ঢাকা, বুধবার, ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৪, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৭
Risingbd
সর্বশেষ:

জনগণকে রাজপথে অবস্থানের প্রস্তুতি নিতে বললেন খালেদা

রেজা পারভেজ : রাইজিংবিডি ডট কম
 
   
প্রকাশ: ২০১৭-০৬-১৮ ৯:৫৭:১৬ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৭-০৬-১৯ ৯:৪২:৩১ এএম

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক : ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধে লুটপাটের অভিযোগ এনে এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে ঈদের পর রাজপথে অবস্থান নেওয়ার প্রস্তুতি নিতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন খালেদা জিয়া।

রোববার রাজধানীর গুলশানে ইমানুয়েলস কনভেনশন সেন্টারে জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর) আয়োজিত ইফতার মাহফিলে তিনি এ আহ্বান জানান।

বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, ‘আওয়ামী লীগের কোনো নীতি নেই, আর্দশ নেই। এরা শুধু লুটপাট করতে জানে। আমরা দেশের মানুষকে বলতে চাই, এই আওয়ামী লীগ থেকে সাবধান হোন, এ দেশেকে বাঁচান। সকলে এক হোন, ঐক্যবদ্ধ হোন। প্রয়োজনে রাজপথে অবস্থান নিতে হবে নিজেদের। রাজপথে অবস্থান নেওয়ার সময় আসবে ঈদের পর।’

রাঙ্গুনিয়াতে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের গাড়িবহরের ওপর হামলার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে এর সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন বিএনপি চেয়ারপারসন।

সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমি জানতে চাই, মহাসচিবের ওপর এই হামলা হলো, তারপরে কতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে? অবিলম্বে তাদের গ্রেপ্তার করতে হবে এবং শাস্তি দিতে হবে।’

খালেদা জিয়া বলেন, ‘আজকের এই হামলার ঘটনায় প্রমাণ হলো- দেশে যত সন্ত্রাস, যত বিশৃঙ্খলা, যত অরাজকতা, সব আওয়ামী লীগ করেছে। পার্বত্য চট্টগ্রামে ঘটনায় আওয়ামী লীগ তাদের দায়িত্ব পালন করেনি। সেখানে যেই মাত্র বিএনপি গেছে, সেজন্য আওয়ামী লীগ বিএনপির নেতাদের ওপরে আক্রমণ করেছে, তা আপনারা দেখেছেন।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা খেতে পারি না, দেশের মানুষ খেতে পারবে না, শুধু ট্যাক্স দিতে হবে, ভ্যাট দিতে হবে, অমুক দিতে হবে, আওয়ামী লীগের মার খেতে হবে, মিথ্যা মামলা দিয়ে জেলখানায় বন্দি থাকতে হবে। নাহলে এই গুম-খুনের শিকার হতে হবে। এগুলো মানুষ চায় না।’

‘জনগণকে বলব, এ থেকে নিজেরা বাঁচতে চান, নিজেদের পরিবারের স্বজনদের বাঁচাতে চান এবং দেশটাকে বাঁচাতে চান? তাহলে আসুন আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে সব দলকে এবং জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে একসঙ্গে সকলে মিলে আমরা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি দিয়ে আমরা এদেরকে ক্ষমতা থেকে বিদায় করে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন করব,’ বলেন খালেদা জিয়া।

নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে বিএনপি অংশ নেবে, জানিয়ে বিএনপি নেত্রী বলেন, ‘আমি দেশবাসী ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে বলতে চাই, হাসিনাকে ক্ষমতায় রেখে, আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় রেখে নির্বাচন দিলে সেই নির্বাচনে কেউ অংশগ্রহণ করবে না। সেই নির্বাচন দেশ হতে দেওয়া হবে না। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডে নির্বাচন হতে হবে। তাহলে আওয়ামী লীগের সমর্থন কতটুকু, তাদের পায়ের নিচে কতটুকু মাটি আছে বুঝতে পারবে।’

জাতীয় পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান টি আই এম ফজলে রাব্বি চৌধুরী, মহাসচিব মোস্তফা জামাল হায়দারসহ জোট নেতাদের নিয়ে ইফতার করেন খালেদা জিয়া।

ইফতারে ২০ দলীয় জোট নেতাদের মধ্যে ছিলেন- জামায়াতে ইসলামীর আবদুল হালিম, ইসলামী ঐক্যজোটের অ্যাডভোকেট এম এ রকীব, এলডিপির রেদোয়ান আহমেদ, জাগপার অধ্যাপিকা রেহানা প্রধান, এনডিপির খোন্দকার গোলাম মোর্ত্তজা, লেবার পার্টির মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, এনপিপির ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, পিপলস লীগের গরিব নেওয়াজ, ন্যাপ ভাসানীর আজহারুল ইসলাম, মুসলিম লীগের শেখ জুলফিকার বুলবুল চৌধুরী, সাম্যবাদী দলের সাঈদ আহমেদ, ন্যাপের গোলাম মোস্তফা ভুঁইয়া, ডিএলের সাইফুদ্দিন মনি, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মাওলানা শেখ মজিবুর রহমান, খেলাফতে ইসলামী মাওলানা আহমেদ আলী কাশেমী, বিজেপির আবদুল মতিন সউদ, কল্যাণ পার্টির শাহিদুর রহমান তামান্না প্রমুখ।

জাতীয় পার্টির নেতাদের মধ্যে প্রেসিডিয়াম সদস্য এস এম এম আলম, আহসান হাবিব লিংকন, নবাব আলী আব্বাস খান, আনোয়ারা বেগম, মাওলানা রুহুল আমিন, জাফরুল্লাহ খান চৌধুরী, সেলিম মাস্টার, শফিউদ্দিন ভুঁইয়া, প্রয়াত নেতা কাজী জাফর আহমেদের বড় মেয়ে কাজী জয়া, কেন্দ্রীয় নেতা কাজী মো. ইকবাল, মো. শরিফউদ্দিন, এ এস এম শামীম, কাজী ফয়েজ, সোলায়মান শামীম ইফতারে অংশ নেন।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ আজম খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আবদুস সালাম, হাবিবুর রহমান হাবিব, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, কেন্দ্রীয় নেতা হাসান উদ্দিন সরকার, ফরিদা মনি শহিদুল্লাহ প্রমুখ ইফতারে অংশ নেন।   

 

 

রাইজিংবিডি/ঢাকা/১৮ জুন ২০১৭/রেজা/রফিক

Walton