ঢাকা, রবিবার, ৭ ফাল্গুন ১৪২৩, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৭
Risingbd
অমর একুশে
সর্বশেষ:

নার্সারির গ্রাম

বিএম ফারুক : রাইজিংবিডি ডট কম
 
   
প্রকাশ: ২০১৭-০২-০৪ ৩:১৪:৩১ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৭-০২-০৪ ৩:১৪:৩১ পিএম
বাসুদেবপুরে বাড়ির পাশে গড়ে তোলা একটি নার্সারি

নিজস্ব প্রতিবেদক, যশোর : যশোরের মনিরামপুরের বাসুদেবপুর গ্রামটি নার্সারির গ্রাম হিসাবে পরিচিতি পেয়েছে। এই গ্রামের মানুষ পতিত জমি, ঘরের পেছনে এক চিলতে জায়গা কিংবা মাঠে সবখানেই আম, জাম, কাঁঠাল, লিচু, হরিতকি, আমলকিসহ বিভিন্ন ফলদ ও ওষুধি চারা উৎপাদন করে সংসারের অভাব ঘুচিয়েছেন।

আর এ কাজে জড়িয়ে পড়েছে গ্রামের কৃষকদের পাশাপাশি স্কুল-কলেজ পড়–য়া শিক্ষার্থীরাও। বাদ নেই নারীরাও। গৃহস্থলির কাজের ফাঁকে নার্সারি পরিচর্যা করেন তারাও।

শহর থেকে মাত্র ১৪ কিলোমিটার দূরে মৃত হরিহর নদীর পাড়ের গ্রাম বাসুদেবপুর। গ্রামে ঢুকতেই রাস্তার দুই পাশে তাকালে চোখে পড়বে অসংখ্য নার্সারি বাগান। এই বাগানে কেউ পানি দিচ্ছেন। কেউ আগাছা নিড়াচ্ছেন। আগামী বর্ষা মৌসুমে বিভিন্ন ফলদ ও ঔষধি গাছ বিক্রি করতে তারা এই পরিচর্যায় ব্যস্ত।

নার্সারি খেতে কাজ করছিলেন এই গ্রামের রোকেয়া নার্সারির মালিক গাজী মিজানুর রহমান। তিনি জানালেন, তাদের গ্রামজুড়েই নার্সারি। এখানে আম, জাম, কাঁঠাল, লিচু, হরিতকি, আমলকি, জাম, বেল, লেবু, সফেদা মেহগনি, রেইন্ট্রিসহ বিভিন্ন গাছের উৎপাদন করা হয়। পরে গ্রামের বাজারে নিয়ে এই চারা রাখা হয়। বিভিন্ন এলাকার ব্যবসায়ীরা এখান থেকে ট্রাক ও পিকআপে করে পাইকারি চারা কিনে খুচরা বিক্রি করেন।

মিজানুর রহমান জানান, এক সময়ের অভাব পীড়িত গ্রামটি নার্সারির কারণে এখন অভাবমুক্ত।

নার্সারিতে কাজ করা উপজেলার পলাশী কলেজের উচ্চ মাধ্যমিকের ছাত্র মাহফুজুর রহমান জানান, পড়াশোনের মধ্যেই নার্সারিতে চারা উৎপাদন ও দেখভাল করেন। তার মতো অনেক শিক্ষার্থী এ কাজ করছেন।

এ গ্রামের গৃহবধূ আকলিমা, নাজনীন নাহারসহ অনেকেই জানালেন, সারা বছরের তাদের সারা বছরের ভরণ-পোষণের টাকা নার্সারি থেকেই আসছে। নার্সারি করেই তারা আজ স্বাবলম্বী। তাই বাড়ির কাজের ফাঁকে তারা পুরুষদের নার্সারির কাজে সহায়তা করেন।

বাসুদেবপুর বাজারে মায়ের দোয়া নার্সারির বিক্রয় কেন্দ্রে কথা হয় প্রতিষ্ঠানটির সত্ত্ব¡াধিকারী বাবুল হোসেনের সঙ্গে। তিনি জানান, প্রায় ২০ বছর ধরে এই গ্রামের মানুষ নার্সারি ব্যবসায় নিজেদের সম্পৃক্ত করে রেখেছেন। এতে তাদের ভাগ্যের চাকা ঘুরেছে।

তিনি বলেন, আষাঢ়, শ্রাবণ, ভাদ্র মাসে চারা গাছের অধিক চাহিদা থাকে। এই তিন মাসে এই গ্রাম থেকে অন্তত দুই কোটি টাকার চারা বিভিন্ন উপজেলা ও জেলা শহরে যায়।

নার্সারি ব্যবসায়ীরা জানান, এখানে লিচু, সফেদা, কামরাঙাসহ বিভিন্ন ফলের চারা আকার ভেদে ৩০ টাকা থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়। আর গোলাপ, জবা, জুঁই, চামেলি, হাসনাহেনাসহ বিভিন্ন ফুলের চারাও প্রায় একই দামে বিক্রি হয়। তবে চারা উৎপাদনে প্রশিক্ষণ কিংবা বাজারজাতকরণে সরকারিভাবে তারা কোন সুবিধা পাননি।

 

 

রাইজিংবিডি/ যশোর/৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৭/বিএম ফারুক/টিপু