কল্যাণে ভালো বইটির কথা পাঠক জানতে পারে।

আশা করি অচিরেই জি এইচ হাবীব তাঁর কাজের জন্য পুরস্কৃত হবেন, মূল্যায়িত হবেন। তাঁর জন্য নিরন্তর শুভকামনা। অনুবাদ-সাহিত্যের মধ্য দিয়ে তিনি আমাদের আরো বেশি সমৃদ্ধ করবেন―এই কামনা।

২৫.০১.২০১৭

 

 

রাইজিংবিডি/ঢাকা/২৬ জানুয়ারি ২০১৭/তারা

Walton Laptop