ঢাকা, শুক্রবার, ৬ আশ্বিন ১৪২৫, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮
Risingbd
সর্বশেষ:

খালেদার জামিন স্থগিতের প্রক্রিয়া যুক্তিসঙ্গত হয়নি: বিএনপি

রেজা পারভেজ : রাইজিংবিডি ডট কম
 
     
প্রকাশ: ২০১৮-০৩-১৪ ৩:১৩:০১ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৮-০৩-১৪ ৬:৪০:৪৯ পিএম

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক : জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়ার জামিন আপিল বিভাগে স্থগিত হওয়ায় বিএনপি অভিযোগ করেছে যে, বিষয়টিতে সরকারের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটেছে।

যে প্রক্রিয়ায় বিএনপি নেত্রীর জামিন স্থগিত করা হয়েছে, সেটি ‘যুক্তিসঙ্গত’ হয়নি দাবি করে দলটির নেতারা বলছেন, এর মাধ্যমে উচ্চ আদালতের ঐতিহ্য ও ভাবমুর্তি ক্ষুন্ন হলো।

বুধবার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জামিন স্থগিতের প্রতিক্রিয়ায় সংবাদ সম্মেলনে দলটির পক্ষ থেকে এই প্রতিক্রিয়া আসে।

জামিন স্থগিতের বিষয়ে দলের প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে খালেদা জিয়ার আইনজীবী ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, ‘হাইকোর্টের রায় আপিল বিভাগ স্থগিত করে আমাদের বিস্মিত করেছে। দেশের উচ্চতর আদালত যেটি করেছেন, সেটি আমরা কখনো প্রত্যাশা করি নি।

মামলার শুনানির সময়ে দুদকের আইনজীবী তার বক্তব্য উপস্থাপন করার পর খালেদা জিয়ার কোনো আইনজীবীর বক্তব্য না শুনে তার জামিন আপিল বিভাগ রোববার পর্যন্ত স্থগিত করেছেন। এতো তাড়াহুড়ো করে সকল পক্ষকে না শুনে এই ধরনের রায় প্রত্যাশা করি নি।’

প্রবীন এই আইনজীবী বলেন, ‘দুই পক্ষের কথা শুনে দেশের উচ্চ আদালত যে কোনো আদেশই দিতে পারেন। কিন্তু এক পক্ষের বক্তব্য শুনে এই ধরনের আদেশ দেওয়া মোটেও যুক্তিসঙ্গত নয়। এতে দেশের উচ্চ আদালতের ঐতিহ্য ও ভাবমুর্তি ক্ষুন্ন হয়েছে বলে আমরা মনে করি।’

‘আদালত বিচারপ্রার্থী জনগণের প্রতিপক্ষ হতে পারেন না। দেশে সুবিচার নিশ্চিত করার দায়িত্ব সুপ্রিম কোর্টের। আজকে আমরা এই রায়ে ক্ষুদ্ধ, দু:খিত ও আশাহত হয়েছি,’ বলেন মওদুদ নিম্ন আদালত সম্পূর্ণভাবে সরকারের নিয়ন্ত্রনে পরিচালিত হচ্ছে অভিযোগ করে বিএনপির এই নীতি নির্ধারক বলেন, আইনিভাবেই তারা (সরকার) সেটি করে নিয়েছে। সার্বিক বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা যেটা প্রধান বিচারপতির ওপর ছিলো, সেটি এখন আইন মন্ত্রনালয়ের হাতে চলে গেছে। যারা নিম্ন আদালতে কাজ করে তারা সরকারের লোক। এজন্য একটা নথি আসতে ২ ঘন্টা সময় লাগার কথা থাকলেও সেটি আসছে ১৫ দিনে। নিম্ন আদালতের যারা কাজ করে তারা সরকারের কথায় সব কাজ করে।’

তিনি বলেন, ‘উচ্চ আদালত বলেছে, শ্যোন এরেস্ট দেখানো সম্পূর্ন বেআইনি। এরপরও নিম্ন আদালত তা করছে। কারণ এদের জবাবদিহিতা নির্বাহী বিভাগের কাছে।’

আদালতের সিদ্ধান্তে সরকারের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটেছে অভিযোগ করে সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘যিনি কারান্তরীণ থাকেন ওকালত নামায় সই করা তার অধিকার। সবচেয়ে বিস্ময়ের ব্যাপার হচ্ছে, ওকালত নামায় সই করা থেকে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। এর ফলে তার মামলার আইনি প্রক্রিয়া ব্যাহত হচ্ছে।’

এই ঘটনায় বিস্ময় ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিএনপির মহাসচিব।

খালেদা জিয়াকে ও বিএনপিকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখতে ‘কলাকৌশল ও ষড়যন্ত্র করে’ তার জামিন বিলম্বিত করা হচ্ছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের বছরে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে এটি করা হচ্ছে। এর লক্ষ্য হচ্ছে আমাদের নির্বাচন থেকে দূরে রাখা। সেজন্য ষড়যন্ত্র ও চক্রান্ত করে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ৩৬টি মামলা করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘সরকারের মূল অস্ত্র এখন মামলা। প্রায় ৭৮ হাজার মামলা বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। এমন কোনো জেলা-উপজেলা নেই, যেখানে নেতাকর্মীদের নামে মামলা হয়নি। ছক তৈরি করা হয়েছে। এই ছকেই বিএনপির  নেতাকর্মীদের কারান্তরীণ করা হচ্ছে।’

এ সময় মির্জা ফখরুল অভিযোগ করেন, ছাত্রদল নেতা জাকির হোসেনের মৃত্যু হয়েছে পুলিশের ফেতাজতে। এর তীব্র নিন্দা জানিয়ে এই ঘটনার তদন্ত করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।

কাঠমান্ডুতে বিমান দুর্ঘটনায় নিহতদের প্রতি গভীর শোক প্রকাশ করেন বিএনপির মহাসচিব। তিনি নিহতদের আত্মার মাগফেরাত ও আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি নেতাদের মধ্যে মির্জা আব্বাস, ড. আবদুল মঈন খান, খন্দকার মাহবুব হোসেন, অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন, আবদুস সালাম, আতাউর রহমান ঢালী, রুহুল কবির রিজভী, ফজলুল হক মিলন উপস্থিত ছিলেন।

 

 

রাইজিংবিডি/ঢাকা/১৪ মার্চ ২০১৮/রেজা/শাহনেওয়াজ

Walton Laptop
 
     
Walton