ঢাকা, বুধবার, ৮ ভাদ্র ১৪২৪, ২৩ আগস্ট ২০১৭
Risingbd
শোকাবহ অগাস্ট
সর্বশেষ:

লালমনিরহাটে দেড় লাখ মানুষ পানিবন্দি

মোয়াজ্জেম হোসেন : রাইজিংবিডি ডট কম
প্রকাশ: ২০১৭-০৮-১২ ১২:১৪:০৬ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৭-০৮-১২ ৩:৩২:৩৫ পিএম

লালমনিরহাট প্রতিনিধি : লালমনিরহাটের ৫টি উপজেলায় ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে। পানিবন্দী হয়ে পড়েছে অন্তত দেড় লাখ মানুষ।ভেসে গেছে শত শত পুকুরের মাছ।

চারদিনের  টানা বৃষ্টি ও ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানিতে লালমনিরহাটের অধিকাংশ এলাকাই জলমগ্ন হয়ে পড়েছে।বিপৎসীমার ২৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে তিস্তা নদীর পানি । অপরদিকে ধরলা নদীর পানি বিপৎসীমার ৩২ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

বন্যার পানি ঢুকে  তিস্তা ও ধরলা পাড়ের ইউনিয়নগুলোর অধিকাংশ এলাকার জনজীবন বিপর্যস্ত । গরু, ছাগল, হাঁস-মুরগি এসব গৃহপালিত প্রাণিদের নিয়ে বিপাকে পড়েছেন লোকজন। শুকনা খাবার ও বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে এসব এলাকায় ।

এছাড়া ভারতের চ্যাংরাবান্ধা স্থলবন্দর এলাকা দিয়ে ধেয়ে আসা ধরলার পানি বুড়িমারী স্থলবন্দর এলাকায় ঢুকে পড়েছে। ফলে বুড়িমারী স্থলবন্দর এবং বুড়িমারী ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকা তলিয়ে গেছে বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন।

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় অবস্থিত তিস্তা নদীর উপর থাকা তিস্তা ব্যারাজের উজানে ডালিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার ২৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে পানিপ্রবাহ পরিমাপ করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী (পানি পরিমাপক) প্রকৌশলী আমিনুর রশীদ। পানি আরো বাড়তে পারে বলে তিনি জানিয়েছেন।  

এদিকে তিস্তা ব্যারাজ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ সব গেট (জল কপাট) খুলে দিয়েছেন বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন। তবে তিস্তার পানির গতিপ্রবাহ জানতে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ভারতের সাথে যোগাযোগ করা হচ্ছে বলেও জানান আমিনুর রশীদ । 

চারদিনের টানা বৃষ্টিপাতের কারণে এবং তিস্তা, ধরলা, সানিয়াজানসহ সকল নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার কারণে লালমনিরহাটের দুইটি পৌরসভা ও ৪৫টি ইউনিয়নের অর্ধশতাধিক এলাকার অন্তত দেড় লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। ফলে এসব এলাকায় লোকজনের স্বাভাবিক জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। সবচেয়ে বেশি কষ্টে পড়েছেন শিশুরা। জেলার অধিকাংশ এলাকাতেই পুকুরের মাছ বানের পানিতে ভেসে গেছে।

 


লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বন্যার পানিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে পাটগ্রামের তিস্তা বেষ্টিত দহগ্রাম, ধরলা বেষ্টিত বুড়িমারী, শ্রীরামপুর, পাটগ্রাম, পাটগ্রাম পৌরসভা, জোংড়া ইউনিয়ন, সানিয়াজান নদী বেষ্টিত বাউরা ইউনিয়ন, হাতীবান্ধার তিস্তা নদী বেষ্টিত সানিয়াজান, গড্ডিমারী, ডাউয়াবাড়ী, সিঙ্গিমারী, পাটিকাপাড়া, সিন্দুর্না, টংভাঙ্গা, বড়খাতা, কালীগঞ্জের তিস্তা বেষ্টিত কাকিনা, তুষভান্ডার, ভোটমারী, আদিতমারীর তিস্তা বেষ্টিত মহিষখোচা, তিস্তা বেষ্ঠিত লালমনিরহাট সদর উপজেলার গোকুন্ডা, রাজপুর, খুনিয়াগাছ ইউনিয়ন এবং ধরলা নদী বেষ্টিত লালমনিরহাট সদর উপজেলার মোগলহাট, কুলাঘাট, বড়বাড়ী ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকা পানির নিচে তলিয়ে গেছে।

লালমনিরহাটের কুলাঘাট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ইদ্রিস আলী বলেন, ‘ধরলার পানি মাত্রাতিরিক্তভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় ৬টি ওয়ার্ড বন্যার পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এসব এলাকার লোকজন পানিবন্দী অবস্থায় রয়েছে। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে।’

হাতীবান্ধার সিঙ্গিমারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনোয়ার হোসেন বলেন, ‘তিস্তাসহ অতিবৃষ্টির কারণে ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে। চারদিকে পানি আর পানি। লোকজন ও পশু প্রাণি মারাত্মক কষ্টে পড়েছে। বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্য মোতাহার হোসেন এমপি ও উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে। ’

এদিকে, বুড়িমারী স্থলবন্দরের সিএন্ডএফ এজেন্ট ব্যবসায়ী আবু সাঈদ জানান, ধরলা এবং সানিয়াজান নদীর পানি বুড়িমারী ঢুকে পড়ায় স্থলবন্দর তলিয়ে গেছে। কোথাও হাঁটু পানি আবার কোথাও কোমর পানি।

সদ্য যোগদানকারী লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক সফিউল আরিফ বলেন, ‘ সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং ইউনিয়ন পরিষদের জনপ্রতিনিধিদের বন্যা কবলিত এলাকায় পাঠানো হয়েছে। ত্রাণ বিতরণের প্রস্তুতি চলছে।’

 

 

রাইজিংবিডি/লালমনিরহাট/১২ আগস্ট ২০১৭/মোয়াজ্জেম হোসেন/টিপু

Walton Laptop