ঢাকা, মঙ্গলবার, ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ২০ নভেম্বর ২০১৮
Risingbd
সর্বশেষ:

৩০ লাখ টাকার জন্য হত্যা করা হয় শিশু মামুনকে

গাজী হানিফ মাহমুদ : রাইজিংবিডি ডট কম
 
     
প্রকাশ: ২০১৮-০৭-১১ ৮:১৪:৪৮ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৮-০৭-১২ ১০:৪৮:২২ এএম

নরসিংদী সংবাদদাতা : নরসিংদীর রায়পুরায় সাত বছরের শিশু মামুন হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। এছাড়া হত্যার মূল আসামি ও ভাড়াটে খুনি নাসিরকে (২২) গ্রেপ্তারকরা হয়েছে। বুধবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে নরসিংদীর পুলিশ সুপার সাইফুল্লাহ আল মামুন এ তথ্য জানান।

নাসির রায়পুরা উপজেলার রাজনগর এলাকার জহির ইসলামের ছেলে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নাসির হত্যার দায় স্বীকার করাসহ ঘটনার বিবরণ দিয়েছে।

পুলিশ সুপার বলেন, গত ২০ জুন উপজেলার হাসিমপুর গ্রামের প্রবাস ফেরত সুজন মিয়ার ৭ বছরের ছেলে মামুন খেলতে গিয়ে নিখোঁজ হয়। তিনদিন পর দুপুরে প্রতিবেশী জয়নাল মাস্টারের তিনতলা বাড়ির ছাদ থেকে শিশুটির অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় মামুনের বাবা সুজন মিয়া বাদী হয়ে রায়পুরা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে মামলাটির তদন্তভার জেলা গোয়েন্দা পুলিশকে (ডিবি) দেওয়া হয়। এ ঘটনায় প্রথমে হত্যার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে জয়নাল মাস্টারকে আটক করা হয়। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় হত্যাকান্ডের মূল আসামি নাসিরকে গ্রেপ্তার করা হয়।

নাসির জানায়, পরিকল্পনা অনুযায়ী ৩০ লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায়ের জন্য শিশু মামুনকে অপহরণ করা হয়। তাকে দুদিন অভুক্ত রাখার পর হত্যা করা হয়।

পুলিশ সুপার জানান, অভিযুক্ত জয়নাল মাস্টার হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী। সে মূলত কোনও এজেন্সির হয়ে বিদেশে লোক পাঠানোর কাজ করে। নিহত মামুনের বাবা সুজন মিয়াকে সৌদি আরবে জয়নাল মাস্টারই পাঠিয়েছিল। এমনকি সুজন মিয়া বিদেশ থেকে সব টাকা -পয়সা জয়নাল মাস্টারের কাছেই পাঠাতেন। সুজন মিয়া দেশে ফিরে সব টাকা ব্যাংকে ডিপোজিট করে রাখেন। সেই টাকার লোভেই নিজের ছেলে ও ভাগিনাকে দিয়ে ১০ হাজার টাকার বিনিময়ে নাসিরকে ভাড়া করে শিশু মামুনকে অপহরণ করায় সে। পরে বিভিন্ন সময় ফোনে খোঁজ-খবর নেন জয়নাল মাস্টার। অর্থাৎ কেউ ফোন করেছে কিনা, ফোন বন্ধ কেন? এসব তথ্য সুজন মিয়ার কাছ থেকে নিয়েছে। মুক্তিপণের টাকা না পেয়ে জয়নাল মাস্টার সন্দেহ থেকে বাঁচতে পরিকল্পনামাফিক শিশু মামুনকে হত্যা করে লাশ নিজের বাড়ির ছাদে এনে ফেলে রাখেন।

 

 

 

 

রাইজিংবিডি/নরসিংদী/১১ জুলাই ২০১৮/গাজী হানিফ মাহমুদ/শাহেদ

Walton Laptop
 
     
Marcel
Walton AC